kalerkantho

25th march banner

‘সিরিয়ার শিশুরা যুদ্ধ ছাড়া কিছুই জানে না’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



‘সিরিয়ার শিশুরা যুদ্ধ ছাড়া কিছুই জানে না’

পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধের ফলে সিরিয়ার পুরো এক প্রজন্ম গড়ে উঠেছে যুদ্ধের অভিজ্ঞতায়। এই যুদ্ধ ২৪ লাখ সিরীয় শিশুকে দিয়েছে শরণার্থীর জীবন। সিরিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে ৮০ লাখের বেশি শিশুর এখন মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

এ রকম আরো অনেক ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি গতকাল সোমবার তাদের ‘নো প্লেস ফর চিলড্রেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।

ইউনিসেফ বলেছে, সিরিয়ায় পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশু আর কিছুই জানে না। তাদের জীবনটা যুদ্ধ দিয়ে গড়া। সিরিয়ার ভেতর এমন শিশুর সংখ্যা ২৯ লাখ এবং সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংখ্যাটা কমপক্ষে আট লাখ ১১ হাজার।

ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলবিষয়ক পরিচালক পিটার সালামা বলেন, ‘যুদ্ধরত দেশগুলোতে শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক সব শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে। ছেলে শিশুরা শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে আর মেয়ে শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ’ তিনি জানান, সিরিয়ায় প্রায় ৭০ লাখ শিশু দারিদ্র্যপীড়িত। শিশুশিক্ষার ব্যাপারে সংস্থার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সিরিয়ায় কমপক্ষে ২১ লাখ ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে সাত লাখ শিশু শিক্ষাবঞ্চিত। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে সশস্ত্র ও জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগদানের হার বাড়ছে। মাসিক ৪০০ ডলার এবং নানা রকম উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের এসব গোষ্ঠীতে যোগদানে উৎসাহিত করা হয়। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই এসব গোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। আগের তুলনায় ২০১৪ সাল থেকে আরো কম বয়সী শিশু যুদ্ধে যোগ দিচ্ছে। মাত্র সাত বছর বয়সী অনেক শিশুও রয়েছে এই তালিকায়। শিশুদের অনেকে এ ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতিও নেয় না। এসব শিশু রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্মুখ সমরে যোগ দেওয়া, যুদ্ধাস্ত্র আনা-নেওয়া ও ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়া, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এমনকি চিকিৎসা দেওয়ার কাজ করছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য