দেশ থেকে নয়, দেশের ভেতরে মুক্তি চাই-332242 | দেশে দেশে | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


জামিনে মুক্তির পর কানাইয়া

দেশ থেকে নয়, দেশের ভেতরে মুক্তি চাই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অন্তর্বর্তী জামিনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিহার জেল থেকে ছাড়া পেয়েই ছাত্রনেতা কানাইয়া কুমার মুক্তি সংগ্রামের ঢাক দিয়েছেন। কুড়ি দিন পরে বৃহস্পতিবার নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফিরে বিশাল ছাত্র সমাবেশে তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে মুক্তি নয়, দেশের ভেতরে মুক্তি চাই আমরা।’ তিনি স্লোগান তুললেন, ‘আজাদি পেটের জ্বালা থেকে, আজাদি দুর্নীতি থেকে।’

কানাইয়ার এ কথায় করতালিতে ফেটে পড়ে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্ররা। কানাইয়া এখানেই থেমে থাকেননি। সরাসরি বিজেপি এবং সংঘ পরিবারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘তোমরা আমাদের যত চাপা দেওয়ার চেষ্টা করবে, আমরা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠব।’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, “উনি ‘সত্যমেব জয়তে’ বলেন। সে কথা তো সংবিধানেই রয়েছে। আমরা তাই একই কথা বলি। উনি সব সময় ‘মন কি বাত’ বলেন, অন্য কারো মনের কথা শোনেন না।’ হাসি হাসি মুখে বিদ্রূপাত্মক ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, ‘উনি লোকসভায় স্তালিনের কথা বলছিলেন, ক্রুশ্চেভের কথা বলছিলেন। সেটা শুনে মনে হলো, স্ক্রিন ভেঙে টিভিতে ঢুকে তাঁর স্যুট ধরে জিজ্ঞাসা করি, একটু হিটলারের কথা বললেন না তো?’

বৃহস্পতিবার ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন কানাইয়া। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে ব্যাপকভাবে আলোচিত তাঁকে এক নজর দেখার জন্য এদিন বিকেল থেকেই ভিড় বাড়ছিল তিহার জেলখানার সামনে। মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশের তিনটি গাড়ি এসকর্ট করে তাঁকে পৌঁছে দেয় জেএনইউ ক্যাম্পাসে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই ক্যাম্পাসেই সাদা পোশাকের পুলিশ ঢুকে প্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট ও বাম সংগঠন এআইএসএফের নেতা কানাইয়াকে। এর পাঁচ দিন পর দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টের মধ্যে বিজেপি সমর্থক আইনজীবীরা তাঁকে বেদম মারধর করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবারই কানাইয়ার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ তদন্তকারী দলের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক সঞ্জয় কুমার তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন, কানাইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। কোনো সাক্ষী বা ভিডিও পাওয়া যায়নি, যার ভিত্তিতে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়। রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, সেদিনের ঘটনার যে সাতটি ভিডিও জমা পড়েছিল, দেখা গেছে তার তিনটি জাল।

রিপোর্টে কানাইয়াকে রেহাই দেওয়া হলেও আরেক ছাত্র উমর খালিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ রিপোর্ট বলছে, বেশ কিছু ভিডিওতে খালিদকে আফজল গুরুর সমর্থনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্য দুজন অনির্বাণ ও আশুতোষও সম্ভবত আফজলের সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছিলেন। ফলে তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র : দ্য হিন্দু।

মন্তব্য