kalerkantho


‘সিরিয়ায় অভিন্ন লক্ষ্য থেকে পিছটান পুতিনের’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সিরিয়ার রণাঙ্গন থেকে রুশ বাহিনীকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আকস্মিক ঘোষণার দুটি দিক রয়েছে। এক. তাঁর দেশ কিভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সমাপ্তি টানতে নিয়ামকের ভূমিকা নিয়েছিল এবং দুই. যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরেক দফা কৌশলগতভাবে পরাভূত হলো রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পি জে ক্রাউলির তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন এমনটাই।

ক্রাউলি মনে করেন, ছয় বছরে গড়ানো সিরিয়ার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে জড়িত বহু পক্ষের মধ্যে কারো অবস্থানই সুবিধাজনক নয়। তবে পুতিন তাঁর অবস্থান থেকে সরে এলেন। তিনি সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারকে রক্ষায় সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিলেন।

পুতিনের সামরিক সামর্থ্য ও কূটনৈতিক চাতুর্য তাঁর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। বারাক ওবামা এ ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলেছেন। তিনি সিরিয়ার মতো একটি বিশৃঙ্খলাপূর্ণ রণাঙ্গনে সামান্য অর্জনের দিকেই নজর দিয়েছেন। এ কারণেই তিনি সীমিত পরিসরে আইএসবিরোধী সামরিক অভিযান শুরু করেন। ওবামা আসাদকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সিরিয়ার প্রশ্নে পুতিন ও ওমাবা দুজনই ভিন্ন খেলায় নামলেও তা আসলে পরস্পর সম্পৃক্ত। তাঁদের দুজনেরই জয়ের লক্ষ্য অভিন্ন : কার্যকর সিরিয়া রাষ্ট্র কট্টরপন্থীদের অভয়ারণ্য হবে না। কিন্তু তাঁদের (ওবামা ও পুতিনের) বেছে নেওয়া পন্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক পক্ষ (রাশিয়া) বিদ্যমান সিরীয় সরকারকে টিকিয়ে রেখে নামমাত্র রাজনৈতিক বিরোধীদের অবস্থান দিতে চায়। অন্য পক্ষ একটি সার্বিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে ক্ষমতা ভাগাভাগির অবস্থা নিশ্চিত করতে চায়।

রুশ বাহিনীর বিমান হামলার গত সাড়ে পাঁচ মাসের খতিয়ান দেখলে বলা যায়, ওবামার চেয়ে পুতিন তাঁর লক্ষ্য পূরণের অনেক কাছেই এগিয়ে গিয়েছিলেন। বিচক্ষণতার সঙ্গে ওবামার সামরিক শক্তি ব্যবহার সিয়িরার গৃহযুদ্ধের সামরিক ভারসাম্যে আঘাত করেনি। কিন্তু পুতিন মৌলিকভাবে রণাঙ্গনের অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।  

ক্রাউলি মনে করেন, ওবামা যখন বলেন, গৃহযুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় আর সিরিয়া ফিরে যাবে না, তখন তিনি সঠিক কথাই বলেন। আবার যখন বলেন যে আসাদ বিদায় না নিলে সংঘাত বন্ধ হবে না, তখনও তাঁর অবস্থান সঠিক।

কিন্তু ক্রাউলি এ প্রশ্নও তোলেন, আইএসকে কুপোকাত করতে সীমিত পরিসরে বিমান হামলা কতটা ফল বয়ে আনবে। ওবামা অভিযানের পরিধি বাড়াতে অনিচ্ছুক। কারণ তাঁর আশঙ্কা, আইএসবিরোধী অভিযান জোরদার করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতি কট্টরপন্থীদের হুমকি বাড়বে।

ক্রাউলি অবশ্য মনে করেন, ওবামার এ আশঙ্কা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত। তবে সিরিয়া প্রশ্নে পুতিনের ‘জুয়াখেলা’ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথকে আরো কঠিন করবে নাকি সহজতর করবে—সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য