kalerkantho


বাংলা এখন সর্বনাশের নজির দেখায়

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনীসভায় মোদি

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এক নির্বাচনী জনসভায় বলেছেন, বাংলা আগে যা দেখাত, সারা ভারত তা পরে দেখাত। কিন্তু এখন ভারতের অন্য রাজ্যের সামনে বাংলা সর্বনাশের নজির দেখাচ্ছে।

গত পাঁচ বছরে এই সর্বনাশ করে চলেছে তৃণমূল।

গতকাল রবিবার বিকেলে পশ্চিম মেদেনীপুরের শিল্পতালুক বলে পরিচিত খড়গপুরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নির্বাচনী প্রচারে প্রধান বক্তা ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের বাংলায় শুভেচ্ছা জানিয়ে হিন্দিতে দীর্ঘ বত্তৃদ্ধতা দেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে কংগ্রস ও বামফ্রন্ট ক্ষমতার লোভেই জোট করেছে। তাঁর বক্তব্যের শেষ দিকে মাগরিবের আজান শুরু হলে তিনি ভাষণ দেওয়া স্থগিত করেন। আজান শেষ হলে তিনি বলেন, কারো পুজো-প্রাথর্নার সময় নীরবতা পালন করতে হয়; যেন তাদের প্রার্থনায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

মোদি বলেন, মা-মাটি-মানুষের কথা যাঁরা বলেছেন, তাঁরা বাংলার মানুষের মন ভেঙে দিয়েছেন। পাঁচ বছরে বাংলার মানুষের মোহ ভঙ্গ হয়েছে। ৩৪ বছরের সর্বনাশ পাঁচ বছরেই হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

রাজ্যবাসীর কাছে ভোট চেয়ে মোদি বলেন, ‘আমাকে সুযোগ দিন, ভারতের জনতা পার্টিকে একবার সুযোগ দিন। রাজ্যে এত দিন যা ধ্বংস হয়েছে আমি সেটা পুরোপুরি গড়ে দেব। আমি নিরাশা ও ক্লান্ত হওয়ার দলে নেই। আমি আশাবাদী মানুষ। সুযোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব সেটা দেখিয়ে দেব। আপনারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য সব ভুলে যান। বিজেপিকে ভোট দিয়ে সরকার গড়ার সুযোগ দিন। ’

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোট প্রসঙ্গে মোদি বলেন, সরস্বতীর আশীর্বাদ ভারতের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। কেরালায় সিপিএম ও কংগ্রেস পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছে আর পশ্চিমবঙ্গে দুই দল জোট করে নির্বাচন করছে। বাংলার মানুষের অপমান করছে ওই দুই রাজনৈতিক দল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে মোদি বলেন, ‘দিদি দলীয় মিটিং ডেকে বলেন কংগ্রেস রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বামফ্রন্টও ক্ষতিকারক নয়। বাংলায় ক্ষতিকারক একমাত্র বিজেপি। তৃণমূল, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস মিলেই বিজেপির বিরুদ্ধে এই নির্বাচনে লড়ছে ওরা, এটাই ওদের রাজনৈতিক কৌশল। ’

পশ্চিমবঙ্গে এই সরকারের আমলে নতুন প্রজন্মের জন্য কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মোদি খোঁচা দেন। বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছে। ’


মন্তব্য