kalerkantho

26th march banner

সিরিয়ার কুর্দিদের ফেডারেল ব্যবস্থা ঘোষণার তোড়জোড়

সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার ৭ থেকে ১০ শতাংশ কুর্দিরা মৌলিক অধিকার বঞ্চিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিরিয়ার কুর্দিদের ফেডারেল ব্যবস্থা ঘোষণার তোড়জোড়

ইতিমধ্যে নিজেদের স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা সিরীয় কুর্দিরা এবার নতুন ফেডারেল ব্যবস্থা ঘোষণার পরিকল্পনা করছে। তবে তারা যে সিরিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা চায় না, সেটাও জোরালোভাবে জানিয়েছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান সিরীয় শান্তি আলোচনায় আমন্ত্রণ না পাওয়া কুর্দিদের পক্ষ থেকে গত বুধবারই ফেডারেল ব্যবস্থা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা ছিল। তবে ‘কৌশলগত কারণে’ এবং স্থানীয় আরব ও আসিরীয় সম্প্রদায়গুলোর উদ্বেগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া আপাতত স্থগিত রেখেছে।

কুর্দিরা আলেপ্পো প্রদেশের আফরিন ও কোবানে এবং হাসাকেহ প্রদেশের জাজিরায় এরই মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেছে। তুরস্কের সীমান্ত ঘেঁষা এ তিনটি এলাকাসহ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখল থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আরব ও তুর্কমেন এলাকাগুলোতেও কুর্দিরা তাদের পরিকল্পিত ফেডারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

আরব প্রধান সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার ৭ থেকে ১০ শতাংশ কুর্দিরা সেখানে মৌলিক অধিকার বঞ্চিত। রাজনৈতিকভাবেও তারা দমনপীড়নের শিকার। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক উত্থান-পতন সত্ত্বেও তারা কারো পক্ষাবলম্বন থেকে বিরত থেকেছে। ২০১২ সালের মাঝামাঝি বিদ্রোহী আরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করতে সিরিয়ার সরকার যখন কুর্দি অধ্যুষিত এলাকা থেকে সরকারি বাহিনীকে প্রত্যাহার করে নেয়, সেই সুযোগে ওইসব এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কুর্দিদের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টি (পিওয়াইডি) নেতৃত্বাধীন পপুলার প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি)। ২০১৪ সালে পিওয়াইডি আফরিন, কোবানে ও জাজিরায় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করে। সম্প্রতি আইএসকে হটিয়ে দখল নেওয়া এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করে ফেডারেল ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথা জানায় কুর্দিরা।

কুর্দি কর্মকর্তা ইদ্রিস নাসানের দাবি, ফেডারেল ব্যবস্থায় কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন কাঠামো আরো বিস্তৃত হবে এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্ব ঘটবে। শান্তি আলোচনার জন্য জেনেভায় অবস্থানরত  সিরিয়া সরকারের প্রতিনিধিদলের প্রধান বাশার আল জাফারি এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘সিরীয়দের মধ্যে কোনো রকম বিভাজন তৈরির খেলায় নামলে সামগ্রিকভাবে একটা ব্যর্থতা নেমে আসবে। ’ কুর্দিদের এ পরিকল্পনা নিয়ে ‘এখান সেখান থেকে আসা একতরফা বিবৃতির  ব্যাপারে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান।  

কুর্দিদের ব্যাপারে এমন মন্তব্য করার পাশাপাশি জাফারি গত বুধবার সরাসরি বিদ্রোহী গ্রুপের প্রতিনিধির সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বিদ্রোহী গ্রুপের প্রতিনিধিত্বকারী জয়শ আল ইসলামের সদস্য মোহাম্মেদ আলাউশকে তিনি সন্ত্রাসী অ্যাখ্যা দেন। জাফারির দাবি, আলাউশ একটা সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, যে সংগঠন দূতাবাসগুলোয় বোমা হামলা করেছে, প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে। আলাউশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় জাফারির এই অস্বীকৃতির ফলে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া সত্ত্বেও সামনের পথ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে সিরিয়া থেকে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান প্রত্যাহারের পরিকল্পনার ফলে আলোচনায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অবশ্য বুধবার দাবি করেছে, সিরিয়া থেকে রুশ বাহিনীকে সরানোর কোনো উল্লেখযোগ্য চিহ্ন তাদের চোখে পড়ছে না। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।


মন্তব্য