kalerkantho


মহাসাগরের ‘প্রাণ’ রক্ষায় বৈঠক জাতিসংঘের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মহাসাগরের ‘প্রাণ’ রক্ষায় বৈঠক জাতিসংঘের

আলোচনার টেবিলে বসার বন্দোবস্ত করতেই সময় লেগেছে এক দশক। ঐকমত্যে পৌঁছাতে লেগে যাবে হয়তো আরেক দশক সময়। তবু শেষ পর্যন্ত গভীর সমুদ্রের প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জাতিসংঘের আলোচনা আজ সোমবার শুরু হচ্ছে। নিউ ইয়র্কে বিশ্ব সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত এ আলোচনায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অর্ধেকই উত্পন্ন করে মহাসাগরগুলো। আবহাওয়ার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে এগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মানবজাতির প্রোটিনের সবচেয়ে বড় একক উত্স। মহাসাগরগুলো না থাকলে পৃথিবী ব্রহ্মাণ্ডের আরেকটি নস্ফিলা পাথুরে গ্রহ হয়ে থাকত।

কিন্তু সামুদ্রিক মাছসহ অন্যান্য প্রাণীর যথেচ্ছ শিকারের পাশাপাশি সাগর-মহাসাগরগুলোকে সমন্বিতভাবে আবর্জনা ফেলার জায়গায় পরিণত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জাহাজ চলাচল, মাছ শিকার ও সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার দাবি করে আসছেন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীরা।

কোনো দেশের সমুদ্রসীমার বাইরে বিস্তৃত অংশের (হাই সিজ বা গভীর সমুদ্র) জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি বা সমঝোতা নেই। অথচ ওই অংশের পরিমাণ মোট জলসীমার এক-তৃতীয়াংশ এবং বিশ্বের মোট আয়তনের অর্ধেক।

ইংল্যান্ডের ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক প্রাণিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ কলাম রবার্টস বলেন, ‘সুরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা নির্ধারণের বিষয়টি হবে প্রকৃতির সুরক্ষা এবং মাছের ভাণ্ডার পুনর্গঠনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। ’

গভীর সমুদ্র থেকে প্রতিবছর চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ মাছ ধরা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর পরিমাণ আরো বাড়ানো সম্ভব।

নাম না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপিকে একজন কূটনীতিক বলেন, ভবিষ্যৎ চুক্তির লক্ষ্য হবে একটি ব্যবস্থা নির্ধারণ করা, যার মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে মানুষের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ’

২০১৪ সালের ওয়ার্ল্ড পার্কস কংগ্রেসে অনেক বিশেষজ্ঞই গভীর সমুদ্রের ৩০ শতাংশ এলাকা সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত করার প্রস্তাব করেন। তবে গত সপ্তাহে ‘কনজারভেশন লেটারস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে, এই ৩০ শতাংশ পর্যাপ্ত হবে না। কারণ সামুদ্রিক প্রাণী এরই মধ্যে যে পরিমাণ ধ্বংস হয়েছে, সে ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের ভাণ্ডার সুরক্ষায় সংরক্ষিত এলাকার পরিমাণ আরো বেশি হওয়া দরকার।

জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০১৭ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত চার দফায় বৈঠক হবে। এসব বৈঠকের প্রতিটির মেয়াদ হবে দুই সপ্তাহ। আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রথমটি।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য