kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


শেষের পথে বহু দিনের বৈরিতা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঐতিহাসিক সফরে কিউবা পৌঁছেছেন। ৮৮ বছরে এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রাখলেন হাভানায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশ দুটির সম্পর্কের ঘটনাপঞ্জি নিচে তুলে ধরা হলো—

১৮৯৮ : কিউবায় উপনিবেশ গড়ে তোলা স্পেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা। স্পেনকে পরাজিত করে কিউবার অধিকার লাভ করে ওয়াশিংটন।

১৯০২ : স্বাধীন হয় কিউবা। প্রেসিডেন্ট হন টমাস ইস্ত্রাদা পলমা। তবে ‘প্লাট অ্যামেন্ডমেন্ড’-এর কারণে দেশটি থাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে। কিউবা বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার থেকে যায় ওয়াশিংটনের।

১৯০৬-০৯ : ইস্ত্রাদার পদত্যাগ। হোসে মিগুয়েল গোমেজের নেতৃত্বে বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে আবারও কিউবার দখল নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

১৯০৯ : যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হন গোমেজ। অচিরেই দুর্নীতির দায়ে কলঙ্কিত হন।

১৯১২ : বৈষম্যের বিরুদ্ধে কালোদের বিক্ষোভ দমনে কিউবায় মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাবর্তন।

১৯৩৩ : ফুলগেনসিও বাতিস্তার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন জেরারদো মাচাদো।

১৯৩৪ : কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র। কিউবার চিনি কোটা পুনর্বিবেচনাসহ শুল্ক খাতে পরিবর্তন আনা হয়।

১৯৫৩ : বাতিস্তা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেও ব্যর্থ হন ফিদেল কাস্ত্রো।

১৯৫৬ : মেক্সিকো থেকে কিউবার পূর্বাঞ্চলে ফিরে আসেন কাস্ত্রো। সেখানে পার্বত্যাঞ্চলে চে গুয়েভারার সহায়তায় গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।

১৯৫৮ : বাতিস্তাকে দেওয়া সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৫৯ : ৯ হাজার শক্তিশালী গেরিলা যোদ্ধা নিয়ে হাভানায় কাস্ত্রোর বিপ্লবী অভিযান। পালিয়ে যান বাতিস্তা। কাস্ত্রো হন প্রধানমন্ত্রী। ওই বছরের এপ্রিলে বেসরকারি এক সফরে ওয়াশিংটনে ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সঙ্গে বৈঠক করেন কাস্ত্রো। পরে নিক্সন লিখেন, কিউবার বামপন্থী নেতাকে ‘ডান দিকে পরিচালিত’ করার চেষ্টা করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপায় ছিল না।

১৯৬০ : কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের সব ব্যবসা ও সম্পত্তি জাতীয়করণ করা হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

১৯৬১ : পিগস উপসাগরে কিউবার নির্বাসিতদের একটি ব্যর্থ হামলায় সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কাস্ত্রো কিউবাকে কমিউনিস্ট দেশ ঘোষণা করেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন।

১৯৬১ : ‘অপারেশন মংগুজ’-এর অধীন কাস্ত্রোকে হত্যার পরিকল্পনা করে সিআইএ। ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত এমন পাঁচটি পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

১৯৬২ : যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের ভয়ে রাশিয়াকে কিউবায় পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুমতি দেয় হাভানা। রুশ-মার্কিন পারমাণবিক যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা দেখা দেয়।

১৯৮০ : কাস্ত্রো সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে এক লাখ ২৫ হাজার কিউবার নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যায়।

১৯৯৩ : কিউবার অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করে যুক্তরাষ্ট্র।

১৯৯৪ : কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র একটি চুক্তি সই করে। এতে প্রতি বছর ২০ হাজার কিউবানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। বিনিময়ে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রমুখী শরণার্থীদের স্রোত ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

১৯৯৬ : মিয়ামিভিত্তিক নির্বাসিত কিউবানদের পরিচালিত দুটি বিমান গুলি করে ভূপাতিত করে কিউবা। জবাবে হাভানার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করে ওয়াশিংটন।

২০০১ : মিয়ামিতে কিউবা সরকারের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির দায়ে পাঁচ কিউবার নাগরিকের দীর্ঘ সাজা। ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো কিউবায় খাদ্য রপ্তানি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

২০০৩ : কিউবায় কমিউনিস্ট শাসন দ্রুত শেষ করতে আরো কঠোর উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ।

২০০৬ : ফিদেল কাস্ত্রো ভাই রাউলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

২০০৭ : ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাউল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার ইঙ্গিত দেন।

২০০৮ : রাউল প্রেসিডেন্ট হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হন বারাক ওবামা।

২০০৯ : ওবামা পরিবার নিয়ে কিউবা ভ্রমণ ও রেমিট্যান্স পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে হাভানায় আটক হন অ্যালান গ্রস।

২০১২ : কিউবা ঘোষণা দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত তারা।

২০১৩-১৪ : সম্পর্ক পুনঃ স্থাপন নিয়ে আলোচনা।

২০১৫ : কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃ স্থাপন এবং দূতাবাস চালু। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য