kalerkantho


যেভাবে চাকরি পেলাম

বিতর্ক করায় সমসাময়িক জ্ঞান ভালো ছিল জুতসই একটি চাকরি বগলদাবা করা সহজ কর্ম নয়। রায়হান রহমানকে চাকরি পাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন সুনামগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিমুুল এহসান খান

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যেভাবে চাকরি পেলাম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়ার সুযোগ ছিল। ভর্তির উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছতেই দেখি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে যায়। এটি দেখে এ বিভাগে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। ভর্তি হই ইংরেজি সাহিত্যে। আমি বিতর্কপাগল মানুষ। সপ্তম শ্রেণি থেকেই যুক্ত আছি বিতর্কের সঙ্গে। অনেক পুরস্কারও পেয়েছি। নিয়মিত বিতর্ক করায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল, যা বিসিএসে সহায়ক হয়েছে। ৩৪তম বিসিএসে অ্যাডমিন ক্যাডারে টিকেও গেছি।

 

বিসিএস ক্যাডার হব—এটিই ছিল চূড়ান্ত লক্ষ্য। এ লক্ষ্যেই স্থির ছিলাম। ছাত্রজীবনে খণ্ডকালীন চাকরি করেছি। বিবিসি জানালায় কাজ করেছি। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারেও ছাত্র-ছাত্রী পড়িয়েছি। স্নাতক শেষে অফিসার পদে যোগ দিই সোনালী ব্যাংকে। বিসিএসের প্রস্তুতিতেই ব্যাংকের চাকরি হয়েছিল। ব্যাংকে চাকরির জন্য পরীক্ষার আলাদা প্রস্তুতি কিংবা পরিকল্পনা ছিল না। তখন হঠাত্ সার্কুলার চলে আসায় সোনালী ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা দিই। চাকরিটা পেয়েও যাই। তবে তখনো আমার লক্ষ্য ছিল, বিসিএস ক্যাডার হব।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিতাম। বিতর্কের সঙ্গে থাকায় আমার সমসাময়িক জ্ঞান ভালো ছিল। প্রতিদিন নিয়ম করে পত্রিকার সম্পাদকীয় ও অন্য কলামগুলো পড়তাম। বাংলা, ইংরেজি, গণিত প্র্যাকটিস করতাম। ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা ছিল। সাধারণ জ্ঞানেও জোর দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইদের সঙ্গে বসে বসে পড়তাম। জানার চেষ্টা করতাম বিসিএসের জন্য কোন টপিকগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

 

আমার এখনো স্পষ্ট মনে আছে, বিসিএস লিখিত পরীক্ষার শেষ পরীক্ষার আগের পরীক্ষাটি হয়েছিল রবিবার। সেদিন একসঙ্গে দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। রবিবারের আগে শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকায় ভেবেছিলাম, এ দুই দিন মন দিয়ে পড়ব। কিন্তু হঠাত্ করেই চট্টগ্রামে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। আগেই বলেছি, আমি বিতর্কপাগল মানুষ। বিতর্ক প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তাই ভালো করে পড়া হয়নি। রবিবার সকালে ছিল বাংলা প্রথম পত্র, বিকেলে দৈনন্দিন বিজ্ঞান। তিন ঘণ্টা করে একেকটি পরীক্ষা। মধ্যখানে কিছু সময় থাকে বিরতি। পরে শুরু হয় দ্বিতীয় পরীক্ষা। বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ করলাম। যাতে দ্বিতীয় পরীক্ষার আগে কিছুটা হলেও পুরনো পড়াগুলো ঝালিয়ে নিতে পারি। দ্রুত লিখলেও টু দ্য পয়েন্ট লিখেছি।

 

অনেকের ধারণা, ১৮-২০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতে হয় বিসিএসে টেকার জন্য—বিষয়টি এমন নয়। নিয়ম করে কৌশলী হয়ে প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা পড়াশোনা করলেই হয়। আমি তেমনটিই করেছি। লিখিত পরীক্ষায় টিকে যাওয়ায় ছিলাম ফুরফুরে মেজাজে। আর সেই চাঙ্গা ভাবটিই কাজে দিয়েছে মৌখিক পরীক্ষায়। আমাকে রাখা হয়েছিল প্রায় ৩০ মিনিট। বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন বেশি করেছিল। কেন অ্যাডমিন ক্যাডার হতে চাই, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, অরুণাচল প্রদেশ ও নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেছিলাম, ‘আউটস্ট্যান্ডিং রিলেশনশিপ বিটুইন টু কান্ট্রিস।’ আমার উত্তর শুনে ভাইভা বোর্ডের একজন সদস্য রেগে গেলেন। বললেন, ‘যদি এতই ভালো সম্পর্ক, তাহলে তারা আমাদের পানি দিচ্ছে না কেন?’ তখন আমি বলেছিলাম, ‘প্রতিটি দেশই তার ন্যায্য প্রাপ্যটুকু আদায় করে অন্যের কথা চিন্তা করবে। আর এসব ক্ষেত্রে সাধারণত এক দেশ অন্য দেশকে ছাড় দিতে চায় না। পানি দিচ্ছে না বলে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খারাপ, তেমনটি নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে।’ তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে এসেছিলেন। তাই বলেছিলাম, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন, পানির সমস্যা দ্রুতই সমাধান হবে আশা করি।’ আমার উত্তরে তাঁরা সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। পরে বুঝতে পেরেছিলাম, তিনি আমাকে কনফিউজড করার জন্য এমনটি বলেছিলেন।

 

চাকরিতে যোগদানের আনন্দ, আমি উপভোগ করতে পারিনি। মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ব্যাংকে চাকরি করেছি। ৩১ তারিখ রাতে গাড়িতে উঠে পরদিন সকালে পৌঁছে সহকারী কমিশনার পদে যোগ দিই। এখন ভাবতেই ভালো লাগে, স্বপ্নটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এখানে কাজের অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। প্রতিদিনই নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। কাজ করেও আনন্দ পাচ্ছি।
উপসহকারী প্রকৌশলী  নেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়


মন্তব্য