kalerkantho


তোমাদের বই তোমাদেরই লেখা

ছোট বয়সেই নিজের লেখা বই প্রকাশ হওয়ার আনন্দটাই আলাদা। আর আমাদের আজকের আয়োজনে থাকছে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া কয়েকজন খুদে লেখকের গল্প। এবারের মেলায় এদের কয়েকজনের বই বেরিয়েছে। কারো বই আবার আছে প্রকাশের অপেক্ষায়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন জুবায়ের আহম্মেদ

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



তোমাদের বই তোমাদেরই লেখা

রাশিকুর রহমান রিফাত

ঢাকা কলেজ, দ্বাদশ শ্রেণি

ছোটবেলা থেকেই গল্পের বইয়ের পোকা রিফাত। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা, প্রোফেসর শঙ্কু এবং জে কে রাওলিংয়ের হ্যারি পটার পড়ার মধ্য দিয়ে বই পড়ার নেশাটা তুঙ্গে ওঠে। একসময় শুরু করে লেখালেখি।

এবারের মেলায় প্রকাশিত হয়েছে রিফাতের দ্বিতীয় বই রিবার্থ। এটি একটি থ্রিলার বই। প্রকাশ করেছে প্রতিচ্ছবি প্রকাশনী। পাওয়া যাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সাহিত্য বিকাশের স্টলে (১৫৬, ১৫৭)।

গত বছর রোদেলা প্রকাশনী থেকে বের হয় তার প্রথম বই ‘ভেনজেন্স’। ‘গোয়েন্দা গল্পের প্রতি তীব্র ভালো লাগা থেকেই থ্রিলার লেখার চেষ্টা করছি। ড্যান ব্রাউন, নিক পিরোগ, আগাথা ক্রিস্টির বই বেশ ভালো লাগে। এ ছাড়া নাজিম উদ্দিন ও শরীফুল হাসানের থ্রিলার পড়েই বাংলা মৌলিক থ্রিলার লেখার সাহস পেয়েছি।’ বলল রিফাত। লেখালেখিতে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার মা-বাবা। রিফাতের প্রিয় শখ বই সংগ্রহ করা। ভালোবাসে বই পড়তে, আর বন্ধুদের সঙ্গে গিটার নিয়ে টুংটাং করতে।

 

মুবাশশিরা তাসনিম মৌমিতা

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নবম শ্রেণি

খুব ছোটবেলায় লেখালেখিতে হাতেখড়ি হয় মৌমিতার। এখন পড়ছে নবম শ্রেণিতে। এবারের মেলায় বের হয়েছে মৌমিতার দ্বিতীয় বই ‘বাংলা মায়ের রূপ’। প্রকাশ করেছে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ। ২২টি কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। পাওয়া যাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় দুই নম্বর প্যাভিলিয়নে। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০১৬ সালে একই প্রকাশনী থেকে বের হয় তার প্রথম বই ‘হরেক রকম ছড়া’। মৌমিতার প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবাল। প্রিয় শখ বই পড়া এবং গল্প, কবিতা লেখা। সায়েন্স ফিকশন পড়তেও বেশ ভালো লাগে। ‘বই প্রকাশ হওয়ায় খুব ভালো লাগছে। বন্ধু, সহপাঠীরা বাহবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতেও অনেক লেখালেখি করতে চাই।’ জানাল মৌমিতা। লেখালেখির অনুপ্রেরণার বড় অংশজুড়ে তার মা-বাবা। বাসায় বুকশেলফভর্তি বই। সময় পেলেই হারিয়ে যায় বইয়ের রাজ্যে।

 

আলীন বাসার

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চতুর্থ শ্রেণি

লেখালেখি শুরু খুব ছোট থেকেই। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রকাশিত হয় তার প্রথম বই। তার পর থেকেই প্রতিবছর বই প্রকাশিত হচ্ছে। প্রাথমিকের গণ্ডি না পেরোতেই তার লেখা বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে দুটি বই। ঘাসফড়িং থেকে এসেছে ‘পালোয়ানের হার’। বইটিতে রয়েছে তার লেখা ১৭টি ছোট গল্প। পাওয়া যাবে বইমেলার  ৫৩৬ ও ৫৩৭ নম্বর স্টলে। ‘ভূতের টিউশনি’ বের করেছে জ্ঞানবিতান। একটি ভূতের নানা কাণ্ড-কীর্তির বিবরণ আছে বইটিতে। পাওয়া যাবে ৫৬৮ নম্বর স্টলে। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মেলার প্রথম শিশু প্রহরেই বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

