kalerkantho


কাজ করতে চাইলে খুলনা শিপইয়ার্ডে

শিপবিল্ডিং ফিটার ও ওয়েল্ডার পদে ১৬৪ জন লোক চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে খুলনা শিপইয়ার্ড। আবেদন করা যাবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কাজ করতে চাইলে খুলনা শিপইয়ার্ডে

বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড শিপবিল্ডিং ফিটার ও ওয়েল্ডার (আর্ক ও মিগ) পদে নিয়োগ দেবে। পদ দুটিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও পাওয়া যাবে সরকারি বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে ৯ মার্চের বাংলাদেশ প্রতিদিনে।

 

কাজের ধরন

জাহাজ তৈরির সময় যাবতীয় ফিটিংসের কাজ করতে হবে একজন ফিটারকে। জাহাজের মূল বডি বা স্ট্রাকচারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ করতে হবে তাঁকে। জাহাজের যাবতীয় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করতে হবে ওয়েল্ডারকে। ইলেকট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন অংশ যুক্ত করে জাহাজের পুরো অবকাঠামো গড়ার কাজ করতে হবে তাঁকে।

 

আবেদনের যোগ্যতা

অষ্টম শ্রেণি পাস হলেই আবেদন করা যাবে শিপবিল্ডিং ফিটার ও ওয়েল্ডার (আর্ক ও মিগ) পদে। করা থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ট্রেড কোর্স। বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া পদে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও আবেদন করা যাবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য। ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে প্রার্থীর বয়স থাকতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অভিজ্ঞ প্রার্থী, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

 

আবেদন ও পরীক্ষার সময়সূচি

আবেদন করতে হবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, খুলনা—এই ঠিকানা বরাবর। আবেদনপত্রে প্রার্থীর মোবাইল নম্বরসহ পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত থাকতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয় বা নাগরিকত্ব সনদ ও অভিজ্ঞতার সনদের সত্যায়িত ফটোকপি এবং সদ্যোতোলা রঙিন পাসপোর্ট সাইজের দুই কপি ছবি জমা দিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময় সব সনদের মূল কপি সঙ্গে নিতে হবে। আবেদনপত্র ২০ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সেকশন, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে পৌঁছাতে হবে। মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ২০ মার্চ আবেদনপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মূল ও সত্যায়িত কাগজপত্র নিয়েও সরাসরি উপস্থিত হওয়া যাবে।

 

পরীক্ষা পদ্ধতি

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান জানান, ফিটার ও ওয়েল্ডার (আর্ক ও মিগ) পদ দুটিতে প্রার্থী নির্বাচনে নির্ধারিত তারিখে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। উপস্থিত প্রার্থীদের পরীক্ষার সিরিয়াল নম্বরের জন্য ৫০ টাকা জমা দিতে হবে। 

প্রথমেই নেওয়া হবে ৫০ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বসতে হবে ২৫ নম্বরের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায়। চূড়ান্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নেওয়া হতে পারে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

 

পরীক্ষার প্রস্তুতি

এ দুটি পদে আগের নিয়োগ পরীক্ষার আলোকে মো. কামরুজ্জামান জানান, প্রার্থী বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয় কাজের অভিজ্ঞতাকে। তাই কাজ জানা প্রার্থীরাই অগ্রাধিকার পাবেন। ট্রেড কোর্স পাস নতুনরাও সুযোগ পাবেন। ব্যবহারিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রার্থীকে কাজের দক্ষতা দেখাতে হবে। বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হবে কাজ। কাজের মান ঠিক আছে কি না, দক্ষতার সঙ্গে কাজটা করতে পেরেছে কি না, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পেরেছে কি না, এসব দেখা হবে। তাই ব্যবহারিক পরীক্ষায় প্রার্থীদের মনোযোগসহকারে কাজ করে দক্ষতার প্রমাণ রাখতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের চোখের দৃষ্টি ঠিক আছে কি না তা দেখার জন্য করা হতে পারে প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষাও।

মো. কামরুজ্জামান জানান, একই দিন নেওয়া হবে মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষায়ও জানতে চাওয়া হবে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে। পদ অনুসারে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নই বেশি করা হয়। যেমন ফিটারদের কিভাবে, কোন সময়ে যন্ত্রাংশগুলো ফিটিং করতে হবে বা কত সময়ের মধ্যে কাজটা শেষ করতে হবে?

ওয়েল্ডার পদের জন্যও কাজ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বেশি প্রশ্ন করা হয়। ট্রেড কোর্স বা পড়াশোনার ওপরও প্রশ্ন করা হতে পারে। জানতে চাওয়া হতে পারে সাধারণ জ্ঞান বিষয়েও।

 

বেতন-ভাতা

পরীক্ষায় দক্ষতা যাচাই করে বেতন নির্ধারণ করা হবে। দৈনিক হিসেবে মজুরি দেওয়া হবে, দক্ষ কর্মীদের মাসিক বেতন পড়বে ১৫ হাজার টাকা ও আধাদক্ষদের বেতন পড়বে আট থেকে দশ হাজার টাকা। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুসারে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাওয়া যাবে।



মন্তব্য