kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাপানে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ নিয়ে বিতর্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



জাপান এয়ারলাইনের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরো তানজাওয়ার মায়ের লিমফোমা (এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার) ধরা পড়ে। এই রোগের চিকিত্সা চালাতে হয় আজীবন এবং তা খুবই ব্যয়বহুল।

এ অবস্থায় তানজাওয়ার ৮৪ বছর বয়সী মা চিকিত্সা না করানোর সিদ্ধান্ত নেন। সুতরাং তানজাওয়াকে মায়ের মৃত্যু দেখতে হয়। একটি নার্সিং হোমে মারা যান তাঁর মা।

তানজাওয়া জানান, মায়ের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নিজের মৃত্যু সম্পর্কে খুব একটা ভাবেননি। এ ঘটনার পর পরই তিনি নিজের জীবনের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটি হলো, যদি জীবন্মৃত অবস্থার মধ্যে পড়েন তিনি অথবা এমন রোগ দেখা দেয়, যাতে জীবনভর চিকিত্সা চালিয়ে যেতে হবে, তাহলে তিনি ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বেছে নেবেন।

৬৮ বছর বয়সী তানজাওয়া বলেন, “আমি মনে করি, মায়ের মৃত্যু সময়ের আগেই হয়েছে। তবে আমি এটাও ভাবি, ‘আহ্, এভাবেও মৃত্যুবরণ করা যায়’!” তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের বয়স বাড়ছে এবং আমাদের অবশ্যই মৃত্যুকে বাস্তবসম্মতভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। ’

জাপানে খুব দ্রুত হারে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তা সত্ত্বেও দেশটিতে ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ সম্পর্কে কোনো আইন নেই। নিজেকেই এর ব্যবস্থা করতে হয়। অথচ এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এবং কানাডা, বেলজিয়ামসহ কয়েকটি দেশে আইনসম্মত।

জাপানে তানজাওয়ার মতো ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর’ পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তবে উন্নত দেশের কাতারে থাকা জাপানের সরকারের ঋণের পরিমাণ অনেক। স্বাস্থ্য খাতেও বাড়ছে ব্যয়। এ অবস্থায় আমৃত্যু বয়স্কদের সেবাযত্নে বাঁচিয়ে রাখার প্রবণতা কমছে। এমনকি অনেক পরিবারের বিরুদ্ধে তাদের বয়স্ক সদস্যদের দায়িত্ব এড়ানোর অভিযোগও উঠছে।

স্বেচ্ছামৃত্যুর বিষয়ে গত বছর নতুন একটি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়। তবে এর বিরুদ্ধে অনেকেই সরব। বিশেষ করে প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় কর্মরত ব্যক্তিদের আশঙ্কা, আইনটি পাস হলে তা যন্ত্রণাহীন মৃত্যুকে (ইউথানেজিয়া) বৈধতা দেওয়ার পথের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে। সূত্র : রয়টার্স।


মন্তব্য