kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তুরস্কে সন্ত্রাসী হামলা

স্থিতাবস্থায়ও কম্পন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



স্থিতাবস্থায়ও কম্পন

তুরস্কে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদের মৃতদেহ নিতে অপেক্ষমান স্বজনদের আহাজারি। ছবিটি গতকাল রাজধানী আংকারার একটি ফরেনসিক পরীক্ষাগার ভবনের সামনে থেকে তোলা। ছবি : এএফপি

তুরস্কের রাজধানী আংকারার প্রাণকেন্দ্র এমন সময়ে ভয়াবহ বোমা হামলায় কেঁপে উঠল যখন কয়েকটি বিষয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে স্থিতাবস্থা নিয়ে টানাপড়েন চলছে অনেক দিন। তুরস্কের পূর্বাঞ্চলের তুর্কি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে সরকারকে। আর সিরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে তুর্কি ভূখণ্ডে সহিংসতার জোয়ার আছড়ে পড়া ঠেকাতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে আঙ্কারাকে। এর পাশাপাশি জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হুমকি তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে তুর্কি সরকারকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বুধবারের হামলাটি হয়েছে সরকারি বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে। এর মাত্র কয়েক মাস আগে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ২০১৫ সালের অক্টোবরে আঙ্কারার উপকণ্ঠে একটি রেলওয়ে স্টেশনের ওই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়। গত মাসের ১৭ তারিখেই বোমায় কেঁপে ওঠে আঙ্কারা, প্রাণ যায় কমপক্ষে ২৮ জনের। এর আগের মাসেও হামলা হয়। তবে সেটি হয় ইস্তাম্বুলে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার আগে তুরস্কে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে মূলত দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে। সেখানে তুরস্কের সেনাবাহিনী কয়েক দশক ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে লড়াই করছে। এ ছাড়া হামলা হয়েছে বামপন্থী ও কুর্দিপন্থী পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) দলীয় কার্যালয়গুলোতে।

আগের হামলাগুলোর জন্য তুর্কি সরকার তথাকথিত আইএসকে দায়ী করলেও সাম্প্রতিকগুলোর ক্ষেত্রে সিরীয় কুর্দিদের যোগসাজশ থাকার কথা বলা হচ্ছে। যদিও সিরীয় কুর্দিরা তা অস্বীকার করে আসছে।

তুরস্ক পিকেকের পাশাপাশি এখন সিরিয়ান কুর্দিশ পপুলার প্রটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজি) মিলিশিয়াসহ সেটির রাজনৈতিক শক্তি ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টিকেও (পিওয়াইডি) হুমকি হিসেবে দেখছে।

দেশের অভ্যন্তরে সরকার ও পিকেকের মধ্যে সংঘাত বিরতি গত দুই বছরে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বাধছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক বাহিনীর অভিযান বাড়ানোসহ কুর্দি অধ্যুষিত শহর ও গ্রামগুলোতে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু এতে করে সিরীয় কুর্দিদের উত্থান ঘটছে। আর সিরীয় রণাঙ্গনে রাশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে তাদের লক্ষ্যও অভিন্ন। ফলে গত সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় রাশিয়ার হস্তক্ষেপে কেবল যুদ্ধের লক্ষ্যই পাল্টে যায়নি, মস্কো ও আঙ্কারার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েনও তৈরি করেছে। সিরিয়া সংঘাতে অনেক দিন ধরেই জড়িয়ে পড়েছে তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানই প্রথম প্রকাশ্যে সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অপসারণের আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সিরিজ সন্ত্রাসী হামলার পর তুরস্ক তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করবে। তবে তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুর্দি গ্রুপগুলোর কোমর ভেঙে দেওয়া। দেশটি এরই মধ্যে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষত্যাগীদের জোট ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদস্যদের সিরীয় আলেপ্পো প্রদেশে যেতে দিয়েছে। লক্ষ্য সরকারবিরোধীদের হাত শক্তিশালী করা।

কিন্তু বহুজাতিক সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের জন্য সমস্যা হলো, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়া গ্রুপের অগ্রযাত্রায় সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের চার্লস লিসটারের মতে, পিকেকের সঙ্গে যোগসাজশ থাকা কুর্দি গ্রুপের পক্ষে ওয়াশিংটনের সমর্থনের বিষয়টি ‘পুরোপুরি অস্বাভাবিক’। এ ছাড়াও তুরস্কের আরো বিপদের মধ্যে রয়েছে শরণার্থীর চাপ। এরই মধ্যে দেশটিতে আশ্রয় নিয়েছে সিরিয়ার প্রায় ২৫ লাখ গৃহহারা মানুষ। আর ইউরোপমুখী এই গৃহহারা মানুষদের ঢল ঠেকাতে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আশা করছে ইউরোপীয় নেতারা। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতাও হয়েছে। সূত্র : বিবিসি।


মন্তব্য