kalerkantho


খুদে টেবিল টেনিস তারকা

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



খুদে টেবিল টেনিস তারকা

টেবিল টেনিসে তার অনেক পুরস্কার। এর সঙ্গে আবার  নাচ, গান ও অভিনয়েও কম যায় না। নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মৌয়ের গল্প শোনাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

 

২০০৯ সালে যখন কেজিতে পড়ে, তখন প্রথম টেবিল টেনিস ক্লাবে যায় সাদিয়া। তখন থেকেই গুটি গুটি খেলা শুরু। খুদে ব্যাট আর বলের প্রতি তৈরি হতে থাকে অন্যরকম আকর্ষণ। এখন সাদিয়ার লক্ষ্য একটাই—ক্রিকেট, ফুটবলের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেবিল টেনিসেও দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনা।

অবাক করা বিষয় হলো, কেজিতে পড়ার সময়ই প্রথম জাতীয় টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পায় ও। পরে আবার সুযোগ পেয়েছিল ২০১০-এ। কিন্তু কোনো পুরস্কার জিততে পারেনি সেবার। আক্ষেপটা রয়েই যায়। ২০১১ সালে জেতে প্রথম পুরস্কার পায়। এবি ব্যাংক ৩২তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় মহিলা বিভাগে দলগত চতুর্থ। পরের অর্জন ২০১৪ সালে। মাঝখানে দু-বছরও কোনো পুরস্কার জেতেনি। নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করার একটা জেদ চেপে যায় তখন।

সাউথ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা ২০১৪-তে বালিকা বিভাগে দলগত রানার্স-আপ এবং দ্বিতীয় জাতীয় জুনিয়র টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা ২০১৪-তে বালিকা এককে রানার-আপ হয়। ২০১৫ সালে প্রথম জাতীয় টেবিল টেনিস সিনিয়র দলের হয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায়। অংশগ্রহণ করে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট ২০১৫-তে। এ পর্যন্ত পাঁচবার বিদেশে টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে সাদিয়া।

৪৫তম জাতীয় স্কুল ও মাদরাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে বালিকা বিভাগে একক চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৬-তে দ্বিতীয়বার বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পায়। ১২তম সাউথ এশিয়ান গেমস ২০১৬-তে অংশ নেয় এবং দলগত ইভেন্টে বাংলাদেশের পক্ষে ব্রোঞ্জ পদক পায়। শুধু তা-ই নয়, সাউথইস্ট ব্যাংক ৩৬তম জাতীয় সিনিয়র টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে তৃতীয় স্থান লাভ করে। শেখ রাসেল স্কুল টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা ২০১৬-তে হয় দলগত চ্যাম্পিয়ন। চীনের উক্সিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়ান টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট ২০১৭-তে অংশগ্রহণ করে। চীনের টুর্নামেন্টে কাতারের সঙ্গে দলগত খেলা ছিল। খেলাটি ছিল সিনিয়দের এবং সাদিয়া সিনিয়র ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার হিসেবেই এতে অংশগ্রহণ করে। ওই ম্যাচে জিতেছিল ও। তবে ম্যাচটা যে জিতে যাবে ভাবেনি। ‘জেতার পর খুব আনন্দ লেগেছিল, অবশ্য খেলেছিলামও ভালো।’ বলল সাদিয়া।

একই বছর সুযোগ হয় শ্রীলঙ্কা যাওয়ার। সাউথ এশিয়ান জুনিয়র অ্যান্ড ক্যাডেট টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন ২০১৭-তে বাংলাদেশ থেকে ছেলেরা বাদে মেয়েদের মধ্যে সে একাই ছিল। সাদিয়া ৩৭তম জাতীয় সিনিয়র টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৭-তে মহিলা দলগত চ্যাম্পিয়ন হয়। এভাবে টেবিল টেনিসেই তার পুরস্কারের সংখ্যাটা হাফ সেঞ্চুরি ছাড়িয়েছে। সাদিয়ার কাছে খেলা নিয়ে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা শুনতে চাইলে সে জানায়, ‘২০১৭ সালে ফেডারেশন কাপে আমরা আবাহনীর হয়ে খেলেছিলাম। ফাইনালে পৌঁছানোর পর বেশ টেনশন হচ্ছিল। কারণ প্রতিপক্ষ ছিল অনেক শক্তিশালী। ঠিক করি, সেরাটা দিয়ে খেলব। সেভাবেই চেষ্টা করি আর অনেকটা অভাবনীয়ভাবেই আমি জয়ী হই। অনেক ভালো খেলেছিলাম, যা আমি নিজেও আশা করিনি। আমার পার্টনারও নিজের গেমটা ভালোভাবেই জিতেছিল। এভাবেই আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করে দিলাম।’ ৪৬তম জাতীয় স্কুল ও মাদরাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৭-এ বালিকা দ্বৈতেও চ্যাম্পিয়ন হয় ও।

একটি স্মরণীয় ঘটনা জানতে চাইলে সাদিয়া বলে, ‘২০১৭ সালের কথা। ২৮ অক্টোবর আমার জন্মদিন ছিল। তখন আবার সিনিয়র জাতীয় টুর্নামেন্ট চলছিল। ২৭ অক্টোবর হয়েছিল মহিলা দলগত ইভেন্টের ফাইনাল খেলা এবং সেটিতে আনসার (সাদিয়া যে দলে খেলেছিল), মানে আমরা চ্যাম্পিয়ন হই। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে আমার পারফরম্যান্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কারণ আমি ওই টুর্নামেন্টে অনেক ভালো খেলি। পরদিন ২৮ অক্টোবর আমার জন্মদিন উপলক্ষে ছয়টি কেক আনা হয়। আমাদের ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের ইচ্ছায় এর ব্যবস্থা করেছিলেন বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ টি এম শামসুল আলম (আনু) আংকল। আমি তো দেখে পুরোই অবাক। ওই দিনের কেক কাটার ছবি জাতীয় দৈনিকে ছাপা হয়, স্বাভাবিকভাবেই এটা ছিল আমার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন।’

অবসরে সাদিয়া অভিনয়, নাচ ও গানের চর্চা করে। নাচে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছিল কয়েকবার। বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আর টেবিল টেনিসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চায়। এক ফাঁকে জানিয়ে রাখল, এতসব অর্জনের পেছনে মূল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন একজনই, তিনি আর কেউ নন, সাদিয়ার মা।



মন্তব্য