kalerkantho


প্রথম পছন্দ পুলিশ ক্যাডার কেন?

চাকরির জন্য সাক্ষাত্কার। অম্লমধুর এক অভিজ্ঞতা। রায়হান রহমানকে ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি হওয়ার গল্প শুনিয়েছেন সিরাজগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমান বাদল

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




প্রথম পছন্দ পুলিশ

ক্যাডার কেন?

জানতে চেয়েছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক উপাদানগুলো কী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাজের কোনো সামঞ্জস্য রয়েছে কি না? সংবিধান থেকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল

 

 

তিনটি চাকরির ভাইভা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। আনন্দের বিষয় হলো তিনটি ভাইভায়ই টিকেছি এবং আমার চাকরিও হয়েছে। প্রথম ভাইভা দিয়েছিলাম জনতা ব্যাংকে অফিসার পদে। প্রথম ভাইভা বলে খুবই নার্ভাস ছিলাম। তবে নার্ভাসনেসটা কেটে যায় প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরই। প্রথম প্রশ্ন ছিল, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে ব্যাংকে কেন চাকরি করতে এসেছেন? উত্তরে বলেছিলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এমন একটি বিষয়, যা দেশের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। রাষ্ট্র পরিচালনার সব বিষয় এখানে শেখানো হয়। জনতা ব্যাংক যেহেতু একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, তাই আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হয়ে এতে কাজ করতে চাই। উত্তর শুনে সবাই খুশি হয়েছেন বুঝতে পেরে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। তারপরের সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিয়েছিলাম। চাকরিটি হলেও ব্যক্তিগত কারণে যোগদান করা হয়নি।

দ্বিতীয় ভাইভা দেওয়ার সুযোগ হয়েছিল সোনালী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে। আগেই একটি ভাইভার অভিজ্ঞতা থাকায় নির্ভার ও আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। প্রথমেই প্রশ্ন করেছিলেন, কেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছি? উত্তরে বলেছিলাম, এটি রাষ্ট্রের কার্যাবলি ও জনগণের অধিকার নিয়ে আলোচনা করে। রাষ্ট্র, সরকার, রাজনীতি বিষয়ে বিস্তর জানার সুযোগ রয়েছে বলেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছি। উত্তর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফের প্রশ্ন করা হয়, তাহলে ব্যাংকে কেন চাকরি করতে এসেছেন? তখন গুছিয়ে উত্তর দিয়েছিলাম, ব্যাংক চাঙ্গা রাখতে পারলে রাষ্ট্রের সব কিছুতে সামঞ্জস্যতা থাকবে। তাই আমি ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে আমার মেধা ও শ্রম দিতে চাই। তাঁরা উত্তর শুনে খুবই খুশি হয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন সামাজিক জীবনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের গুরুত্ব কতটুকু আছে, রাষ্ট্রের মূল উপাদান কয়টি? সবশেষে প্রশ্ন করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। সোনালী ব্যাংকে চাকরিটি হয়েছিল। যোগদান করে কয়েক মাস চাকরিও করেছি। তারপর ৩১তম বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় টিকে গেলে ভাইভার মুখোমুখি হই।

বিসিএসে বেশ লম্বা সময় ধরে ভাইভা নেওয়া হয়েছিল। প্রথমে আমার নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। পরে জানতে চেয়েছিলেন, প্রথম পছন্দ পুলিশ ক্যাডার কেন? উত্তর দিয়েছি, আমি সুশৃঙ্খল জীবন খুব পছন্দ করি। এ ছাড়া সাধারণ মানুষের খুব কাছ থেকে সেবা করার সুযোগ শুধু পুলিশ বাহিনীরই রয়েছে। তাই প্রথম পছন্দ পুলিশ ক্যাডার দিয়েছি। পরে আমার পড়াশোনার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক উপাদানগুলো কী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সংজ্ঞা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান আর পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কাজের কোনো সামঞ্জস্য রয়েছে কি না? সংবিধান থেকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল। জানতে চেয়েছিলেন, কতগুলো মৌলিক অধিকার রয়েছে সংবিধানে? জানতে চেয়েছিলেন আমার জেলা কোথায়? ময়মনসিংহ বলায় প্রশ্ন করেছিলেন, কাল যদি ময়মনসিংহকে দেশের রাজধানী ঘোষণা দেওয়া হয়, তোমার অনুভূতি কেমন হবে? আমি বলেছিলাম, ময়মনসিংহ অনেক বড় একটি শহর, যদিও একটি দেশের রাজধানী হওয়ার মতো সুযোগ-সুবিধা সেখানে নেই। তাই হঠাত্ এমন একটি ঘোষণায় খুশি হতে পারব না।

জেলার বিখ্যাত খাবারের নাম জানতে চেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ঠিকঠাক দিয়েছিলাম। তাঁরা উত্তর শুনে খুশি হয়েছিলেন। বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে যখন জানতে পারি, পুলিশ ক্যাডার পেয়েছি, বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। এই পেশাকে খুব উপভোগ করছি।

নতুনদের উদ্দেশে বলতে চাই, ভাইভা বোর্ডে প্রবেশের পরে ভুলে যেতে হবে ভয় নামক বিষয়টি। মনে রাখতে হবে, প্রচুর পড়াশোনা করেও ভাইভা বোর্ডে গুছিয়ে কথা বলতে না পারলে ধরে নেওয়া হবে আপনি কিছু জানেন না। তাই পড়ার সময় বলারও চর্চা করতে হবে। বন্ধুরা মিলে ভাইভা বোর্ড সাজিয়ে ইন্টারভিউ দিলে জড়তা কেটে যাবে।



মন্তব্য