kalerkantho


কাজ করতে চান পাওয়ার গ্রিডে?

বিভিন্ন পদে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ২০৬ জন নিয়োগ দেবে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রায়হান রহমান

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কাজ করতে চান পাওয়ার গ্রিডে?

মডেল : মৌ, লিটু ও কথা। ছবি : তুষার কান্তি দাশ

এক বছরের শিক্ষানবিশকালসহ পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ। সহকারী প্রকৌশলী পদে সাধারণ কোটায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ডিসিপ্লিনে ১৯ জন, সিভিলে ৪ জন, মেকানিক্যালে ৩ জন নেওয়া হবে। একই পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ডিসিপ্লিনে ১৩ জন, সিভিলে ৬ জন, মেকানিক্যালে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ইলেকট্রিক্যাল ডিসিপ্লিনে ৯২ জন, ইলেকট্রনিকসে ৮ জন, সিভিলে ৩০ জন, মেকানিক্যালে ১৫ জন ও কম্পিউটারে নেওয়া হবে ৫ জন। এ ছাড়া পিজিসিবি পরিচালিত উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১ জন ও সহকারী শিক্ষক (বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ বিজ্ঞান, ইসলামী শিক্ষা, চারু-কারু, ব্যবসায় শিক্ষা) পদে ৭ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জুনিয়র শিক্ষক পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রকৌশলীরা কাজ করবেন পিজিসিবির বিভিন্ন প্রজেক্টে। আবেদন করা যাবে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত। বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে  http://bit.ly/2By6qSr লিংকে।

আবেদনের যোগ্যতা

পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার আবুল খায়ের চৌধুরী জানান, সহকারী প্রকৌশলী পদে যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস, সিভিল বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হতে হবে। উপসহকারী প্রকৌশলী পদের জন্য যেকোনো স্বীকৃত পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, সিভিল, মেকানিক্যাল অথবা কম্পিউটার টেকনোলজিতে ন্যূনতম ডিপ্লোমা থাকতে হবে। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের যোগ্যতা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। সঙ্গে লাগবে বিএড অথবা এমএড এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। সহকারী শিক্ষক পদের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। সঙ্গে লাগবে বিএড। স্নাতক হলেই আবেদন করা যাবে জুনিয়র শিক্ষক পদে। শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় বিভাগ থাকলে আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারী গ্রেডিং সিস্টেমে পাস করলে ৫.০ স্কেলে কমপক্ষে সিজিপিএ ৩.৫ এবং ৪.০ স্কেলে জিপিএ ২.৫ থাকতে হবে। ডিভিশন সিস্টেমে কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে। সব পদের জন্য কম্পিউটার ব্যবহার জানা বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞপ্তির ১ থেকে ৩ নম্বর পদের প্রার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি বলা ও লেখায় দক্ষ হতে হবে। ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে সহকারী প্রধান শিক্ষকের জন্য বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর। অন্য সব পদের জন্য বয়সসীমা ৩০ বছর। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩২ ও বিভাগীয় প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪০ বছর।

আবেদনের নিয়ম

আবেদন করা যাবে ২৬ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদনপত্র পাওয়া যাবে http://pgcb.teletalk.com.bd বা www.pgcb.org.bd ওয়েবসাইটে। নির্দেশনা অনুসারে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে অনলাইনে। নির্ধারিত স্থানে আপলোড করতে হবে জেপিজি ফরম্যাটের ছবি ও স্বাক্ষর। ৩০০ বাই ৩০০ পিক্সেলের ছবির সর্বোচ্চ সাইজ হবে ১০০ কেবি। ৩০০ বাই ৮০ পিক্সেলের স্বাক্ষরের সর্বোচ্চ সাইজ হবে ৬০ কেবি। আবেদন সাবমিটের আগে কোনো ভুল তথ্য আছে কি না দেখে নিতে হবে। পরে ইউজার আইডি, ছবি ও স্বাক্ষরসহ অ্যাপ্লিকেন্টস কপি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে হবে।

পরীক্ষার ফি বাবদ সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে লাগবে ১০০০ টাকা। সহকারী শিক্ষক (মাধ্যমিক ও প্রাথমিক) পদে লাগবে ৭০০ টাকা। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফি পরিশোধ করতে হবে। এর জন্য যেকোনো টেলিটক প্রিপেইড নম্বর থেকে PGCB<space>User ID লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। ফিরতি এসএমএসের নির্দেশনা অনুসারে তথ্য দিয়ে আবার এসএমএস করলেই পরিশোধ হয়ে যাবে পরীক্ষার ফি। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী বা পাওয়ার সেক্টরের প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদন কপির প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমা দিতে হবে জেনারেল ম্যানেজার, পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ লি., আইইবি ভবন (নতুন), ৮/এ, রমনা, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায়।

