kalerkantho


ইউরোপে জঙ্গিদের জাল অনেকটাই বিস্তৃত

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউরোপে জঙ্গিদের জাল অনেকটাই বিস্তৃত

ব্রাসেলসের মেট্রো স্টেশনে বোমা বিস্ফোরণের এক দিন পর গতকাল স্টেশনের বাইরে ফুল হাতে কাঁদছেন এক নারী। ছবি : এএফপি

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা এটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, চরমপন্থীদের জাল অনেকটাই বিস্তৃত এবং তারা ইউরোপের বিভিন্ন স্থানেই হয়তো আঘাত হানার পরিকল্পনা ফাঁদছে। ইউরোপের মাটিতে হামলার বিষয়ে জঙ্গিদের সক্ষমতার ব্যাপারে ধারণা দেয় এ হামলা। বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ।

প্যারিস হামলার অন্যতম সন্দেহভাজন সালাহ আবদেসলামকে পাকড়াও করার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অনেকটাই স্বস্তির ছিল। কিন্তু এর কয়েক দিনের মধ্যে ব্রাসেলসের বিমানবন্দর এবং মেট্রো স্টেশনের বিস্ফোরণগুলো জানান দিচ্ছে, আবদেসলামের জিহাদি নেটওয়ার্ক সচল রয়েছে। এমনও হতে পারে, আবদেসলামকে আটকের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবারের হামলার ঘটনা হয়েছে।

বেলজিয়ামের আইন প্রয়োগকারী এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আবদেসলামকে গ্রেপ্তারের আগের সময়ের চেয়ে এখন আমাদের আরো বেশি তৎপর থাকতে হচ্ছে। ’

স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের আবাসস্থল ব্রাসেলসের উপকণ্ঠে জিহাদিরা আস্তানা গেঁড়েছে। এরই মধ্যে গত নভেম্বরে প্যারিস হামলার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে ওই এলাকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এখন খতিয়ে দেখার বিষয়, মঙ্গলবারের হামলার পেছনে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত জিহাদিরাই রয়েছে কি না।

বেলজিয়ামের জিহাদি নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ পিটার ফ্যন ওস্তায়েন বলেন, এটা অনেকটা মাকড়সার জালের মতো; ইউরোপে ইসলামিক স্টেটের বড় একটি নেটওয়ার্ক কাজ করছে। তিনি বলেন, বিস্তৃত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একজন অন্যজনকে হয়তো চেনে না, কিন্তু তারা একই লক্ষ্যে সেখানে যুক্ত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী ব্রাসেলসের জঙ্গি নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরুর কয়েক বছর আগে থেকেই সেটি সচল রয়েছে। ব্রাসেলস অনেক দিন ধরেই জঙ্গিদের বড় আস্তানা। বেলজিয়ামের বেশ কয়েকজন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিয়েছে।

ওস্তায়েন বলেন, মঙ্গলবারের হামলা দেখিয়ে দিল কিভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিরিয়া যুদ্ধ করতে যাওয়া কয়েক ডজন বেলজিয়ামের নাগরিকের ঝুঁকিকে খাটো করে দেখেছে। বেলজিয়ামের একটি আদালত গত জুলাইয়ে জিহাদি নেটওয়ার্কের ৩০ জনের বেশি সদস্যকে সন্ত্রাসবাদী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাদের অনেকেই তখন সিরিয়ায় এবং হামলার ছক কষছে। এর কয়েক মাস পর কমপক্ষে তিনজন হামলার পরিকল্পনায় ইউরোপে ফিরে আসে এবং প্যারিসে হামলা চালায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রাসেলসের এ হামলা অপেক্ষাকৃত ছোট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা প্রতিরোধে জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে। বড় কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে হলে একযোগে অনেককে যুক্ত হতে হয়। সেখানকার নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে হামলা করতে বড় আকারের পরিকল্পনা করতে হয় এবং বেশি পরিমাণ বিস্ফোরকও দরকার। বিপরীতে ছোট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ছোট দলই যথেষ্ট। আর বিমানবন্দর বা মেট্রো স্টেশনের মতো জনসমাগমের জায়গায় অনেক মানুষ থাকে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও নিশ্ছিদ্র থাকে না।

প্যারিস হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আবদেসলাম ব্রাসেলসের উপকণ্ঠের জিহাদি নেটওয়ার্কের সহায়তায় এই চার মাস গা ঢাকা দিয়ে ছিল কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। ধারণা করা হচ্ছে, আবদেসলাম ইউরোপজুড়ে আরো হামলার পরিকল্পনা করছিল। বেলজিয়াম পুলিশ তার দুই সহকারীকে খুঁজছিল। মঙ্গলবারের হামলায় প্রমাণ হয়, জিহাদিদের সক্ষমতা ছোট করে দেখা ঠিক হবে না।


মন্তব্য