প্রশ্ন অনেক, উত্তর নেই-333789 | দেশে দেশে | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


এমএইচ৩৭০ নিখোঁজের দুই বছর

প্রশ্ন অনেক, উত্তর নেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রশ্ন অনেক, উত্তর নেই

স্বজন হারানো মানুষের আর্তি—অনুসন্ধান যেন বন্ধ করা না হয়

দুই বছর আগে কুয়ালালামপুর থেকে পেইচিং যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমান এমএইচ৩৭০। আজও হদিস মেলেনি সেটির। ২৩৯ আরোহী নিয়ে বিমানটির হারিয়ে যাওয়ার একাধিক সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হলেও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার জানান, বিষয়টি এখনো রহস্যাবৃত। উত্তর মেলেনি এ-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর। এ দিনই পূর্ণ হয় বিমানটির নিখোঁজের দুই বছর।

সন্ত্রাসীদের টার্গেট হওয়া, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিধ্বস্ত হওয়া, বিমানের ক্যাপ্টেনই সেটিকে নিজের কবজায় নিয়ে ভারত মহাসাগরের গভীরে তলিয়ে দেন (আত্মহত্যা) অথবা যাত্রীদের মধ্যে কেউ বিমানটিকে হাইজ্যাক করে কিংবা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়াসহ সব ধরনের অনুমানই বিদ্যমান। অন্যদিকে সমানতালে চালানো হচ্ছে অনুসন্ধান। কিন্তু এখনো জানা যায়নি ঠিক কী ঘটেছিল বিমানটিতে, জানা যায়নি ২৩৯ জন আরোহীর ভাগ্যে কী ঘটেছে।

নিখোঁজ হওয়া যাত্রীদের স্বজনরা গতকাল ও আগের দিন কুয়ালালামপুর ও পেইচিংয়ে জড়ো হয় প্রিয়জনদের স্মরণে। এর মধ্যে এমন স্মরণানুষ্ঠানও  হয়েছে, যেখানে মঞ্চে বেজেছে গান আর তার সঙ্গে নাচ। হারিয়ে যাওয়া বোয়িং ৭৭৭ বিমানটির কোনো এক যাত্রী ভীষণ ভালোবাসতেন এই গান।

কুয়ালালামপুরের ওই অনুষ্ঠানে যারা এসেছে, তারা কেউই একে শোকাতুর সভা বা সমাবেশ বানাতে চায়নি। চোখ ছলোছলো অশ্রু আর দুঃখকাতর মন নিয়ে তারা একত্রিত হয় বটে। কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল একসঙ্গে বসে কিছু সময় হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের প্রিয় স্মৃতিগুলো রোমন্থন করা।

আয়োজকরা বলছেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্জি পৌঁছে দিতে চায়। সেটি হলো বিমানটির অনুসন্ধানের কাজ যেন কিছুতেই বন্ধ করে দেওয়া না হয়। প্রিয়জন হারানো স্বজনদের দাবিও এটাই।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকও গতকাল এক বিবৃতিতে জানান, ‘আমরা এখনো আশাবাদী যে এমএইচ৩৭০ খুঁজে পাব।’ যদিও তিনি বলেছেন, এ বছরের শেষ দিকে বিমানের অনুসন্ধানের কাজ হয়তো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এ অনুসন্ধানের জন্য বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে।

স্বজন হারানো মানুষের ভয়, যত দিন গড়াবে তাদের আকুলতার কথা সবাই আস্তে আস্তে ভুলে যাবে।

গেল সপ্তাহে মোজাম্বিকের সমুদ্রসৈকতে বিমানের একটি খণ্ডিত অংশের সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেটি হারিয়ে যাওয়া এমএইচ৩৭০-এর খণ্ডাংশ। এমএইচ৩৭০ নিখোঁজকে বিশ্বের বিমান যোগাযোগ শিল্পে সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা বলেই মনে করা হয়। ব্যবসায়িক সুনামের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে খারাপ ঘটনা হিসেবে একে চিহ্নিত করে অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। কারণ তারা তাদের প্রিয়জনকে শেষ বিদায়ও জানাতে পারেনি। অনেকেই বিশ্বাস করে না তাদের প্রিয়জনরা মারা গেছে। তাই যদি হয় তবে তাদের অপেক্ষা শেষ হবে কবে? ফিরে পাওয়ার আশা কি ছেড়ে দেবে? দিশেহারা বোধ করে তারা। এমনই একজন গ্রেস নাথান, তাঁর মা এ্যান ডেইজি ছিলেন এমএইচ৩৭০ বিমানে। নাথান বলেন, ‘আমরা আসলে স্তব্ধ হয়ে গেছি। প্রথম দেড় বছর তো আমি প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় ভাবতাম, ঘরে ঢুকেই দেখব মাকে দেখবো। কিন্তু এই অনুভূতিটা এখন আর আগের মতো প্রতিদিন হয় না। যদিও আমি এখনো প্রতি দিনই তাঁকে মিস করি। কিন্তু আমি কোনোভাবেই এটা মানতে পারি না যে মায়ের সঙ্গে আমার আর কোনোদিন দেখা হবে না।’

সূত্র : এএফপি, বিবিসি, সিএনএন।

মন্তব্য