kalerkantho


মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়বে ব্রাসেলসের মুসলমানরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পর পর তিনটি বোমা হামলায় ৩১ জন নিহতের ঘটনায় সেখানকার কোণঠাসা মুসলমানরা গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর মৌলবাদ ঠেকাতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদর দপ্তর ও বেশ কয়েকটি দূতাবাসের কাছাকাছি অবস্থিত ব্রাসেলসের প্রধান মসজিদে খুতবায় প্রাধান্য পায় মৌলবাদবিরোধিতা। মসজিদের ইমাম এন দাইয়ায়ে মুহামেত গালায়ে বলেন, ‘কাজে নামার সময় এসে গেছে। বেলজিয়ামের ওপর আঘাত এসেছে। মৌলবাদের বিরুদ্ধে আজ আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করছি। ’ মসজিদ কর্তৃপক্ষ তরুণদের ইসলামের উদারতা সম্পর্কে শিক্ষা প্রদানে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অবশ্য কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে ইমাম জানান। জঙ্গি হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি আহতদের রক্ত দিতে উপস্থিত মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। গত মঙ্গলবারের হামলায় ৩০০ জন আহত হয়।

ব্রাসেলস হামলাকারীদের ব্যাপারে ইমাম বলেন, ‘এসব অপরাধী বর্বর অপরাধ করেছে। আমরা তাদের বুঝিয়ে দেব, তারা যা করেছে, তার সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। ’ জুমার নামাজে আসা মুসলমানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখন থেকে খুতবায় সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হবে। নামাজ শেষে মুসলমানরা মসজিদের চারপাশ ঘিরে থাকা পার্কে জড়ো হয়। তারা‘আল্লাহু আকবার, বেলজিয়াম দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে থাকে। এরপর ইমামের নেতৃত্বে মুসলমানদের একটি দল মসজিদ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের মালবিক স্টেশনে গিয়ে বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। গত মঙ্গলবারের তিনটি আত্মঘাতী হামলার একটি এখানেই ঘটে।

১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ব্রাসেলসের প্রধান এই মসজিদের কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। বেলজিয়ান ইসলামিক ও কালচারাল সেন্টারের (সিআইসিবি) কার্যক্রম এ মসজিদ থেকেই পরিচালিত হয়। ইসলামের কট্টর ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে মসজিদ কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই সমালোচিত। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থার কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তির কারণে মসজিদটি জিহাদিদের আখড়া হয়ে উঠেছে বলেও মনে করে অনেকে। তবে ইমামের দাবি, এ মসজিদ সৌদি অর্থায়নে পরিচালিত নয়। তারা ওয়ার্ল্ড ইসলামিক লীগের অর্থায়নে চলে। তিনি আরো দাবি করেন, বেলজিয়াম থেকে সিরিয়ায় চলে যাওয়া ৪০০ বা ৫০০ জন কখনোই এ মসজিদে শিক্ষা লাভ করেনি। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) চারণক্ষেত্র সিরিয়ায় চলে যাওয়া ব্যক্তিরা আগে থেকেই অপরাধী উল্লেখ করে ইমাম এসবের পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দায়ী করেন। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য