kalerkantho


হতে চান জাহাজের ক্যাপ্টেন এয়ারক্রাফট পাইলট?

জাহাজের ক্যাপ্টেন, এয়ারক্রাফট পাইলট, নৌ কমান্ডো ও সাবমেরিনার (অফিসার ক্যাডেট) নেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২৭ মে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সানজিদ সাদ

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



হতে চান জাহাজের ক্যাপ্টেন এয়ারক্রাফট পাইলট?

২০১৯-এ ব্যাচে অফিসার ক্যাডেট চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আবেদন করতে পারবেন অবিবাহিত পুরুষ প্রার্থীরা। বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়েছে ৪ মের বাংলাদেশ প্রতিদিনে (পৃ-৬)। পাওয়া যাবে www.joinnavy.mil.bd ওয়েবসাইটে ও bit.ly/2rpyeSg লিংকে। ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করা যাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও।

 

আবেদনের যোগ্যতা

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে বয়স হতে হবে সাড়ে ১৬ থেকে ২১ বছরের মধ্যে। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ২৫ বছর। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আবেদন করতে পারবেন। জিপিএ থাকতে হবে ন্যূনতম ৪.৫০। উভয় পরীক্ষায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকতে হবে ন্যূনতম জিপিএ ৪.০০। ইংরেজি মাধ্যমের গণিত, পদার্থবিজ্ঞানসহ ও-লেভেল উত্তীর্ণদের ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টিতে ন্যূনতম এ গ্রেড ও ২টিতে বি গ্রেড থাকতে হবে। আর এ-লেভেল উত্তীর্ণদের ২টি বিষয়ে বি গ্রেড থাকতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের নৌবাহিনীর উচ্চমান পরীক্ষা (এইচইটি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সরবরাহ শাখায় আবেদন করতে পারবেন ব্যবসায় শিক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস প্রার্থীরা। জিপিএ লাগবে কমপক্ষে ৪.৫০। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় হিসাববিজ্ঞান এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে থাকতে হবে জিপিএ কমপক্ষে ৪.০০। আবেদন করতে পারবেন ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও।

পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দৈহিক উচ্চতা থাকতে হবে কমপক্ষে ১৬২.৫ সেন্টিমিটার বা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। ন্যূনতম ওজন হতে হবে ৫০ কেজি (উচ্চতা ও বয়স অনুসারে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নির্ধারিত স্কেল অনুযায়ী)। বুকের মাপ চাওয়া হয়েছে স্বাভাবিক অবস্থায় ৭৬ সেন্টিমিটার বা ৩০ ইঞ্চি এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৮১ সেন্টিমিটার বা ৩২ ইঞ্চি।

 

নির্বাচন প্রক্রিয়া

নৌবাহিনীর নির্বাচন প্রক্রিয়া ৫টি ধাপে হয়ে থাকে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক সাক্ষাত্কার, লিখিত পরীক্ষা, আইএসএসবি ও চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

 

প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক সাক্ষাত্কার

বাংলাদেশ নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, প্রথমে প্রার্থীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সাক্ষাত্কার পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ৪ থেকে ৭ জুন পরীক্ষা হবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা কেন্দ্রে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রার্থীর দৈহিক যোগ্যতা যেমন—উচ্চতা, ওজন, দৃষ্টিশক্তি, স্বাস্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা দেখা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার দিনই অংশ নিতে হয় প্রাথমিক সাক্ষাত্কারে। এতে দেখা হয় বাচনভঙ্গি, ইংরেজি দক্ষতা, সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান। ইংরেজিতে নিজের পরিচয় কিংবা বাংলাদেশ নৌবাহিনী সম্পর্কে জানতে চাওয়া হতে পারে।

 

লিখিত পরীক্ষা

প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সাক্ষাত্কার পর্বে উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ৮ জুন লিখিত পরীক্ষা হবে ইংরেজি, বুদ্ধিমত্তা ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর। সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসি লেভেলের প্রশ্ন হয়ে থাকে। ইংরেজি অংশে গ্রামার থেকে প্রশ্ন হয়। সাধারণত ফ্রেইজ অ্যান্ড ইডিয়মস, কারেকশন, ফিল ইন দ্য ব্ল্যাংক, পেয়ার অব ওয়ার্ড, ট্রান্সলেশন, প্যারাগ্রাফ, সেন্টেন্স মেকিং থাকে। বুদ্ধিমত্তা অংশে ভারবাল রিজনিং, প্রবলেম সলভিং, নিউমেরিক্যাল অ্যাবেলিটির ওপর প্রশ্ন হয়ে থাকে। সাধারণ জ্ঞান অংশে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে। আসতে পারে নৌবাহিনী সম্পর্কিত প্রশ্ন। তাই জেনে যেতে হবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধানের নাম, র‍্যাংকের ক্রমধারা, নৌবাহিনীর কার্যক্রম ইত্যাদি।