আলীনের আগের বইগুলো হলো—অন্ধকারে ভূতের ছায়া (সাঁকোবাড়ি, ২০১৫), ভূতুড়ে (সাঁকোবাড়ি, ২০১৬), ভুতুম (সাঁকোবাড়ি, ২০১৭)। লেখালেখির আগ্রহ তৈরি হলো কিভাবে? আলীন বলল, ‘আমি প্রচুর বই পড়ি। আমার বইয়ের শেলফে অনেক বই আছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু পড়ি। বই পড়তে পড়তেই লেখার আগ্রহের জন্ম। এ ছাড়া মা-বাবার কাছে প্রচুর গল্প শুনি। পড়ে, শুনে আর চারপাশ দেখে লেখার আগ্রহ তৈরি হয়।’ আলীনের সবচেয়ে প্রিয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বই। আর ভালো লাগে মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলন, আনিসুল হক, হুমায়ূন আহমেদের বই। বিদেশি লেখকদের মধ্যে জ্যাক লন্ডনের লেখা এবং রূপকথা বেশি পছন্দ। গোয়েন্দাকাহিনি আর রহস্যের বইও তার ভারি পছন্দ।

 

সাইদুল তাসফিন

কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, দশম শ্রেণি

এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হবে সাইদুল তাসফিনের শিশুতোষ ছড়াগ্রন্থ—‘ঘুম ভাঙানো পাখি’। বইটি প্রকাশ করছে সারস প্রকাশনী। পাওয়া যাবে অমর একুশে গ্রন্থমেলার স্টল নম্বর ৩৮৯, ৩৯০-এ (ম্যাগনাম ওপাস)। শিশু-কিশোর উপযোগী ১৪টি ছড়া দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটি। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখিতে আগ্রহ সাইদুলের। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় লেখালেখিতে হাতেখড়ি। সাইদুল বলে, ‘আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি, তখন ফেসবুকে দেখলাম এক ভাইয়ার লেখা গল্প একটি জাতীয় পত্রিকায় ছেপেছে। মূলত তখন থেকে পত্রিকায় লেখার ইচ্ছা জাগে।’ সাইদুল জাতীয় দৈনিকগুলোতে গল্প ও ছড়া লিখেছে নিয়মিত। দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত ‘রোহনের চোখে জল’ গল্পের জন্য গত বছর পেয়েছে ‘ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’-এর মনোনয়ন। প্রিয় লেখক আল মাহমুদ। মজার ব্যাপার হলো, বই পড়ার নেশা যখন মাথায় চেপে বসত, তখন স্কুল পালিয়ে লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ত। বড় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চায়। ‘বই পড়তে ভালো লাগে। আর মাঝে মাঝে মনের কথাগুলো লিখে রাখতে ইচ্ছা হয়। তাই টুকটাক লেখালেখি করি।’ বলল সাইদুল।

 

মীম নোশিন নাওয়াল খান

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, একাদশ শ্রেণি

মীম এরই মধ্যে গল্প, কিশোর উপন্যাস, ছড়া লিখে পাঠকদের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে গেছে। সর্বমোট বইয়ের সংখ্যা ১৫টি। এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার দুটি বই। বিদ্যাপ্রকাশ থেকে বের হয়েছে উপন্যাসের বই ‘নির্ভূম’। এটি রোহিঙ্গা এক কিশোর ও তার পরিবারের সংগ্রাম নিয়ে লেখা উপন্যাস। বইটি লেখার আগে অভিজ্ঞতার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও গিয়েছিল সে। বইটি পাওয়া যাবে গ্রন্থমেলার ১৭৬-১৭৯ নম্বর স্টলে। আর ‘পুতুলের ইস্কুল ব্যাগ’ গল্পগ্রন্থটি এসেছে সাহস পাবলিকেশন্স থেকে। পাওয়া যাবে ৩৭৮ নম্বর স্টলে।

লেখালেখির পাশাপাশি মীম ছবি তোলা ও আঁকায়ও পারদর্শী। নিজের দুটি বইয়ের প্রচ্ছদ নিজেই এঁকেছে। করছে শিশু সাংবাদিকতাও। এ পর্যন্ত পাঁচবার ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছে। তার প্রিয় লেখক শরৎচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখাও বেশ পছন্দ। বিদেশি লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে আগ্রহ নিয়ে পড়ে ড্যান ব্রাউনের বই। লেখালেখির শুরু কিভাবে জানতে চাইলে মীম বলে, ‘কথা বলতে শেখার পর থেকেই নাকি ছন্দ মিলিয়ে কথা বলতাম। পরে টুকটাক করে লিখতে লিখতে একসময় ছড়া, গল্প—এসবও লিখতে শুরু করি।’



মন্তব্য