kalerkantho


টিফিন আওয়ার

নিউ ইয়র্কের ব্লু স্কুল

১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিউ ইয়র্কের ব্লু স্কুল

২০০৬ সালে গৃহনির্মাণ প্রতিষ্ঠান ব্লু ম্যান গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে ব্লু স্কুল। শিশুদের সৃষ্টিশীলতাকে প্রকাশ করার জন্য বিশেষ এই স্কুলটি এরই মধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছে। জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী
 

যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্লু স্কুলে মাত্র দুই বছরের বাচ্চাদেরও ভর্তি করা হয়। কিন্ডারগার্টেনসহ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার সুযোগ আছে এখানে। স্কুলটিকে অনন্য করে তুলেছে এর পাঠ্যক্রমের মধ্যে থাকা নানা ধরনের বিচিত্র বিষয়। যেমন—নিউ ইয়র্ক শহরের থ্রিডি ডিজাইন বানানো, দৈনন্দিন ঘরের সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারা কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। তবে দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এগুলো শেখানো হয়। স্কুলটির কর্তৃপক্ষ  মনে করে সাধারণ পড়ালেখার পাশাপাশি বাস্তবজীবনের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে পারা উচিত শিশুদের। তাই তারা এ বিষয়ে শিক্ষা দিচ্ছে তাদের। অথচ শুরুতে ব্লু স্কুল ছিল ব্লু ম্যান গ্রুপের কর্মকর্তাদের বাচ্চাদের রাখার জন্য একটি ডে-কেয়ার সেন্টারের মতো। মা-বাবারাই এটা চালাতেন। যাই হোক, বর্তমানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে এটি পুরোদস্তুর স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

প্রথম দিকে ঘনঘন ক্যাম্পাস পরিবর্তন করলেও এখন সেই সমস্যাও কেটে গেছে। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে, ব্রুকলিন ব্রিজের কাছেই ২৪১ ওয়াটার স্ট্রিটে এখন ব্লু স্কুল থিতু হয়েছে। ২০১২ সালে ঝড়ে স্কুলের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভবনটি ঠিক করার পাশাপাশি বর্তমানে পাশের আরেকটি ভবনকেও স্কুলের আওতায় আনা হয়েছে।

তবে ব্লু স্কুলের সব কিছুই যে নির্ভেজাল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, এমনটা বলা যাবে না। অনেকেই স্কুলটির উচ্চ বেতনের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভর্তি হতে হলে বাচ্চাদের ৫১০ ডলার খরচ করে বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা দিতে হয়। কিন্ডারগার্টেন থেকেই পড়ালেখার খরচ অত্যধিক। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো নামি পত্রিকার প্রশংসা কুড়ানোর পরও স্কুলের পড়াশোনার মান ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। 

স্কুলের পড়াশোনার কয়েকটি নমুনা দিয়ে আলাপ শেষ করা যাক। ধরা যাক, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জঙ্গল নিয়ে লেখা কোনো গল্প পড়ানো হলো বাচ্চাদের। এর পর তারা নিজেরাই বিভিন্ন উপাদান দিয়ে শ্রেণিকক্ষে কৃত্রিম জঙ্গল তৈরির চেষ্টা করে, আবার জঙ্গলে কী কী প্রাণী বাস করে, সেগুলো নিয়েও তখন পড়াশোনা করে তারা। কৃত্রিম বৃষ্টির শব্দ তৈরি করা হয় ঢোল দিয়ে। একইভাবে আলোর গতিবিধি বুঝতে ক্লাসরুম অন্ধকার করে, মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে বেশ কিছু সময় আলাদা করা থাকে প্রথাগত পড়াশোনার বাইরের এসব বিষয়ের জন্য। আর এসবই অনেক অভিভাবকের পছন্দ নয়। অবশ্য স্কুলটিকে এর ব্যতিক্রমী পাঠ্যসূচি থেকে সরাতে পারেনি। এর কারণও আছে, আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ব্লু স্কুলের জনপ্রিয়তা যে দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর প্রমাণ স্কুলের প্রতিটি সিটের বিপরীতে গড়ে ছয়টি করে আবেদন জমা পড়া।



মন্তব্য