প্রবেশপত্র ও পরীক্ষার সময়

পরীক্ষার সময় ও স্থান প্রার্থীদের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ইউজার আইডি ব্যবহার করে ডাউনলোড করা যাবে প্রবেশপত্র। পিজিসিবি ওয়েবসাইট (www.pgcb.org.bd) থেকেও জানা যাবে পরীক্ষার সময়সূচি।

পরীক্ষার ধরন ও প্রস্তুতি

আবুল খায়ের চৌধুরী জানান, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হবে। লিখিত পরীক্ষায় থাকবে ১০০ নম্বর। এমসিকিউ বা শর্ট টাইপের প্রশ্ন হতে পারে। সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রশ্ন করবেন বুয়েটের শিক্ষকরা। তাই দেখতে হবে বুয়েটের করা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন। পদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন হবে বেশি। সঙ্গে থাকবে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান। দেখতে হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক। পদ অনুসারে প্রশ্ন হবে আলাদা। পাওয়ার গ্রিডের বিগত সালের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলা ব্যাকরণ অংশে সন্ধিবিচ্ছেদ, সমাস, প্রত্যয়, কারক-বিভক্তি, ভুল সংশোধন ও শুদ্ধকরণ, এককথায় প্রকাশ, ণত্ব-বিধান, ষত্ব-বিধান, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বাগধারা; সাহিত্য অংশে বিভিন্ন গল্প, কবিতা বা লেখকের নাম ও জীবনী থেকে প্রশ্ন বেশি আসে। ইংরেজিতে সাধারণত Sentence, Narration, Voice Change, Correct From of Verbs, Suffix-Prefix, Translation, Pronunciation, Synonym-Antonym, Transformation of Sentence, Appropriate Word, Appropriate Preposition, Idioms and Phrases থেকে প্রশ্ন আসে।

গণিতে সাধারণত শতকরা, সুদকষা, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, সমানুপাত, লসাগু-গসাগু, লাভ-ক্ষতি, ভগ্নাংশ, উত্পাদক, সূচক, লগারিদম, বীজগণিতীয় সূত্র থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। জ্যামিতি অংশ থেকে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বৃত্ত, রেখা, কোণ, ক্ষেত্রফল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।

সাধারণ জ্ঞান থেকে প্রশ্ন থাকে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে। বাংলাদেশ বিষয়ে ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষায়। মৌখিক পরীক্ষায় থাকবে ৩০ নম্বর। তার মধ্যে কম্পিউটার টেস্ট ও শিক্ষা সনদের ওপর থাকবে ২০ নম্বর। মৌখিক পরীক্ষায় প্রার্থীর পদসংশ্লিষ্ট জ্ঞান পরখ করে দেখা হবে।

বেতন ও সুযোগ-সুবিধা

সহকারী প্রকৌশলী পদে অষ্টম গ্রেড অনুসারে বেসিক বেতন ৫০০০০ টাকা। উপসহকারী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে দশম গ্রেড অনুসারে বেসিক বেতন ৩৫০০০ টাকা। সহকারী শিক্ষক পদে বেসিক বেতন ২৫০০০ টাকা এবং জুনিয়র শিক্ষক পদে ২৩০০০ টাকা। সব পদেই বেসিক বেতনের সঙ্গে বাসাভাড়া, চিকিত্সাভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে স্কেল অনুসারে। সঙ্গে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রুপ ইনস্যুরেন্স, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, গ্রাচুইটি তো থাকছেই।

যোগাযোগ

নিয়োগসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) ভবন (নতুন), ৮/এ, রমনা, ঢাকা-১০০০ ঠিকানায়। জানা যাবে www.pgcb.org.bd ওয়েবসাইট থেকেও। ফোন করা যাবে ৯৫৫৩৬৬৩, ৯৫৫০৫১৪, ৯৫৬০০৬৪ ও ৯৫৫৮০৪৫ (বর্ধিত ৩৪২, ৩৪৬, ১৬৯, ১৬৬) নম্বরে।


মন্তব্য