kalerkantho


অস্ট্রেলিয়ায় নেতৃত্বে আবারও পরিবর্তন

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



অস্ট্রেলিয়ায় নেতৃত্বে আবারও পরিবর্তন

তামান্না মিনহাজ

অিস্ট্রেলিয়ার ৩০তম প্রধানমন্ত্রী হলেন ক্ষমতাসীন লিবারেল জোট সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী স্কট মরিসন। ম্যালকম টার্নবুলকে সরিয়ে তাঁর এ পদে আসা অনেকটাই আকস্মিক ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ায় হঠাৎ কেন প্রয়োজন পড়ল প্রধানমন্ত্রী বদলের? টার্নবুল নেতা হিসেবে ব্যর্থ ছিলেন? দলের সমর্থনই বা কেন হারালেন তিনি? এসব নিয়ে আলোচনা চলছে কয়েক দিন ধরেই।

 

টার্নবুলের ঘাটতি

ম্যালকম টার্নবুলকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে হটানোর নাটকীয়তা চলে প্রায় এক সপ্তাহ। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবটকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন টার্নবুল। আর এতে জিতে প্রধানমন্ত্রী পদও পেয়ে যান তিনি। সেই থেকে গত সপ্তাহের পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত ছিলেন টার্নবুল। বলা হয়ে থাকে, টার্নবুলের রাজনৈতিক কৌশল ভুল ছিল। তিনি মূলত ব্যবসায়ী। অ্যাবটের মতো দীর্ঘদিন রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। তার পরও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যাপক সমর্থন পান। সবাই আশা করেছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করবেন তিনি। শরণার্থী সংকট, মুসলিমবিদ্বেষ, অভিবাসননীতি, জলবায়ু পরিবর্তন—এজাতীয় সমস্যার ইতি টানবেন তিনি। আদতে তা হয়নি। দলের প্রভাবশালী নেতাদের কয়েকজনকে খেপিয়ে তোলেন তিনি। তাঁরা সব সময় টার্নবুলের বিরোধিতা করতেন। দিন দিন তাঁদের পাল্লা ভারী হয়েছে।

 

কী করে পরিবর্তন

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। বিভিন্ন জরিপে লিবারেল পার্টির সমর্থন কমছে। এরই মধ্যে হয়ে যাওয়া উপনির্বাচনে আটটি আসনে সরকারি দল জয় পায় মাত্র একটি। বাকি সাতটি আসনের চারটিতে জয় পায় প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি। উপনির্বাচনের ফলাফলের পর দলের নড়বড়ে অবস্থান টের পায় লিবারেল পার্টি। আর দোষটা সোজা গিয়ে পড়ে টার্নবুলের ওপর। তাঁর ব্যর্থ নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ আবারও সামনে আসে। শুরু হয় টার্নবুলের নানা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা। ১৩ আগস্ট পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে টার্নবুলের বিদ্যুত্নীতির জোরালো বিরোধিতা করেন অ্যাবট। তাঁর প্রতিবাদের মুখে এ নীতির বাস্তবায়ন থেমে যাওয়ার উপক্রম হয়। টার্নবুলের নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা যাবে না বলেই শঙ্কা লিবারেল পার্টির।

সাবেক অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটন আকস্মিকভাবে চ্যালেঞ্জ করে বসেন ম্যালকম টার্নবুলকে। এর পরের কয়েক দিনের ধাক্কাধাক্কির পর গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রিত্বের পরিবর্তন হয় দেশটির। আর এটি দেশটির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে, এমনটিই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

যেভাবে প্রস্থান

২৪ আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ ৪৩ জন সদস্যের স্বাক্ষরের মাধ্যমে অনাস্থা আসায় দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ম্যালকম টার্নবুল। সাবেক অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ এবং কোষাধ্যক্ষ স্কট মরিসন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন। ৪৫ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন স্কট মরিসন। শেষ দফায় ডাটন বিরোধিতা শুরু করলেও তিনি সহকর্মীদের সমর্থন জোগাড় করতে পারেননি।

নতুন প্রজন্মের মন্ত্রিসভা

স্কট মরিসন মন্ত্রিসভার শূন্য পদগুলোতে সমর্থকদের যেমন জায়গা দিয়েছেন, তেমনই টেনেছেন সমর্থকশিবিরের বাইরের নেতাদেরও। নবগঠিত এ মন্ত্রিসভাকে তিনি ‘নতুন প্রজন্মের’ মন্ত্রিসভা অ্যাখ্যা দিয়েছেন। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন পিটার ডাটন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মরিস পেইন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ এর আগেই পদত্যাগ করেন। বিশপ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তবে ভোট পেয়েছেন সবচেয়ে কম, মাত্র ১১টি। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী পদে জস ফ্রাইডেনবার্গ, পরিবেশমন্ত্রী পদে অ্যাঙ্গাস টেলর ও জ্বালানিমন্ত্রী পদে মেলিসা প্রাইস দায়িত্ব পেয়েছেন।

 

সামনে চ্যালেঞ্জ

মরিসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দলের মধ্যে যে বিভেদ তৈরি হয়েছে, তাতে জোড়া লাগানো। এ ক্ষেত্রে তাঁর পারঙ্গমতা হয়তো টার্নবুলকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে মরিসন বেশ রক্ষণশীল। তিনি সমকামী বিয়ে ও স্বেচ্ছামৃত্যুর পক্ষপাতী নন। তবে তিনি কঠোর অভিবাসননীতির পক্ষে। তাঁর ক্ষমতায় থাকার সময় সংক্ষিপ্ত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাত্র এক আসনের।

টার্নবুল অচিরেই পার্লামেন্ট থেকে সরে যাবেন বলে জানিয়ে রেখেছেন। তেমন কিছু হলে সিডনির তাঁর আসনটিতে উপনির্বাচন হবে। অঘটন ঘটলে পার্লামেন্টে যে একটি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এই জোটের রয়েছে, তা-ও থাকবে না। সে ক্ষেত্রে মরিসন আগাম নির্বাচন ডাকতে বাধ্য হবেন। অর্থাৎ নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনের পথ মসৃণ নয়। যেকোনো সময় হোঁচট খেতে পারেন তিনি।



মন্তব্য