kalerkantho

টিফিন আওয়ার

রাহুলের স্কুল

শহুরে ছেলে হয়েও অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন এক তরুণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



রাহুলের স্কুল

১৯ বছর বয়সে মানুষ পড়াশোনা করে, ভবিষ্যত্জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। আর রাহুল দুবে কী করলেন? দিল্লি থেকে বহুদূরে উদয়পুর নামের এক জেলার অজপাড়াগাঁয়ে গিয়ে শিশুদের পড়ানোর ভার নিলেন। তা-ও বিনা বেতনে! বছর পাঁচেক পরে দেখা গেল এই রাহুল দুবে ওই গ্রামে একখানা স্কুল তুলেছেন, সেখানে বাচ্চাকাচ্চারা পড়ছে। রাহুল তাদের পড়াশোনার গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন। বাল্যবিয়ে বিষয়ক সচেতনতাও তৈরি করছেন।

২০১২ সালে রাহুল রাজস্থানের উদয়পুর জেলার খেরওয়ারা নামের এক গ্রামে আসেন। প্রভা নামের এক এনজিওর কাছ থেকে পাওয়া এক ইন্টার্নশিপের বদৌলতেই এই আগমন। রাহুল আর দিল্লি ফিরে যাননি। এ গ্রামেই থেকেছেন। পড়াশোনায় কিন্তু তিনি দারুণ ভালো ছিলেন। অথচ গণিতে সম্মান শেষ করার পর রাহুল কিনা চলে এলেন উদয়পুরের এই গ্রামে। উচ্চতর পড়াশোনার থেকে গ্রামীণ জীবনই নাকি তাঁকে বেশি টানছিল।

রাহুলের সেরা কাজটি নিঃসন্দেহে ভিলেজ স্পিরিট একাডেমি নামের স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা। ২০১৬ সালে এই স্কুল খোলা হয়। সাধারণ পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে শেখানো হয় প্রকৃতি সুরক্ষাবিষয়ক জ্ঞান আর চাষাবাদ।  ছাত্রসংখ্য ১০০ জনের বেশি। স্কুলের আশপাশে গড়ে তোলা হয়েছে সবজিবাগান, গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতেও স্কুলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রাহুল স্কুলখানা বানিয়েছেন মাটি দিয়ে। তাঁর ভাষ্য মতে, এটাই পরিবেশের জন্য ভালো। তা ছাড়া রাজস্থানের শুকনো আবহাওয়ায় মাটির ঘর টিকবেও অনেক দিন। গ্রামে তিনটি ইয়ুথ সেন্টারও খোলা হয়েছে রাহুলের তত্ত্বাবধানে।

রাহুল আবার নিজের পড়াশোনায়ও মনোযোগ দিয়েছেন। গাঁয়ে থেকেই উদয়পুর স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কে ভর্তি হন রাহুল দুবে। বিভাগের সেরা ছাত্র হিসেবে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

গাঁয়ের ছেলেপুলেদের পড়ানোর ভার নিয়ে ভালোই আছেন রাহুল। তাঁর লক্ষ্য, ভারতের আরো অনেক বিদ্যালয়কে মানসম্মত করে গড়ে তোলা। এর জন্য শুধু মনের জোর আর সৎ ইচ্ছাই যথেষ্ট বলে মনে করেন রাহুল দুবে।



মন্তব্য