kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রক্ত ঝরার পাঁচ বছর

টুকরো হয়ে যাবে কি সিরিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



টুকরো হয়ে যাবে কি সিরিয়া

টানা পাঁচ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। আরো কয়েক লাখ মানুষ যাপন করছে শরণার্থীর জীবন।

অনিশ্চিত জেনেও এখনো অনেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে বিপত্সংকুল পথ পাড়ি দিচ্ছে। এসবের মধ্যে বিদ্রোহীরা শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি হলেও সিরিয়া সংকটের সমাধান নিয়ে রয়েছে নানামুখী মত।

২০১১ সালের ১৪ মার্চ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ছোটখাটো সরকারবিরোধী প্রতিবাদের রেশ ধরে দারা শহরে আরেকটা প্রতিবাদ কর্মসূচি, তারপর হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। পরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদা সহযোগী আল-নুসরা ফ্রন্টের উত্থানের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর আইএসসহ অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠী হটানোর আদলে সরকার বিরোধীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র ও পরে সরকারের সমর্থনে রাশিয়া সেখানে বিমান হামলা শুরু করে। সিরিয়ায় বিশ্বশক্তিগুলোর এহেন প্রবেশ ঘটলেও এখন তারা সবাই আলোচনার টেবিলে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ অবশ্য দাবি করে আসছেন, শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারকে ঘিরে আন্দোলন বড় হওয়ার ঘটনা বানানো। এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার। সম্প্রতি জার্মানির এআরডি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটেইনি। এটা স্রেফ প্রচারণা। ’ প্রেসিডেন্ট পদ আঁকড়ে থাকা আসাদ যা-ই বলুন না কেন, কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু আর উদ্বাস্তু হওয়ার পর বিশ্বশক্তিগুলো এক টেবিলে বসে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়। সর্বশেষ অগ্রগতি হলো, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সিরিয়ায় শুরু হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল আছে। আগামীকাল সোমবারের শান্তি আলোচনায় বিদ্রোহীরা অংশগ্রহণের আগ্রহ দেখিয়েছে। গত শুক্রবার তারা এ কথা জানায়। তবে সিরীয় সরকার গতকাল শনিবার বলেছে, আসাদের প্রেসিডেন্ট থাকা নিয়ে আলোচনা হলে তারা সেখানে যোগ দেবে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল মোয়ালেম বলেন, প্রেসিডেন্ট আসাদ জনগণের সম্পত্তি। এ নিয়ে কোনো আলোচনা চলবে না।

শান্তি আলোচনার ফল কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে একজন সিরীয় সাংবাদিকের অভিমত, ‘সিরিয়া কখনোই আগের মতো হবে না। আমার মনে হয় না, সিরিয়া এক থাকবে। ’ এক সময়ের সরকারবিরোধী আন্দোলনকর্মী ও বর্তমানে জার্মান প্রবাসী সাংবাদিক আমের মাতার সিরিয়া ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তো করছেনই, সেই সঙ্গে আসাদ সরকারের এত দিন টিকে থাকা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। সিরিয়া নিয়ে একই আশঙ্কা করছেন সেখানে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত রবার্ট ফোর্ড। অন্যদিকে কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশাল পিসের অনাবাসিক সহযোগী এবং সিরিয়া ইন ক্রাইসিসের সম্পাদক অ্যারোন ল্যুন্ড মনে করছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সিরিয়ার সব পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়ে যাবে। সূত্র : এপি, এএফপি।


মন্তব্য