kalerkantho


ভারতে গোমাংস রান্নার গুজবে এবার চার কাশ্মীরি ছাত্র হেনস্তা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গরুর মাংস রান্না করার অভিযোগে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজস্থান রাজ্যে চার মুসলিম ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দেশটিতে আবারও দাদরির মতো একটি নৃশংস ঘটনার জন্ম হতে পারত বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

রাজ্যের মেওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে ওই ছাত্ররা গত সোমবার গরুর মাংস রান্না করছে—গুজব ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ক্ষুব্ধ লোকজন এসে তাদের ঘিরে ফেলে এবং মারধর করে। পরে পুলিশ এসে ছাত্রদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। ওই ছাত্রদের সবার বাড়ি জম্মু ও কাশ্মীরে। পরে পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, গরুর নয়, ওই ছাত্ররা ছাগলের মাংস রান্না করছিলেন।

সংবাদমাধ্যম জানায়, মেওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার পাঁচেক ছাত্র পড়াশোনা করে। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন রয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের। তাদেরই চারজন হোস্টেলে নিজেদের ঘরে মাংস রান্না করছিল। এরই মধ্যে কে বা কারা হোস্টেলের ওয়ার্ডেনের কাছে অভিযোগ করে, কাশ্মীরি পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে গরুর মাংস রান্না করছে। খবরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এলাকায়ও আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় এলাকার ক্ষুব্ধ ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর লোকজন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে পড়ে। বিপদ আঁচ করে ওই ছাত্ররা লুকিয়ে পড়লেও শেষ রক্ষা হয়নি। লোকজন তাদের বেদম মারধর করে। এর পরপরই পুলিশ হোস্টেলে পৌঁছে চার ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ওই মাংস পরীক্ষা করে জানা যায়, সেগুলো আদতে গরুর মাংস ছিল না। সেগুলো ছাগলের মাংস ছিল।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা লাভু রাম বলেন, একদল ‘উত্তেজিত’ জনতা ওই ছাত্রদের ঘিরে ফেলে। তবে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন লাভু।

রাজস্থানে গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। মেওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে আবার আমিষ খাবার ঢোকানোই নিষিদ্ধ। সেই নিয়ম ভাঙার অপরাধেই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এ ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটাবে না, এমন মুচলেকা লিখিয়ে নিয়ে নেওয়া হয়েছে ওই ছাত্রদের কাছ থেকে। গত বুধবার একটি আদালতের রায়ে তারা জামিনে ছাড়া পেয়েছে। তবে আগামী ছয় মাস তাদের পুলিশের নজরে থাকতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন আদালত।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা গোমাংস গুজবে দাদরির মতো আরেকটি নৃশংসতার আশঙ্কা করছে। তবে কারা এমন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছিল, তা খুঁজে বের করতে প্রশাসনের তরফে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছে অনেকেই।

সূত্র : পিটিআই।

 


মন্তব্য