kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


গোয়েন্দাদের সমন্বয়হীনতার ফাঁকেই ব্রাসেলস হামলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গোয়েন্দাদের সমন্বয়হীনতার ফাঁকেই ব্রাসেলস হামলা

বেলজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা কার্যক্রম, নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আরো আগেই। গত মঙ্গলবারের জঙ্গি হামলায় রাজধানী ব্রাসেলসে ৩১ জনের প্রাণহানির পর এসব নিয়ে নানা প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে।

গোয়েন্দা তথ্য লেনদেনের ব্যাপারে বেলজিয়াম সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান জানিয়েছেন, ব্রাসেলসে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের একজনকে গত বছর তুরস্ক গ্রেপ্তারের পর ফেরত পাঠিয়ে তাদের সতর্ক করেছিল। কিন্তু বেলজিয়াম বিষয়টি উপেক্ষা করেছে। একজন ইসরায়েলি মন্ত্রী এ রকম মন্তব্যও করেছেন যে ‘ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদকে গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে তারা বরং বসে বসে ‘চকোলেট খাচ্ছে। ’

গত ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সিরিজ হামলায় ১৩০ জন নিহতের ঘটনায় ব্রাসেলসভিত্তিক ইসলামিক স্টেট (আইএস) জড়িত ছিল। এ ঘটনায় বেলজিয়ামের তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী এক কর্মকর্তা তার ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে ব্রাসেলসের গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ব্রাসেলসের তরফ থেকে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়নি। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেলজিয়ামের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্যারিস হামলার ঘটনায় তদন্ত নিয়ে তাঁরা নিজেরাই তখন খুব ব্যস্ত দিন পার করছিলেন। তাঁদের দাবি, বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য সময়টা ভালো ছিল না।

সুনির্দিষ্টভাবে কেবল একটি ঘটনায় নয়, বরং সার্বিকভাবেই বেলজিয়ামের গোয়েন্দা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, বেলজিয়ামের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জোড়াতালি দিয়ে চলছে। বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, এমনকি ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গেও কাজ করার ব্যাপারে বেলজিয়ামের ভিন্ন ভিন্ন সংস্থার মধ্যে আগ্রহের পার্থক্য আছে। এসব কারণে বেলজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সহযোগিতা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। ডেমোক্র্যাট নেতা অ্যাডাম শিফের মতে, এ কারণেই বেলজিয়াম ‘চড়া মূল্য’ দিচ্ছে। তবে প্যারিস হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা কর্মকাণ্ডে সমন্বয়ের প্রয়োজন অনুভব করছে বেলজিয়াম, এমনটা মনে করছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফের বেলজিয়ামের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সেবার ওপর পর্যবেক্ষণকারী কমিটির প্রেসিডেন্ট গাই রাপাইল।

বেলজিয়াম অবশ্য প্যারিস হামলার পর তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়েছে। ইউরোজোনের নীতি অনুসারে ঋণের পরিমাণ কম রাখার ব্যাপারে চাপের মধ্যে থাকলেও নিরাপত্তা জোরদারের খাতিরে তারা বরাদ্দ বাড়ায়। কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীতে আরো আড়াই হাজার সদস্য নিয়োগের অঙ্গীকার করে সরকার। বিভিন্ন বড় অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় পুলিশকেই পালন করতে হয়।

এদিকে ব্রাসেলসে গত মঙ্গলবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলজিয়াম সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ইসরায়েলের গোয়েন্দা এবং একই সঙ্গে পরিবহন বিষয়কমন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ। তিনি বলেন, ‘তাঁরা যদি বেলজিয়ামে চকোলেট খেতেই থাকে, আনন্দ করতে থাকে এবং তাদের মহান গণতন্ত্র ও বদান্যতা বজায় রাখে, তাদের দেশে কিছু মুসলিমের সন্ত্রাসের আয়োজনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে তারা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না। ’ সূত্র : রয়টার্স, আরটি।


মন্তব্য