kalerkantho


পাঁচ ছাত্র গ্রেপ্তার

প্রযুক্তির ফাঁক গলে ব্যাংক থেকে ৮ কোটি রুপি লুট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারতে ব্যাংক থেকে আট কোটি ৬০ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুয়া মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করে তারা চার মাস ধরে এই অর্থ সরিয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, প্রযুক্তির ফাঁক কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ওই টাকা সরিয়েছে পাঁচ ছাত্র। ব্যাংকটি গত ডিসেম্বরে ওয়ালেট ট্রানজেকশন পরিষেবা চালু করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারেনি যে গোটা প্রক্রিয়ায় একটি বড়সড় গলদ রয়ে গেছে। ওয়ালেট ট্রানজেকশন পরিষেবা পদ্ধতিতে যদি কোনো গ্রাহক নিজের ওয়ালেট থেকে অন্য কোনো ওয়ালেটে টাকা ট্রান্সফার করতে চান এবং সেই সময় গ্রহীতার ইন্টারনেট কানেকশন কোনো কারণে অফ থাকে তাহলে দাতা গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো টাকা ব্যয় হবে না। তার বদলে ওই টাকা গ্রহীতা অ্যাকাউন্টে জমা দেবে ব্যাংক। গোয়েন্দাদের মতে, প্রযুক্তির এই ফাঁক কাজে লাগিয়েই মোটা টাকা সরাতে সক্ষম হয় আটক ছাত্ররা।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, অর্থ লুটকারী দলের প্রধান হচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র জুয়েল রানা। অভিযুক্তদের বয়স এবং প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। তবে ব্যাংক লুটের জন্য কিভাবে ওই ছাত্রদের কাছে কয়েক হাজার প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমকার্ড পৌঁছাল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, সরলমতি গ্রামবাসীকে ওই সব সিমকার্ড ব্যবহার করে ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট ও ই-ওয়ালেট খোলার জন্য লোভ দেখায় প্রতারকরা। গ্রাহকদের বিশেষ নগদ পুরস্কারের টোপও দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা দেবাশীষ বড়াল জানান, ‘মুর্শিদাবাদে এক মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারের ডিলার হবিবুর রহমানের সঙ্গে আটক জুয়েল রানার পরিচয় ছিল। হবিবুরের মারফতই সিমকার্ড সংগ্রহ করে ছাত্ররা। ’

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ব্যাংক লুটের রহস্য সমাধানে বেশ কিছু সময় লাগবে। আর্থিক প্রতারণার পাশাপাশি অসংখ্য আনভেরিফায়েড সিমকার্ড ইস্যু করার অভিযোগেও ভিন্ন অনুসন্ধান করা হবে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।


মন্তব্য