kalerkantho

25th march banner

‘ছাদবিহীন কারাগার’ হবে না তুরস্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘ছাদবিহীন কারাগার’ হবে না তুরস্ক

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু গতকাল শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ইউরোপমুখী শরণার্থীর স্রোত ঠেকাতে তাদের প্রস্তাব মানবিক; এটি ‘দর কষাকষির’ বিষয় নয়। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আয়োজিত শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগমুহৃর্তে তিনি এ সতর্কতা দেন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার ইইউ নেতারা গ্রিসে পা রাখা সব শরণার্থীকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে একটি ‘অভিন্ন অবস্থানে’ পৌঁছান। গতকাল তুরস্কের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে চুক্তি করার কথা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে মূলত তুরস্ক হয়েই গ্রিসে প্রবেশ করছে বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষ। সেখান থেকে বলকান অঞ্চল পেরিয়ে জার্মানির মতো ধনী দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে তারা। গত বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি আশ্রয়প্রত্যাশী মানুষ ইউরোপে পা রেখেছে। সে কারণেই তুরস্কের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে শরণার্থী সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন ২৮ সদস্যের ইইউর নেতারা।

তুর্কি প্রধানমন্ত্রী শরণার্থী চুক্তি প্রশ্নে দরকষাকষির ব্যাপারে সতর্ক করলেও উভয় পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য ‘মতৈক্য’ নিয়ে তিনি আশাবাদী বলে জানান। তবে তিনি বলেন, চুক্তি হতে হবে ‘মানবিক বিষয়গুলো বিবেচনায়’ নিয়ে। শরণার্থীদের জন্য তুরস্ককে ‘ছাদবিহীন কারাগার’ বানানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

এর আগে ৭ মার্চ ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইউরোপে আশ্রয়প্রত্যাশীদের গ্রিস থেকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা হয়। ওই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়, ১৭ ও ১৮ মার্চের পরবর্তী বৈঠকে গ্রিসে পা রাখা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভাগ্য চূড়ান্ত হবে।

তবে এরই মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির আইনি বৈধতাসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোদ জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলকান অঞ্চল দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশ বন্ধ করার বিরুদ্ধে। বিশ্ব সংস্থাটি মনে করে, সিরিয়ার চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের কারণে যারা ইউরোপে আশ্রয় নিতে চায়, তাদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ থাকা উচিত। একই সঙ্গে তারা মনে করে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে আশ্রয়প্রার্থীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বেআইনিও বিবেচিত হতে পারে। একই সুরে কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। সংস্থাটি গতকাল ও আগের দিন বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে সম্মেলনস্থলের বাইরে চুক্তিবিরোধী বিক্ষোভ করেছে।

এমনকি লুথিয়ানার প্রেসিডেন্টও বলেছেন, এ ধরনের চুক্তিতে ‘আইনি জটিলতা তৈরি’ হতে পারে এবং এর বাস্তবায়ন কঠিন হবে। আর বৈঠকের আগমুহৃর্তে ইইউর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, সব শরণার্থীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে আশ্রয়ের দাবি জানানো প্রত্যেকের ক্ষেত্রে গ্রিসে শুনানির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।

তুরস্ককে গ্রিস থেকে শরণার্থীদের ফেরত নিতে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়াসহ তুর্কিদের জন্য ইউরোপের ভিসা সহজ করা এবং থেমে থাকা তুরস্কের ইইউর সদস্যপদের আলোচনা গতিশীল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে ইইউ ও তুরস্ক দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়।

ধারণা করা হচ্ছিল, গতকালের আলোচনার টেবিলে শেংগেন চুক্তির অধীনে ইউরোপীয় দেশগুলোতে তুর্কী নাগরিকদের ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নিয়ে ইউরোপীয় কয়েকটি দেশ আপত্তি জানাতে পারে। এ ছাড়া ইইউতে তুরস্কের সদস্যপদ লাভের বিষয়টি ত্বরান্ব্বিত করার যে প্রতিশ্রুতি থাকছে চুক্তিতে, তা নিয়েও অনেকের আপত্তি করতে পারে।

দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হলে, তুরস্ক তাদের উপকূল থেকে আশ্রয়প্রত্যাশীরা যেন গ্রিসের উদ্দেশ্যে সাগরপথে রওয়ানা হতে না পারে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। এ ছাড়া অবৈধভাবে গ্রিসে পৌঁছানো আশ্রয়প্রত্যাশীদের ফেরত নেবে তুরস্ক। এর বদলে তুরস্কের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির থেকে বৈধ উপায়ে সমানসংখ্যক শরণার্থী নেবে ইইউ। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য