kalerkantho


উর্বী মানে পৃথিবী

বিতর্ক, সংগীত, ছবি আঁকা, পড়াশোনা—এককথায় বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আফরিদা জিননুরাইন উর্বী। এই মেধাবীর কথা জানাচ্ছেন মীর হুযাইফা আল মামদূহ

৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



উর্বী মানে পৃথিবী

ছোটবেলা থেকেই গুছিয়ে কথা বলতেন। কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে বলতেন, ‘আমার নাম উর্বী। উর্বী মানে পৃথিবী। আমি তো আমার মা-বাবার ছোট্ট পৃথিবী!’ প্রথম স্টেজ পারফর্ম করেন আড়াই বছর বয়সে। তারপর স্কুলে ভর্তি—বরিশালের ওয়াইডাব্লিউসিএ নার্সারি স্কুল। স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে জাতীয় সংগীত গেয়েছেন টানা সাত বছর। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় বরিশাল বেতারের কচিকাঁচার আসরের শিশু রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পঞ্চম শ্রেণিতে টেলেন্টপুল বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি ছবি আঁকায় বিভাগীয় পর্যায়ে হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিবছরই জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় উপস্থিত রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা ও রবীন্দ্রসংগীত বিভাগে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। ষষ্ঠ শ্রেণিতে গণিত অলিম্পিয়াডে বিভাগীয় পর্যায়ে হয়েছেন রানার-আপ। এত দক্ষতার ভেতর উর্বীর শক্তির মূল জায়গাটি—বিতর্ক। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত ‘আন্তঃস্কুল বিতর্কে’ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। দশম শ্রেণিতে টেলিভিশন বিতর্কে হয়েছেন শ্রেষ্ঠ বক্তা। দ্বাদশ জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কের তিনি বারোয়ারি চ্যাম্পিয়ন। সংস্কৃতিতে মনোযোগী উর্বী বিজ্ঞানেও দারুণ! বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বিভাগীয় পর্যায়ে তৃতীয় হয়েছেন এ সময়ে।

২০১৩ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় শিশু-কিশোর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় দুই বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়ে সবচেয়ে বেশি রৌপ্যপদক পেয়ে জিতেছিলেন চ্যাম্পিয়ন স্বর্ণপদক। স্কলারশিপসহ এইচএসসি পাস করে সে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পরের বার আবার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে বিষয় হিসেবে বেছে নেন অর্থনীতি। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আবৃত্তিতে প্রথম আর দেশাত্মবোধক গানে তৃতীয় হন তিনি। সুফিয়া কামাল হলের বিতর্ক ক্লাবের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে এখন তিনি সভাপতির আসনে অধিষ্ঠিত। দ্বিতীয় বর্ষে সংস্কৃত বিভাগ আয়োজিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বারোয়ারি বিতর্কে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। একই বছর দর্শন বিভাগের দর্শন দিবস আন্ত বিভাগ বিতর্কেও চ্যাম্পিয়ন তিনি। তৃতীয় বর্ষ থেকে শুরু হয় তাঁর বারোয়ারি বিতর্কের জয়যাত্রা। দশটির অধিক চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, পাঁচটি রানার-আপ ট্রফি ওঠে তাঁর শোকেসে।

সিজিপির ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রতিবছর দেওয়া ‘গভর্নরস স্কলারশিপ’ এই মেধাবী শিক্ষার্থী অর্জন করেছেন পরপর দুইবার। পেয়েছেন সুফিয়া কামাল ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি। পাশাপাশি কিশোর বয়স থেকেই বাংলাদেশ বেতারের ‘সবুজমেলা’সহ বিভিন্ন ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি। বেতারে প্রচারিত সচেতনতামূলক নাটকে কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন অনেক বছর। জাতিসংঘের আদলে অনুষ্ঠিত ‘ডানমুন ২০১৬’-এর বেস্ট ডেলিগেট হওয়া উর্বী বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ আয়োজনে দুই বাংলার বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন দক্ষতার সঙ্গে।

পৃথিবীর প্রথম শিশুদের হাতে সৃষ্ট সবুজ নগরায়ণ কর্মপরিকল্পনা দলের দলনেতা ছিলেন। এ কাজটি নিয়ে তৈরি হওয়া ‘থার্ড অক্টোবর আ গ্রিন ডে’ শিরোনামের প্রামাণ্য তথ্যচিত্রটি জাতিসংঘেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় দৈনিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। এই একই উর্বী আবার পুতুলনাচের কোরিওগ্রাফি করে, মানব পুতুল সেজে নেচে মাতিয়ে তোলেন টিএসসি অডিটরিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চও। ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শুরু থেকেই। বর্তমান কমিটির জয়েন্ট সেক্রেটারি তিনি।



মন্তব্য