kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


অভিবাসী সংকট

তুরস্ক-ইইউ চুক্তি মানে ‘এক মুখে দুই কথা’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



তুরস্ক-ইইউ চুক্তি মানে ‘এক মুখে দুই কথা’

ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘এক মুখে দুই কথা’ বলার অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অভিবাসী সংকট সামাল দেওয়ার নামে তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের করা চুক্তির মধ্য দিয়ে তাদের এ দ্বৈত আচরণ প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করে সংস্থাটি। চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান খোদ ইউরোপ।

তুরস্ক থেকে গ্রিস হয়ে ইউরোপে স্রোতের মতো প্রবেশ করা অভিবাসীদের ঠেকাতে গত শুক্রবার তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চুক্তি অনুসারে আজ রবিবার থেকে যেসব অভিবাসী তুরস্ক থেকে গ্রিসে পৌঁছবে, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তাদের তুরস্কে ফেরত পাঠানো হবে। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে এ কার্যক্রম শুরু হবে। ফেরত পাঠানো অভিবাসীর সমসংখ্যক সিরীয় শরণার্থীকে তুরস্ক থেকে ইউরোপে পুনর্বাসিত করা হবে। এ ছাড়া তুরস্ককে শরণার্থী সংকট সামাল দেওয়ার জন্য অর্থ সহায়তার পাশাপাশি দেশটিকে রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হবে। ইইউর এক সূত্রে জানা গেছে, চুক্তির আওতায় ৭২ হাজার সিরীয় অভিবাসীকে ইউরোপে জায়গা দেওয়া হবে। তবে গ্রিস থেকে তুরস্কে ফেরত পাঠানো অভিবাসীর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি হলে এ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসবে।

চুক্তির পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল চুক্তির পর পরই বলেছেন, চুক্তিটি নিয়ে তিনি মোহাবিষ্ট নন। চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বাধা আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো বড় আইনি বাধা রয়েছে, যেগুলো অবশ্যই আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। ’ চুক্তির বাস্তবায়ন ‘সংকটপূর্ণ’ উল্লেখ করে জাতিসংঘ বলেছে, চুক্তি বাস্তবায়নের স্বার্থে শরণার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ে তুরস্কের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিমত, মানবপাচার বন্ধে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য এ চুক্তির পর ইউরোপের কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির ইউরোপ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক পরিচালক জন ডালহুইসেনের মতে, আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় আইনের প্রতি ইইউর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অঙ্গীকারটা ‘চিনির আবরণ দেওয়া সায়ানাইড পিল বলে সন্দেহ হয়’। ইইউর অঙ্গীকারের সঙ্গে এ চুক্তি বেমানান তো বটেই, সেই সঙ্গে এ চুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান শরণার্থী সংকটের প্রতি ইউরোপের ‘পৃষ্ঠ প্রদর্শনের’ একগুঁয়েমি আড়ালের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এমন কথাও বলেন তিনি। শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য তুরস্ক নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও অভিবাসীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানোটা ‘ত্রুটিপূর্ণ, অবৈধ ও অনৈতিক’ বলে উল্লেখ করেন এ অ্যামনেস্টি কর্মকর্তা।

যুদ্ধ ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে গত বছর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষ ইউরোপে প্রবেশ করে। এ জন্য তারা তুরস্ক থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে গ্রিসের মাধ্যমে ইউরোপে ঢোকে। শরণার্থী ও অভিবাসীদের এ বিপুল স্রোত সামাল দিতে দীর্ঘ আলোচনার পর ইইউ তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স


মন্তব্য