kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


দিকনির্দেশনা ছাড়াই এগোচ্ছে মিয়ানমার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এখনো নেই স্পষ্ট দিকনির্দেশনা। তা সত্ত্বেও কাজের গভীরে ডুব দিয়েছেন মিয়ানমারের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। গণতান্ত্রিক সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা গ্রহণের আগেই টের পাওয়া যাচ্ছে পরিবর্তনের আভাস।

জান্তা সরকারের আমলে প্রণীত সংবিধানে পরিবর্তন আনা যায়নি বলে অং সান সু চি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু স্কুলজীবনের বন্ধু তিন কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট পদে বসানোর মাধ্যমে তিনি দেশ পরিচালনার ক্ষমতা আদতে নিজের হাতেই রেখেছেন। তার পরও স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতায় থাকা শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিপরীতে সু চির যাত্রা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার বলেন, ‘আমাদের কী ঘটবে, সে ব্যাপারে কোনো ধারণাই নেই। আমাদের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। ’ আগামী মাসে সু চির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে জান্তা প্রভাবিত বিদায়ী সরকার। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে সেনাবাহিনী পরিচালিত মিয়ানমারে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের আপাত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে বেশ কিছু সংস্কার হয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। ২০১১ সালে যেখানে মিয়ানমারে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও কম, সেখানে গত বছর সংখ্যা ৪৭ লাখে দাঁড়ায়। ধুলায় ধূসরিত বাণিজ্য নগরী ইয়াঙ্গুনে লাগে মেট্রোপলিটনের ছোঁয়া। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মিয়ানমারের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে বিদ্যুৎ, সড়ক, বন্দর উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এনএলডির অর্থনৈতিক কমিটির প্রধান হান্থা মিন্ত। মানবসম্পদ উন্নয়নে তিনি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে যে রাস্তায় যায়, আমাদেরও সেটাই অনুসরণ করতে হবে। খেলনা ও পোশাক শিল্প এবং স্বল্পমূল্যের রপ্তানি পণ্যের কারখানা গড়ে তুলতে হবে। আগামী পাঁচ বছর উচ্চমাত্রার প্রযুক্তি নিয়ে কোনো কথা বলা আমাদের উচিত হবে না। ’

বিশ্লেষকদের অভিমত, এনএলডির পরিবর্তনে প্রশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। কিন্তু তাদের হাত-পা বাঁধা। আগামী অর্থবছরের বাজেট গত জানুয়ারিতেই পাস করেছে জান্তা প্রভাবিত বিদায়ী সরকার। জনসমক্ষে এর বিস্তারিত প্রকাশ না করা হলেও অনেক খাতে প্রয়োজনের চেয়ে কম বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া পার্লামেন্টে এক-চতুর্থাংশ আসন দখল করে থাকা সেনা সদস্যরাও সু চির সামনে একটি বাধা বটে। সূত্র : এএফপি।

 


মন্তব্য