kalerkantho


বিশ্বে এক-চতুর্থাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী দূষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিশ্বে এক-চতুর্থাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী দূষণ

বিশ্বে প্রতি চারটি মৃত্যুর অন্তত একটি হয় পরিবেশ দূষণের কারণে। বায়ু, পানি বা মাটি দূষণের পাশাপাশি অনিরাপদ সড়ক এবং কর্মক্ষেত্রের চাপও এর পিছে ভূমিকা রাখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি নতুন এক জরিপের ভিত্তিতে জানিয়েছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে  ২০১২ সালে এক কোটি ২৬ লাখ মানুষ মারা যায়। এটা ওই বছরে মোট মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যার ২৩ শতাংশ। এসব মৃত্যুর পেছনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কাজের ক্ষেত্র এবং বসবাসের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশকে। ডাব্লিউএইচও প্রধান মার্গারেট চ্যান এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, ‘যদি দেশগুলো জনগণের বসবাসের এবং কাজের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে লাখ লাখ লোক অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং সময়ের আগেই কম বয়সে মারা যাবে। ’ 

ডাব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে দূষণ, রাসায়নিক বিক্রিয়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিবেগুনি রশ্মির মতো পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা, শতাধিক ব্যাধি এবং আঘাতের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। জরিপে বলা হয়, ওই বছর বায়ুদূষণের কারণে অন্তত ৮২ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের বিষয়টিও রয়েছে যার কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সার ও ক্রনিক শ্বাসকষ্টের মতো অসুখে মানুষ আক্রান্ত হয়।

১৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় অনিচ্ছাকৃত আঘাতের কারণে। যার অন্যতম কারণ সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃত আঘাতের কথাও বলা হয়েছে। আত্মহত্যাসহ এ ধরনের আঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা দুই লাখ ৬০ হাজার। অনিরাপদ আগ্নেয়াস্ত্র ও কীটনাশক ব্যবহারও এর একটি কারণ। দূষিত ও অনিরাপদ পানি পান করে পেটের অসুখে মারা যায় আট লাখ ৪৬ হাজার লোক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশগত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ এশিয়ায়। ২০১২ সালে ৩৮ লাখ লোক শুধু এ কারণে মারা যায়। সে তুলনায় পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মারা গেছে ৩৫ লাখ লোক। আর এর প্রভাব সবচেয়ে কম পড়েছে আমেরিকান দেশগুলোয়। এসব দেশে মৃতের সংখ্যা আট লাখ ৪৭ হাজার। ইউরোপে ১৪ লাখ এবং আফ্রিকায় ২২ লাখ।

ডাব্লিউএইচও মনে করে, পরিবেশ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ১৭ লাখ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব।   ডাব্লিউএইচওর জনস্বাস্থ্য প্রধান মারিয়া নেইরা বলেন, ‘আমাদের শহর, বাড়ি ও কর্মক্ষেত্রে পরিবেশের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে কৌশল নির্ধারণে বিনিয়োগ করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিনিয়োগ বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ, আঘাত ও ক্যান্সারের মতো ব্যাধির সংখ্যা কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমিয়ে দেবে। ’ সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য