kalerkantho


‘হ্যালো’ বলতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘হ্যালো’ বলতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৮টায় প্রথম বোমা বিস্ফোরণের পর কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে।

জাভেনতেম বিমানবন্দরের ব্যাগেজ সিকিউরিটি কর্মকর্তা আলফোনস লাইয়ুরা বলেন, ‘একটা লোক চিৎকার করে আরবিতে কী যেন বলল।

এর পরই বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনলাম। ’ তিনি জানান, মাত্র দুই মিনিটের মাথায় আরেকটা বিস্ফোরণ ঘটে। ধাক্কা সামলে ওঠার পর তিনি নিজেই ছয়-সাতজন আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করেছেন। বিমানবন্দরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি দেখলাম, রক্তমাখা অনেক দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। কিন্তু তারা কেউ নড়ছে না। ’ তিনি আরো জানান, কমপক্ষে সাতজনের পা একেবারে থেঁতলে গেছে। তাদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। একজনের তো দুই পা-ই গেছে। সেখানে অনেকে ছিল, যারা হয় হাত, নয়তো পা হারিয়েছে।

বিশাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরণস্থল থেকে যারা খানিকটা দূরে ছিল তারা শব্দ শুনেছে, পেয়েছে বারুদের গন্ধও। বিস্ফোরণজনিত ধোঁয়া কেটে যাওয়ার পর রক্তে ভেসে যাওয়া দেহগুলো তাদের নজরে আসে। থাইল্যান্ড থেকে ব্রাসেলসে আসা স্ত্রীকে নিতে এসে এভাবেই একের পর এক দৃশ্যগুলো দেখেন জ্যঁ-পিয়েরে হারম্যান। তিনি জানান, স্ত্রীকে তিনি ‘হ্যালো’ বলার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ পান। জরুরি বহির্গমন পথ দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে না যেতেই আরেকটি বিস্ফোরণ। নিরাপদে বেরিয়ে আসা হারম্যান বলেন, ‘মনে হয় আমরা খুবই ভাগ্যবান। ’

যারা ঘটনাস্থল থেকে আরো দূরে ছিল, তারা কেবল দেখেছে আতঙ্কিত মানুষের হুড়োহুড়ি। ব্রাসেলসে বসবাসরত ব্রিটিশ সাংবাদিক শারলোটে ম্যাকডোনাল্ড-গিবসন জানান, একটা ফ্লাইট ধরার আগে তিনি বিমানবন্দরে বসে নাশতা সারছিলেন। হঠাৎ বিমানবন্দরের কর্মীরা ছুটে এসে সবাইকে ওই স্থান ত্যাগ করতে বলেন। তাঁরা নিজেরাও ছুটে যাচ্ছিলেন প্রধান টার্মিনালের দিকে। তিনি বলেন, ‘কেউ জানে না কী ঘটছে। মানুষজন বিস্ময় নিয়ে এদিক-ওদিক দাঁড়িয়ে ভাবছে, হচ্ছেটা কী?’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য