kalerkantho


‘পরিবর্তিত’ কিউবায় উচ্ছ্বসিত ওবামা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘পরিবর্তিত’ কিউবায় উচ্ছ্বসিত ওবামা

কিউবার রাজধানী হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপরিবার বিমান থেকে নামছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। রবিবারের ছবি। ছবি : এএফপি

কিউবায় ‘পরিবর্তন ঘটছে’ বলে বিশ্বাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওমাবা। গতকাল সোমবার কিউবার রাজধানী হাভানায় প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসার আগ মুহূর্তে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রবিবার ওবামা তিন দিনের সফরে এক সময়ের ‘বৈরী’ দেশ কিউবায় পৌঁছান। স্থানীয় সময় বিকেলে হাভানার হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। সপরিবার ওবামাকে লালগালিচা সংবর্ধনায় স্বাগত জানান কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। ৮৮ বছরের মধ্যে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম কিউবা সফর। ২০১৪ সালে উভয় দেশের তরফে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

গতকাল সোমবার হাভানার প্যালেস অব দ্য রেভল্যুশনে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে ওবামার বৈঠকে বাণিজ্য, রাজনৈতিক সংস্কারসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

ওবামাকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান হাভানার মাটি স্পর্শ করার পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্থানীয় ভাষায় টুইট করেন, ‘কী খবর কিউবা?’

হোসে মার্তি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হাভানার একটি হোটেলে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওবামা ও ফার্স্ব লেডি মিশেল ওবামা।

বহুদিন পর নতুনভাবে কাজ শুরু করা দূতাবাসকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, ‘কিউবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ এটি। ’ তিনি বলেন, ‘১৯২৮ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ ব্যাটেলশিপে চড়ে এখানে এসেছিলেন।

এখানে আসতে তাঁর তিন দিন লেগেছিল। কিন্তু আমার লাগল মাত্র তিন ঘণ্টা। ’ এই সফর তাঁকে ‘এক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে, যা অতীতের চেয়ে উজ্জ্বলতর হবে’ বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পর ওবামা দম্পতি দুই কন্যা সাশা ও মালিয়াকে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় হাভানা ঘুরে দেখতে বের হন।

ওবামার গাড়িবহর পুরান শহরের দিকে যাওয়ার সময় হাভানাবাসী তাঁদের হাত নেড়ে স্বাগত জানায়।

১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সংঘটিত বিপ্লবে কিউবার যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের পতন হলে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশ দুটি। এরপর কিউবার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা ৫৪ বছর বলবৎ ছিল। এই অবরোধ এখন উঠে যাবে বলে আশা করছে কিউবাবাসী।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ওবামা ও রাউল দুই দেশের মধ্যকার বিরোধ অবসানের বিষয়ে একমত হলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। সফরে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে ওবামার দেখা হচ্ছে না। তাঁদের দুজনের কোনো সাক্ষাৎপর্ব সফর তালিকায় নেই।

সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য