kalerkantho


সাইকেল রেস ও ফটোগ্রাফির নওশিন

২৫ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সাইকেল রেস ও ফটোগ্রাফির নওশিন

শখের বশে সাইকেল চালানো শেখে নওশিন। ফটোগ্রাফিও করে শখের বশে। হ্যান্ডবল, ফুটবল, ভলিবল আর ক্রিকেটেও দক্ষ সে। ভালো গান করে। ঝুলিতে জমা হয়েছে অনেক পুরস্কারও। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী নওশিন ইবনাতের গল্পটা

জানাচ্ছেন শিশির মনির

 

নওশিনের বয়স তখন পাঁচ বছর। এক সন্ধ্যায় মা তাকে একটি সাইকেল কিনে দেন। চার চাকার সে সাইকেলে চড়ে নওশিনের গল্পটা শুরু হয়। নওশিন বড় হতে থাকে ধীরে ধীরে, সেই সঙ্গে তার সাইকেলের আকারও বড় হতে থাকে। চার চাকার সাইকেল একসময় দুই চাকার সাইকেলে রূপ নেয়। একপর্যায়ে সাইক্লিংয়ে দারুণ দক্ষ হয়ে ওঠে। সাইকেল চালিয়ে পুরো ঢাকা শহরে ঘুরেছে নওশিন। অনেক সাইক্লিং ক্লাবের সঙ্গেও জড়িত। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সাইক্লিং শোভাযাত্রায় নওশিন নিয়মিত অংশ নেয়। সাইকেল চালিয়ে অনেক পুরস্কারও জিতেছে। ২০১৭ সালে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ট্যালেন্ট হান্ট প্রগ্রামে সাইকেল রেসে দ্বিতীয় হয় ও চলতি বছর ওবাক ন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভালে অবস্ট্যাকল সাইকেল রেসে হয় তৃতীয়।

ফটোগ্রাফির সঙ্গেও সখ্য গড়েছে নওশিন। মোবাইল দিয়েই তুলেছে অনেক দৃষ্টিনন্দন ছবি। ২০১৫ সালে স্কুলে পড়ার সময় আন্তস্কুল ফটোগ্রাফিতে প্রথম হয়। এ ছাড়া চলতি বছর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ট্যালেন্ট হান্ট প্রগ্রামে তার তোলা ছবি ‘বার্নিং হার্ট’ মোবাইল ফটোগ্রাফিতে প্রথম পুরস্কার জেতে। পিচঢালা রাস্তায় তেলজাতীয় পদার্থ পড়ে থাকার পর বৃষ্টিতে-পানিতে মিশে তেলের কণাগুলো এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যেন একটি হার্ট আঁকা হয়েছে। পথ চলতে চলতে দৃশ্যটি চোখে পড়ে নওশিনের। সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে আর নাম দেয় ‘বার্নিং হার্ট’। প্রতিযোগিতার জন্য জমা পড়া ৫০০ ছবির মধ্যে এটি সেরা নির্বাচিত হয়।

খেলাধুলার সঙ্গেও সখ্য। শহীদ বীর উত্তম লেঃ আনোয়ার গার্লস কলেজের স্কুল শাখায় পড়াকালীন নওয়াব ফয়জুন্নেসা হাউসের ক্রিকেট দল এবং হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক ছিল নওশিন। ২০১৬ সালে স্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নওশিনের দল চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে একমাত্র গোলটি করে নওশিন নিজে। তাতেই সে লাভ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার। ২০১৮ সালে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত আন্ত কলেজ ভলিবল টুনার্মেন্টে নওশিনের দল রানার্স-আপ হয়।

নওশিন নানা ক্লাব অ্যাক্টিভিটি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে। রবীন্দ্রসংগীতে বেশ কয়েকটি পুরস্কার আছে তার। বর্তমানে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ এক্সপ্লোরারস ক্লাবের প্রিফেক্ট সে। এ ছাড়া শহীদ বীর উত্তম লেঃ আনোয়ার গার্লস কলেজ সায়েন্স ক্লাব ও ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের সিনিয়র অ্যাডভাইজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

ওয়াল ম্যাগাজিন কম্পিটিশনেও নওশিনের অনেক পুরস্কার। সব শেষে অর্জনের খাতায় আছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ আয়োজিত শিল্প ও সংগীত উত্সবে ওয়াল ম্যাগাজিনে প্রথম ও নটর ডেম কলেজ আয়োজিত আর্ট ফেস্টিভালে ওয়াল ম্যাগাজিনে দ্বিতীয় স্থানের পুরস্কার। দুটো জায়গাতেই একই দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শন করে সে। ওয়াল ম্যাগাজিনের শিরোনাম ছিল ‘ইগো ভার্সেস ইকো’। নওশিন সেখানে সুন্দরভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল, মানুষের জেদ বা ইগো কিভাবে সমাজের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করে দেয়। নওশিন বলে, ‘আইডিয়াটা চমত্কার ছিল। কেননা যেখানেই এই ওয়াল ম্যাগাজিন সাবমিট করেছি সেখানেই পুরস্কার জিতেছি।

এ ছাড়া আদমজী ন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ ফেস্টে গল্প লেখায় তৃতীয় হয়। এ প্রতিযোগিতায় তিনটি চরিত্র উল্লেখ করে এই চরিত্রগুলো ব্যবহার করে মাদকবিরোধী গল্প লিখতে বলা হয়েছিল। নওশিন বলে, ‘আমি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্পটি সাজিয়েছি। আমার পরিচিত তিনজন বন্ধু ছিল। তাদের মধ্যে একজন মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাকি দুজন তাকে মাদক থেকে ফেরাতে অনেক চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তারা সে বন্ধুর সঙ্গে চলাফেরা বন্ধ করে দেয়। মাদকসেবী বন্ধুটি একসময় তার ভুল বুঝতে পেরে বন্ধুদের কাছে ফিরতে চায়। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তার দেহে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে।’

আদমজী বিজনেস ফেস্টে বিজনেস আইডিয়া কম্পিটিশনে নওশিনকে বলা হয়, একটি নুডলস কম্পানির জন্য আইডিয়া তৈরি করতে, কম্পানিটির নুডলসে ক্রেতা আকৃষ্ট হচ্ছে না। নওশিন তখন যে আইডিয়া তৈরি করে তার জন্য বিজনেস আইডিয়ায় দ্বিতীয় পুরস্কার জেতে। এ ছাড়া মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ বিজ্ঞান উত্সবে আইকিউ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থানসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় আরো অনেক পদক আছে তার।

আগামী বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে নওশিন। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তার প্রথম পছন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। নওশিন জানায়, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন আছে আমার। এ জন্য আমি এ বিষয়ে পড়ার জন্য আগ্রহী।’ পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা হওয়ারও স্বপ্ন দেখে।

বার্নিং হার্ট



মন্তব্য