প্রেসিডেন্ট পদে সু চির প্রার্থী-334539 | দেশে দেশে | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


প্রেসিডেন্ট পদে সু চির প্রার্থী বন্ধু কিয়াও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রেসিডেন্ট পদে সু চির প্রার্থী বন্ধু কিয়াও

অং সান সু চির সঙ্গে তিন কিয়াও। ফাইল ছবি

প্রায় ১৫ বছরের গৃহবন্দিত্ব শেষে অং সান সু চি যখন তাঁর বাড়ির সদর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন ঠিক তাঁর পাশেই ছিলেন তিন কিয়াও। নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যক্তি সেই মুহূর্তে দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে কল্পনা করতে পেরেছিলেন কি না, তেমন প্রশ্ন কিয়াওকে এখন করা যেতেই পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের নিম্ন্নকক্ষ থেকে কিয়াওকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে লড়াইয়ের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেল, সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছতে না পারা সু চি নিজে প্রেসিডেন্ট হতে পারছেন না।

পার্লামেন্টে সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কিয়াওয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ প্রায় নিশ্চিত। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের অপেক্ষা। ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করবেন। সেখানে তাঁকে আরো দুজন প্রার্থীর সঙ্গে এ পদের জন্য লড়তে হবে। তবে কবে এ ভোট অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো জানা যায়নি।

৬৯ বছর বয়সী কিয়াওকে মনোনয়ন প্রদান প্রসঙ্গে সু চি দলের ওয়েবসাইটে বলেন, ‘বিপুল উৎসাহ নিয়ে যে জনগণ এনএলডিকে ভোট দিয়েছে, তাদের প্রত্যাশা ও ইচ্ছা পূরণের পথে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ সু চির স্কুল জীবনের বন্ধু, অর্থনীতিতে গ্র্যাজুয়েট কিয়াও রাজনীতিতেও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা এ ব্যক্তি এক সময় সু চির ব্যক্তিগত গাড়িচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর বাবা মিয়ানমারের কিংবদন্তি কবি মিন থু উন নিজেও এনএলডির সদস্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সু চি ও তাঁর মনোনীত ব্যক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এনএলডির সমর্থকরা। মিয়ানমারের ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক থান্ত মিন্ত-উ বলেন, ‘আমি মনে করি, এ কাজের (প্রেসিডেন্ট) জন্য তিনি সম্ভবত সবচেয়ে যোগ্য। (সু চির প্রতি) তাঁর আনুগত্য প্রমাণিত এবং তা দীর্ঘদিনের।’

মিয়ানমারের সংবিধান অনুসারে, পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ থেকে একজন করে এবং পার্লামেন্টের সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে আরেকজন—এভাবে মোট তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। এই তিনজনের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন এবং বাকি দুজন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বহাল থাকবেন।

নিম্নকক্ষের জন্য গতকাল তিন কিয়াওকে মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চকক্ষের জন্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর পার্লামেন্ট সদস্য হেনরি ভান থিওকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এদিকে সু চি নিজে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় আসতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সেটা করলে তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি এখনো জান্তা প্রভাবিত নিরাপত্তা পরিষদে আসন পাবেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি তাঁর দলীয় পদ হারাবেন। আদতে যেটাই ঘটুক না কেন, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রেসিডেন্টের ওপরে থেকে সু চি নিজে দেশ পরিচালনার কথা বলে রেখেছেন আগেই। কেননা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি নিজে প্রেসিডেন্ট হতে পারছেন না।

সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য