 

আইএসএসবি

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডাকা হবে আইএসএসবি (ইন্টার সার্ভিস সিলেকশন বোর্ড) পরীক্ষা ও সাক্ষাত্কারের জন্য। এ পরীক্ষায় প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, সামরিক বাহিনীতে অফিসার পদের যোগ্যতা আছে কি না, তা যাচাই করা হয়। ঢাকা সেনানিবাসে আইএসএসবি কেন্দ্রে থাকতে হয় চার দিন। প্রথম দিন সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়। প্রথমেই বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় দুটি অংশ থাকে—ভাষাগত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য। বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার পর পিকচার পারসেপশন অ্যান্ড ডেসক্রিপশন টেস্টে অংশ নিতে হয়। ছবি দেখে ইংরেজিতে একটি গল্প লিখতে হয় এবং এর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়। এরপর ফল ঘোষণা। টিকে যাওয়া প্রার্থীদের অংশ নিতে হয় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায়। এখানে বাংলা ও ইংরেজিতে বাক্য রচনা, বাক্য সম্পূর্ণকরণ, ছবি দেখে গল্প লিখন, অসম্পূর্ণ গল্প সম্পূর্ণকরণ ও আত্মসমালোচনা থাকে।

দ্বিতীয় দিন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দলগত আলোচনা, বক্তৃতা এবং শারীরিক সামর্থ্যের পরীক্ষা দিতে হয়। নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষাও। প্রার্থীর পরিবার, পাঠ্যপুস্তক, নিজের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করা হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রার্থীর সাহস, আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা, তাত্ক্ষণিক বুদ্ধি ইত্যাদি বিষয় যাচাই করা হয়।

তৃতীয় দিন প্রার্থীর প্ল্যানিং ও কমান্ড টেস্ট। এর মাধ্যমে প্রার্থীর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনার দক্ষতা যাচাই করা হয়ে থাকে। শেষ দিন সাধারণত কোনো পরীক্ষা দিতে হয় না। তবে কারো যোগ্যতার বিষয়ে নির্বাচকরা সন্দিহান হলে ফের ভাইভা নেওয়া হতে পারে। এদিন ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচকরা মিলে প্রার্থীদের তিন দিনের কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করে নির্বাচিত ও প্রত্যাখ্যাতদের তালিকা করেন। যারা উত্তীর্ণ হয় তাদের দেওয়া হয় গ্রিনকার্ড। আর যারা উত্তীর্ণ হতে পারে না, তাদের দেওয়া হয় রেড কার্ড। চার দিনের এই পরীক্ষার জন্য আপনাকে প্রস্তুতি নিয়ে যেতে হবে। আইএসএসবি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে www.issb-bd.org ওয়েবসাইটে।

 

চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মনোনয়ন

আইএসএসবিতে উত্তীর্ণদের চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে ঢাকা সেনানিবাসের বিএনএস হাজী মুহসীনে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পাবেন নৌবাহিনী সদর দপ্তরে চূড়ান্ত মনোনয়ন পর্ষদকে দেওয়া সাক্ষাত্কারের মাধ্যমে।

 

সুযোগ-সুবিধা

নিয়োগপ্রাপ্তরা সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। রয়েছে দেশে-বিদেশে সরকারি খরচে উচ্চতর প্রশিক্ষণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান, বিনা মূল্যে চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নানা সুবিধা।

 

যোগাযোগ

পরিচালক, পার্সোন্যাল সার্ভিসেস পরিদপ্তর, নৌবাহিনী সদর দপ্তর, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

ফোন : ০২-৯৮৩৬১৪১-৯, বর্ধিত-২২১৫

হেল্পলাইন : ০১৭৬৯৭০২২১৫


মন্তব্য