kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

বলকান রুট বন্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বলকান রুট বন্ধ

স্লোভেনিয়া ও সার্বিয়া সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পর মেসিডোনিয়া শরণার্থীদের জন্য তাদের ভূখণ্ডে ঢোকা ‘পুরোপুরি বন্ধ’ করে দিয়েছে। এর ফলে বলকান রুট ব্যবহার করে পশ্চিম ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যাওয়ার প্রবাহ আরেক দফা রুদ্ধ হয়ে পড়ল।

গত সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইউরোপে আশ্রয়প্রত্যাশীদের গ্রিস থেকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আগামী ১৭ ও ১৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরবর্তী বৈঠকে গ্রিসে পা রাখা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ভাগ্য চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

এ অবস্থায় স্লোভেনিয়া ও সার্বিয়া মঙ্গলবার থেকে তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে। পরদিন বুধবার গ্রিসের প্রতিবেশী দেশ মেসিডোনিয়া অবৈধ আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমান্ত ‘পুরোপুরি বন্ধের’ ঘোষণা দেয়। তবে ‘মানবিক কারণে’ কিছু ছাড় দেওয়া হবে বলেও জানায় তারা। যদিও দেশটি আগে থেকেই কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। এর জেরে মেসিডোনিয়া-তুরস্ক সীমান্তে গতকাল পর্যন্ত কমবেশি ৩৬ হাজার শরণার্থী ও অভিবাসী আটকা পড়েছে। এত বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর চাপে বেকায়দায় পড়েছে গ্রিস।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর অবশ্য বলকান অঞ্চল দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশ বন্ধ করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে। সিরিয়ার চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের কারণে যারা ইউরোপে আশ্রয় নিতে চায় তাদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ থাকা উচিত বলে সংস্থাটি মনে করে। একই সঙ্গে তারা মনে করে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে আশ্রয়প্রার্থীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বেআইনি বিবেচিত হতে পারে। একই সুরে কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও।

ব্রাসেলসে সোমবারের সম্মেলনে তুরস্ককে গ্রিস থেকে শরণার্থীদের ফেরত নিতে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়াসহ তুর্কিদের জন্য ইউরোপের ভিসা সহজ করা এবং থেমে থাকা তুরস্কের ইইউর সদস্যপদের আলোচনা গতিশীল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত নভেম্বরে ইইউ ও তুরস্ক দুই পক্ষের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতাও হয়েছে।

তবে গ্রিস থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে আগের অঙ্গীকারের বাইরেও তিন বিলিয়ন ইউরো দাবি করেছে তুরস্ক। ইউরোপের শরণার্থী সংকটের সমাধানের প্রশ্নে দেশটি এখন অনেকাংশেই নিয়ন্তার ভূমিকায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে মূলত তুরস্ক হয়েই গ্রিসে প্রবেশ করছে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। সে কারণেই তুরস্কের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে শরণার্থী সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন ২৮ সদস্যের ইইউর নেতারা।

মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ জুংকার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ব্রাসেলস বৈঠকে এ সংকট নিরসনের পথে অনেকটাই অগ্রসর হওয়া গেছে।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলসহ ইইউর অন্যান্য নেতারাও মনে করছেন, ইইউ-তুরস্কের সমঝোতার মাধ্যমে শরণার্থী সংকটের সমাধানের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে।

সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য