kalerkantho

দি ইন্টারন্যাশনাল ফিজিকস কম্পিটিশন

শাবিপ্রবির সাফল্যের গল্প

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধানে পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক টিম। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গড়া টিম অর্জন করে রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পদক। তাঁদের সাফল্যের গল্প শোনাচ্ছেন মোয়াজ্জেম আফরান। ছবি তুলেছেন জুবায়ের মাহমুদ

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শাবিপ্রবির সাফল্যের গল্প

ফ্যাকাল্টি স্পন্সরের সঙ্গে রৌপ্য বিজয়ী দলের দুই সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারোল কলেজের অধ্যাপক কেলি এস ক্লিনের পরিচালনায় এবং ইউনিভার্সিটি অব উইনিপেগসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর অনলাইনভিত্তিক পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘দি ইন্টারন্যাশনাল ফিজিকস কম্পিটিশন’ অনুষ্ঠিত হয়। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক টিম অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পেপার উপস্থাপন করে ২৮১টি টিম। এ বছরের ২২ জানুয়ারি প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করে আয়োজকরা। এতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি টিম অংশ নিলেও বাজিমাত করে ‘টিম-৪১৩’ ও ‘টিম-৩৯৬’। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দুই শিক্ষার্থী নওশের জাহান পারভেজ ও আবরার নাফি রৌপ্য পদকজয়ী ‘টিম-৪১৩’-এর সদস্য। ২০১৭ সালে এই টিম প্রতিযোগিতায় প্রথম অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল। এই দলের ‘ফ্যাকাল্টি স্পন্সর’ ছিলেন সহকারী অধ্যাপক পঙ্কজ কুমার দাস।

অন্যদিকে একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের তিন শিক্ষার্থী মামুনুর রশীদ, সোলায়মান হোসাইন ও তরিকুল ইসলাম রাজু। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই তাদের ‘টিম-৩৯৬’ জিতে নেয় ব্রোঞ্জ পদক। এই দলের ‘ফ্যাকাল্টি স্পন্সর’ ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক।

নাফি ও নওশের জানান, প্রতিযোগিতাটি ওপেন বুক এক্সামের মতো। পদার্থবিজ্ঞানবিষয়ক দুটি প্রশ্ন দেওয়া হয়। যেকোনো একটি সমস্যার সমাধান করতে হয়। সময় ৪৮ ঘণ্টা। এরই মধ্যে সমস্যার সমাধান করতে যেকোনো বই, রিসার্চ পেপার বা ইন্টারনেটের সহযোগিতা নেওয়া যায়। তবে টিম মেম্বারের বাইরে অন্য কারো সহযোগিতা নেওয়া যায় না।

প্রতিযোগিতায় তাঁরা কম্পোসড পাইল ডিজাইনের সমস্যার সমাধান করেছেন। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে নাফি বলেন, ‘আমাদের গৃহস্থালির আবর্জনার স্তূপই কম্পোসড পাইল। এটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুত্ উত্পাদনসহ নানা কাজে লাগানো যায়। তবে এ ক্ষেত্রে কম্পোসড পাইলের মধ্যে ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রা সংরক্ষণ করতে হয়। পাইল যত বড় হবে, তাপমাত্রা তত বৃদ্ধি পেয়ে অক্সিজেন সরবরাহ কমতে থাকে। অক্সিজেন কমে গেলে রিঅ্যাকশন রেট কমে যায়। আমরা এমন একটি কম্পোজড পাইল ডিজাইন করেছি, যেন এর তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রির কাছাকাছি রেখে থাকে এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়।’

ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মামুন, সোলায়মান ও রাজু তাঁদের সমাধানকৃত প্রশ্নটি সম্পর্কে জানান, লেজার লাইটের মাধ্যমে একটি ন্যানো স্পেস ক্র্যাফট পাঠাতে হবে পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র ‘আলফা সেঞ্চুরি’তে। পৃথিবী থেকে এটির দূরত্ব ৪.২ আলোকবর্ষ। এ ক্ষেত্রে স্পেস ক্র্যাফটের গতি হবে আলোর গতির ২০ শতাংশ।

মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতে স্বর্ণ জয়ের আশা রাখেন নাফি। তিনি বলেন, ‘এ জন্য পদার্থবিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রগ্রামিং ও গণিতে আমাদের আরো দক্ষ হতে হবে।’ অন্যদিকে নওশের ভবিষ্যতে নিউক্লিয়ার ফিজিকস নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী।

ব্রোঞ্জ পদকজয়ী সোলায়মান পদার্থের যেসব তত্ত্বের এখনো সমাধান হয়নি, সেগুলো নিয়ে তিনি কাজ করতে চান। অপর দুই সদস্য মামুনুর রশীদ ও তরিকুল ইসলাম রাজুও পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ পদকজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে যেন দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।’

মন্তব্য