kalerkantho


ক্ষোভ জমেছে খ্যাতিমানদের মনে

মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ক্ষুদ্ধ খ্যাতিমান শিক্ষাবিদরা। তাঁদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পাঁচজনের মন্তব্য ছাপা হলো

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

♦ একজন শিক্ষক নিজ ক্যাম্পাসে থাকছেন, ক্লাস নিচ্ছেন, চলাফেরা করছেন। সেখানে তিনি নিরাপদ থাকতে পারবেন না? এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। অন্যায়কারীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। তাদের কোনো ক্ষমা নেই।

 

জামিলুর রেজা চৌধুরী, উপাচার্য, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি

♦ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। বিশেষত বিজ্ঞান ও গণিতকে তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করতে অনেক বছর ধরে কাজ করছেন। লেখক হিসেবেও তিনিই তাদের সবচেয়ে প্রিয়। তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

হাসান আজিজুল হক, সাহিত্যিক ও সাবেক অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

♦ তিনি অত্যন্ত সুশিক্ষিত ও দেশপ্রেমিক মানুষ। কিশোর-কিশোরীদের খুব প্রিয়। সারা দেশে অল্প বয়সী যত ছেলে-মেয়ে আছে, তারা তাঁর কথা শোনে, তিনি নানা জায়গায় গিয়ে তাদের সঙ্গে শিক্ষামূলক আলোচনা করেন। শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিয়মিতভাবে লেখেন। এ বিষয়ে কারো তোয়াক্কা না করে চমৎকার বলেনও। সরকারও তাঁর বক্তব্য স্বীকার করেছে, শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। সমসাময়িক নানা বিষয়েও বলছেন। তবে তাঁর মূল আগ্রহ দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করা। সারা জীবন তা-ই করছেন তিনি।

 

আইনুন নিশাত, সাবেক উপাচার্য, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

♦ এ ধরনের ঘটনা কেন বাংলাদেশে ঘটবে? এ ঘটনা প্রমাণ করে আমাদের দেশ পরিচালনার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে। তাঁর ওপর হামলা পুরো দেশ ও মানুষের জন্য অত্যন্ত লজ্জাকর। ফলে এখন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার ও সচেতনদের ভাবতে হবে। তিনি খুবই শক্তিশালী মানসিকতার বলে তাঁর ছাত্রদের বলেছেন, আমি ভালো আছি। তা না হলে যেকোনো ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত। এই নিরীহ, সজ্জন মানুষটি তাঁর লেখাগুলো বিবেকের তাড়নায় লেখেন। যে বিষয়ে তাঁকে লিখতে হয় সে বিষয়ে তিনি কলম ধরেন। যে মানুষটি  চাইলে যেকোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোথাও যোগদান করতে পারতেন। তিনি যখন সিলেটের মতো জায়গায় গিয়ে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করে তাঁর বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ছড়িয়ে দেন, তাঁর এই কর্ম-উদ্যোগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা সমাজের মান্যগণ্য লোকদের গানম্যান দিয়ে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে তাঁদের রক্ষা করা যাবে না। কারণ তাঁরা তো বিবেকের তাড়নায় সমাজের ক্ষতগুলো ধরিয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের ও এই দেশকে রক্ষা করতে হলে সমাজের সমস্যাগুলোরই সমাধান করতে হবে।    

 

আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

♦ তাঁর ওপর আক্রমণের ফলে এটি পরিষ্কার যে এ দেশের কোনো নাগরিকই নিরাপদ নয়। দেশে চরমপন্থা যে হারে বাড়ছে, তার মোকাবেলা না করে কোনোমতেই আমরা সমস্যাটি থেকে মুক্ত হতে পারব না। সেই মুক্তির একমাত্র পথ—যারা সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিতে চায়; লেখক, শিক্ষকদের ভয় দেখাতে চায়; তাদের বিরুদ্ধে নীরব নয়, সরব হতে হবে, বেশি করে বলতে হবে, প্রশ্ন তুলতে হবে। তবেই সমাধান আসবে।

 

মন্তব্য সংগ্রহ : ইয়াকুব ভূঁইয়া


মন্তব্য