kalerkantho


নেপালে সারতাজ-সুষমা বৈঠক

পাঠানকোট তদন্তে ভারত যাবে পাকিস্তানি দল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের পালে সুবাতাস লাগার ইঙ্গিত মিলেছে। গতকাল শুক্রবার নেপালের পোখরায় সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে বৈঠক করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ। এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য আনুষ্ঠানিক চেষ্টা শুরু হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

গতকালের বৈঠকে ভারতের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ পঠানকোট তদন্তে নয়াদিল্লি যাবে পাকিস্তানের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। তদন্তের স্বার্থে ওই প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সর্বত্র যাওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছে ভারত। এর আগে পঠানকোট বিমানঘাঁটিতে সিটকে প্রবেশাধিকার দেওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছিল ভারতের প্রতিরক্ষা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে গতকাল নরম মনোভাব দেখিয়েছে ভারত।

গতকাল দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে পাকিস্তানের তদন্তকারী দলের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তদন্তের খাতিরে যেখানে যেখানে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, সেখানে তারা যেতে পারবে। ’

পঠানকোট হামলার পরে আড়াই মাস বাদে এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত এবং পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো বৈঠক হলো। কূটনৈতিক মহলের মতে, চলতি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ বৈঠক খুবই ইতিবাচক এবং গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ সম্মেলনের শেষে আলোকচিত্রীদের দাবি মিটিয়ে দুই নেতা করমর্দনও করেছেন। সুষমা জানিয়েছেন, পঠানকোট এবং ক্রিকেটের মতো চলতি বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সমাধানের প খোঁজা হচ্ছে। মার্চের ৩১ তারিখ ওয়াশিংটনে পরমাণু সুরক্ষা সম্মেলনের পার্শ্ব বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা হবে। সারতাজ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ওই বৈঠকে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে নির্দিষ্ট কাঠামোয় আলোচনা হবে। ’ এরপর নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। সেখানে থাকবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও। ইসলামাবাদে যাওয়ার জন্য মোদির নিমন্ত্রণপত্রটি গতকাল সুষমার হাতে তুলেও দিয়েছেন সারতাজ। পাঠানকোটকাণ্ডে দোষীদের শাস্তি দেওয়ার প্রশ্নে যথেষ্ট রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়ে সিট গঠন করেছিল নওয়াজ সরকার। প্রাথমিকভাবে জইশ-ই-মহম্মদের কিছু ঘাঁটিতে পাকিস্তানের সেনার হানা দেওয়ার খবরও প্রচারিত হয়েছিল সে দেশের সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু ভারতকে যথেষ্ট হতাশ করে গত মাসে সিট জানায়, এমন কোনো তথ্য তারা পায়নি, যা থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে জইশ নেতা মাসুদ আজহারই নাশকতার প্রধান মাথা। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।


মন্তব্য