kalerkantho

টিফিন আওয়ার

মদন যাদবের স্কুল

ভারতের বিহারের প্রত্যন্ত এক স্কুলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি লড়াই করে চলেছেন। গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, তবে তাঁর একান্ত প্রচেষ্টায় স্কুলটি ঠিকই দাঁড়িয়ে গেছে। মদন যাদব নামের সেই স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্কুলের গল্প বলেছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মদন যাদবের স্কুল

বিহারের ছোট্ট গ্রাম বদনকালা। এক হাজার ৫০০ ফুট উঁচু এক পাহাড়ের মাথায় এই গ্রাম। পানি আনতে পাড়ি দিতে হয় অনেকটা পথ, বিদ্যুৎ নেই এমনকি নিকটস্থ সড়কের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ পর্যন্ত নেই। মাস কয়েক আগেও কোনো মোটর যেত না এই গ্রামের রাস্তায়। একেবারে অজপাড়াগাঁ বলতে যা বোঝায়, এ যেন তাই। স্বাধীনতার পরে গ্রামটিতে কোনো উন্নতির ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে।

মদন যাদব এই গ্রামেই জন্মেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি গ্রাম থেকে অনেক দূরে গিয়ে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি শিক্ষক হন। ২০০৩ সালে যাদবকে আবার দেখা গেল নিজের গাঁয়ে ফিরে আসতে। দেখলেন, গ্রাম সেই আগের মতোই আছে। সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হলো না। ছোট্ট এই গ্রামের উন্নতি নিয়ে কারো মাথাব্যথাই নেই। গ্রামের একটি মাত্র স্কুল, সেই ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তা হলে কী হবে, এ স্কুলে কেউ যেত না। মদনই স্কুল আবার চালু করলেন। সরকার থেকে বিনা মূল্যে বই, খাবার ইত্যাদি দেওয়া শুরু হলে গ্রামের অনেকেই বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো শুরু করেন। মদনের প্রচেষ্টায় একসময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা এতটাই বেড়ে গেল, স্কুলে ক্লাসরুমের সংকট শুরু হয়ে গিয়েছে। একে একে আরো পাঁচজন শিক্ষক স্কুলে যোগ দিলে মদনের ওপর চাপও কমে আসে।

সমস্যা হলো ৫০০ ছাত্রের জন্য পানির ব্যবস্থা করা নিয়ে। মদন দুজন মহিলা নিযুক্ত করেছেন শুধু এ কাজেই। স্কুলে ক্লাসরুম সংকট আছে, মাত্র ছয়টি ক্লাসে এত ছাত্রের স্থান সংকুলান হয় না। তবে তাতে স্কুল থেমে থাকছে না। মদন যাদব চেষ্টা করেন যেন তাঁর স্কুলে আসতে বাচ্চারা আগ্রহী হয়। সরকারি দিবসগুলোতে স্কুলে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। বাচ্চাদের অভিভাবকরাও আসেন। স্কুলের দৈনিক উপস্থিতির গড় প্রায় ৮৫ শতাংশ। মদনের প্রচেষ্টায় ১১ ক্লাস পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে স্কুলটি। বেশ কয়েকজন ছাত্র এখান থেকে বেরিয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন। নৌবাহিনীতেও গিয়েছেন কয়েকজন। স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি এই স্কুলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বেশভূষার ওপরও বেশ জোর দেওয়া হয়।

মদন সম্প্রতি একটি ল্যাপটপ কিনে স্কুলের সবাইকে ইন্টারনেট ব্যবহার শেখাচ্ছেন। সরকার সাহায্য করলে স্কুলটিকে আরো বহু দূর নিয়ে যাওয়া যাবে বলে বিশ্বাস করেন এই স্কুল শিক্ষক।



মন্তব্য