kalerkantho


ইভেন্ট

এমসিপিএসসিতে সায়েন্স ও বিজনেস কার্নিভাল

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



শনিবার সকাল ১১টা। মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের (এমসিপিএসসি) ফেস্ট দেখতে গেলাম। মেইন গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ল ক্যাম্পাসজুড়ে বেশ সাজসজ্জা। ঢুকেই হাতের বাঁয়ে বড় একটি অংশজুড়ে করা হয়েছে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মঞ্চ। তারপর বিজনেস ক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম সমুদ্রকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরলাম পুরো কার্নিভাল। স্কুল বিল্ডিংয়ে ঢুকতেই দেখতে পেলাম আলোচিত্র প্রদর্শনী চলছে। দর্শনার্থীরা ছবিগুলো দেখছে আর চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। একজন বলে উঠল, ‘দোস্ত! দেখ, ছবিটা জোস না!’ আরেকজন বলছে, ‘নদীর ঘাটে নৌকা বাঁধার ছবি দেখে আমার গ্রামের কথা মনে পড়ে গেছে।’ তারপর একটু সামনেই বিজনেস ফেস্টের প্রজেক্ট দেখতে পেলাম। নতুন নতুন বিজনেস আইডিয়া দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রজেক্টগুলো। সায়েন্স ফেস্টের স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম প্রজেক্টটি দিয়ে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল, হাবিব ও নূর জুনিয়র ক্যাটাগরিতে প্রজেক্ট ডিসপ্লে ইভেন্টে প্রথম স্থান লাভ করে। এবার  গেলাম অ্যাডভার্টাইজমেন্ট মেকিং কম্পিটিশন দেখতে। সবাই নতুন নতুন কনসেপ্ট যুক্ত করে সাজিয়ে তুলছে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন। কথা হয় অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করা সাদমানের সঙ্গে। সে জানায়, ‘এবারের ফেস্টটা বেশ ভালো হয়েছে। সাজসজ্জা অনেক সুন্দর ছিল। আমি নিজে দুটি পুরস্কার পেয়েছি। এ জন্য অনেক খুশি।’ ওয়াল ম্যাগাজিন ডিসপ্লে ইভেন্টটি থেকে চোখ ফেরাতে পারিনি। বাহারি সব দেয়ালপত্রিকা সাজানো ছিল বেশ কিছু জায়গাজুড়ে। রবিউল ইসলাম সমুদ্র বলল, ‘অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে আমাদের ফেস্টটি সফল করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ফেস্টের আগে দিন-রাত কাজ করেছি।’

১০ থেকে ১২ মে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সায়েন্স এবং বিজনেস ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজন হয়ে গেল ‘ক্রিয়েটিনোভা’—দ্য ফার্স্ট এমসিপিএসসি সায়েন্স অ্যান্ড বিজনেস কার্নিভাল ২০১৮। কার্নিভালে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের স্বনামধন্য শতাধিক বিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। সায়েন্সের ইভেন্টগুলোতে জুনিয়র বিভাগে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি, সেকেন্ডারি বিভাগে নবম-দশম শ্রেণি এবং হায়ার সেকেন্ডারি বিভাগে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিজনেসে জুনিয়র গ্রুপে নবম-দশম শ্রেণি ও সিনিয়র গ্রুপে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বিজনেস অ্যাডভার্টাইজমেন্ট মেকিং কম্পিটিশন, বিজনেস কেস সলভিং কম্পিটিশন, বিজনেস অলিম্পিয়াডস ও কুইজ, সায়েন্টিফিক ভেঞ্চার, প্রজেক্ট ডিসপ্লে, দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনী, বিজ্ঞানভিত্তিক বিতর্ক, আর/সি কার রেসিংসহ কার্নিভালে মোট ২৮টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, প্রফেশনাল ভিডিও ট্রাইপড, পেনড্রাইভ, পিপিটিএক্স কন্ট্রোলার, বইসহ ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।           

জুবায়ের আহম্মেদ



মন্তব্য