kalerkantho


টিফিন আওয়ার

স্কুলের ছাদে খেলার মাঠ

চীনের এক স্কুলের ছাদেই আছে খেলার মাঠ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



স্কুলের ছাদে খেলার মাঠ

এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে জনসংখ্যার চাপ খুব বেশি। চীনের অবস্থা তো আরো ভয়াবহ। দেশ বিশাল হলে কী হবে, জনসংখ্যাও যে অনেক, প্রায় ১৪০ কোটি। কাজেই জায়গা বাঁচানোর ব্যাপারটা চীনে গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হয়। আর এই বিবেচনা থেকেই বোধ করি, ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝোউ অঞ্চলের স্কুলটা এমন বিচিত্র পথ বেছে নিয়েছে যে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয়।

স্কুলের ছাদের ওপর তারা বানিয়েছে ১০০ আর ২০০ মিটারের অ্যাথলেটিক ট্র্যাক ও একটি বাস্কেটবল কোর্ট।

স্কুলটা বানিয়েছে এলওয়াইসিএস নামের একটি স্থাপত্যপ্রতিষ্ঠান। অ্যাথলেটিক ট্র্যাকসহ ছাদের জায়গাটা সর্বোচ্চ ব্যবহার করার উদ্দেশ্য থেকে স্কুলটি বানানো হয়েছে কিছুটা গোলাকার শেপে। আর নিরাপত্তার ব্যাপারেও স্কুল কর্তৃপক্ষ ভীষণ কড়া। ছাদখানার কথাই ধরা যাক। অ্যাথলেটিক ট্র্যাকটির সুরক্ষার জন্য এর চারপাশে আছে প্রায় ছয় ফুট লম্বা কাচের দেয়াল। এ ছাড়া ছাদে চার ফুট লম্বা ইস্পাতের আরেকটি বেষ্টনীও আছে। এ ছাড়া ছাদের উপর দৌড়ালে নিচে ক্লাস করতে ঝামেলা হবে—এই ধারণা থেকে অ্যাথলেটিক ট্র্যাকটির নিচে পাতা হয়েছে নরম গদি।

কিছু কিছু ব্যাপারে কড়া নিষেধ আছে। ছাদে পোল ভল্টিং, লং জাম্প, হার্ডল ইত্যাদি একেবারে নিষিদ্ধ। অবশ্য স্কুলের নিচেও খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে। সেখানে কোনো খেলায়ই বাধা নেই। এক হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের নাম কুই তিয়ানগুয়ো। তিনি ছাদে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে পারায় খুব খুশি। এদিকে স্কুলটির ডিজাইন করেছেন যিনি, সেই রুয়ান হাওয়ের ভাষ্য মতে, ‘ছোট্ট জায়গায় সাধারণত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্কুল বানানো সম্ভব নয়। কাজেই আমরা ছাদে নানা রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা রেখেছি। আমার মনে হয়, এটা রীতিমতো বৈপ্লবিক একটা চিন্তা।’

তা খুব একটা ভুল তিনি বলেননি। এরই মধ্যে ১৪তম ভেনিস স্থাপত্যবিদ্যাসংক্রান্ত উৎসবে গুণীজনের অঢেল প্রশংসা কুড়িয়েছে ব্যতিক্রমী এই স্কুলের নকশা।



মন্তব্য