kalerkantho


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটির আয়োজন

বঙ্গবন্ধুকে লেখা প্রতীকী চিঠি

মীর হুযাইফা আল মামদূহ   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুকে লেখা প্রতীকী চিঠি

৩০ আগস্ট ২০১৮। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল সোসাইটির আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধুকে চিঠি লেখার প্রতিযোগিতা ২০১৮’র পুরস্কার বিতরণ। জাতির জনকের প্রতি লেখা প্রতীকী চিঠি প্রতিযোগিতার এ সমাপনী আয়োজন। বিকেল ৪টায় শুরু হলো অনুষ্ঠান। মিলনায়তনে ঢুকতেই চোখে পড়ল বেশ প্রাণবন্ত পরিবেশ। কৌতূহল মেটাতে আলাপ করলাম সোসাইটির সভাপতি রাগিব রহমানের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘প্রতিবছর আগস্ট মাসে আমরা জাতির জনক স্মরণে নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকি। বঙ্গবন্ধু এ প্রজন্মের অন্তরে বেঁচে থাকুন—এ আমাদের চাওয়া। এবার প্রতীকী চিঠি লেখার আয়োজন করেছি মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, চিঠি লেখার চল বলতে গেলে এখন বিলুপ্তপ্রায়। এই হারাতে বসা ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ছিল আমাদের। আর দ্বিতীয়ত, বঙ্গবন্ধুর প্রতি এ প্রজন্মের আবেগ ঠিক কেমন—সেটি বোঝার চেষ্টা আমরা করেছি।’

আরো জানা গেল, চিঠি আহ্বান করা হয়েছিল দুটি বিভাগে। ‘ক’ বিভাগ স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের জন্য; ‘খ’ বিভাগে কলেজ শেষ শিক্ষার্থীরা করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সাড়া পাওয়া গিয়েছিল বেশ। জমা পড়া পাঁচ শতাধিক চিঠি থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ৭০টির মতো চিঠি তুলে দেওয়া হয়েছিল বিচারকের দায়িত্ব পালন করা সাংবাদিক আবু সাঈদ খানের কাছে। তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে ফল নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন আয়োজকদের।

রাগিবের সঙ্গে চলতে থাকা আলাপের মাঝেই খেয়াল করলাম, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) নাসরিন আহমাদ। বিশেষ অতিথি লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মফিজুর রহমান এবং ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন কেন্দ্রের উপদেষ্টা ড. সৌমিত্র শেখর। আয়োজনে সভাপ্রধানের দায়িত্ব সামলিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল সোসাইটির মডারেটর সহযোগী অধ্যাপক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী।

দুটি বিভাগ থেকে মোট ১১ জনকে করা হয়েছে পুরস্কৃত। পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বই, ক্রেস্ট ও সনদ। এর আগে বক্তৃতায় আবু সাঈদ খান জানান, ‘প্রায় ৭০টি চিঠি পড়তে পড়তে আমার মনে হয়েছে, যেন কোনো দলিল পড়ছি। আমাদের কালের চিঠির ভাষা থেকে বদলে এরা নিজেদের ভাষায় লিখেছেন—এটা আনন্দের।’ অধ্যাপক মফিজ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে চিঠি লেখা এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। এসব চিঠি লিখতে গেলে কিছুটা অধ্যয়ন করতে হয়, আর তা আমাদের নিয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর আরো কাছাকাছি।’

আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল সেরা তিনটি চিঠির পাঠ। আমি তন্ময় হয়ে শুনছিলাম, একটি চিঠিতে লেখা—‘আজ দুঃখ ভরাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাকে লিখতে বসেছি। গতকাল ৪ আগস্ট শনিবার, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছে, প্রিয় বঙ্গবন্ধু। অধিকাংশ বাঙালি চেতনায় আর বেঁচে নেই! তবু আপনি, বঙ্গবন্ধু বেঁচে আছেন আজও। আজ আমরা বাঁচতে চাই। আপনি ফিরে আসুন। আপনার দেহ না হোক, ফিরে আসুন আমাদের চেতনায়, মননে...।’



মন্তব্য