kalerkantho


দেশে সেরা, বিশ্বে ১৪!

‘মিস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি’র বিশ্ব আসরে দেশের সেরা হয়ে গেছেন তাহমিনা অথৈ। সেখানেও ১৪তম হয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফিরেছেন একমাত্র এশীয় হিসেবে ‘দ্য মেচেনাট নিউজ’ অ্যাওয়ার্ড নিয়ে। তাঁর কথা বলছেন মাহবুবর রহমান সুমন

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেশে সেরা, বিশ্বে ১৪!

ছোটবেলায় নাটক ও সিনেমার পোকা ছিলেন। ফলে অভিনেত্রীই হবেন—জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে নিয়েছিলেন। তবে সংস্কৃতিমনা মা শাহনাজ বেগম নাচ, মঞ্চনাটক দেখতে চট্টগ্রামের শিল্পকলা একাডেমি, থিয়েটার ইনস্টিটিউটে যেতেন। ফলে তিনি চেয়েছিলেন, মেয়ে স্টেজে পারফর্ম করুক। ফলে নাচের স্কুলে ভর্তি করে দিলেন মেয়ে অথৈকে। শুধু তা-ই নয়, স্কুল, কলেজ, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই তাহমিনা অথৈ স্টেজে নেচেছেন, মা ঠিকই দর্শকের আসনে থেকে উত্সাহ জুগিয়েছেন। ফলে সেদিকেই মন গেল তাঁর। তারপর আবার কেন যেন পুরনো ইচ্ছাটি জেগে উঠল। ভর্তি হয়ে গেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে। সেখানেই মাস্টার্স করছেন। অভিনয়ে ভালো করতে হলে তো অল্পবিস্তর গানও জানতে হয়। ফলে নিয়মিত শিল্পী না হলেও গলাটি ভালোই তাঁর। নাচ-গান-অভিনয়—পারফরর্মিং আর্টসের এই ত্রয়ী বিদ্যা আর রূপ সবই খুব কাজে লেগেছে অথৈয়ের। সেই গল্পই বলছি।

একদিন ফেসবুকে এক মুহূর্তে তাঁর নজরে পড়ল ‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ নামের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। লিংকে গিয়ে দেখলেন ওয়েবসাইটের ঠিকানা। তাতে আগের তিন বছরের সেরাদের ছবি ও নাম দেওয়া। হঠাত্ সমবয়সী এক আত্মীয়ের চোখে পড়ল। কী রে, কী করছিস? আনমনা অথৈ বলে ফেললেন, ‘দেখিস ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমার নামটি থাকবে।’ এরপর কী কী সাফল্য আছে, কোথায় পড়েছেন, পারিবারিক জীবনসহ পরিচিতি জমা দিলেন। সঙ্গে মিনিট দুয়েকের অডিও। তাতে কোথায় কী করেছেন, সে গল্প আর নাচের অংশবিশেষ।

কয় দিন পরই ডাক পড়ল ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে। তাঁরা অনেকেই অডিশন দিলেন। নাচ, গান, অভিনয়, কথা বলার স্টাইল—সবই খেয়াল করলেন বিচারকরা। সেরা ১০ পেরিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলেন অথৈ। ডায়মন্ডের স্মারক রিং, পাঁচ হাজার টাকার বই এবং চ্যাম্পিয়নের ক্রাউন নিয়ে ফিরলেন। তবে গল্পের শেষ হলো না।

‘ওয়ার্ল্ড মিস ইউনিভার্সিটি’ প্রতিযোগিতায় প্রতিবছর গড়ে ৭০টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এবার এসেছেন ৮৬টি দেশের মেয়েরা।

এবারের প্রতিযোগিতাটি হয়েছে কম্বোডিয়ার বিখ্যাত কো পিক থিয়েটারে। ৫ জানুয়ারি রাজধানী নমপেনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের মেয়ে। এর পর থেকে তাঁদের শান্তি, দেশকে তুলে ধরা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পাঠ শুরু হলো। কম্বোডিয়ার ন্যাশনাল মিউজিয়াম, বিখ্যাত বৌদ্ধ মন্দির ইত্যাদি ঘুরে যেমন ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানলেন, দেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয় রয়াল ইউনিভার্সিটিতে পর্যটনের ক্লাস করে পরিবেশ, অর্থনৈতিক, শান্তির ফোরামগুলো কিভাবে কাজ করে শিখলেন। নানা দেশের ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে কিভাবে অর্থনীতির চাকা ঘোরে জানলেন। অনাথালয়ের শিশুদের কাছে মানবতার পাঠও নিলেন। পুরোটা সময় কিভাবে কথা বলেছেন, মিশেছেন, শিখেছেন—সবই খেয়াল করলেন বিচারকরা। ফলে এবারের প্রতিযোগিতায় ১৪তম হয়েছেন আমাদের মেয়ে। একমাত্র এশীয় হিসেবে লাভ করেছেন সংবাদমাধ্যমের দেওয়া ‘দ্য মেচেনাট নিউজ’ অ্যাওয়ার্ড। প্রতিযোগিতায় মোট ২৬টি অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুধু খেতাব জয়ই নয়, দেশকেও উপস্থাপন করেছেন তিনি। মঞ্চে তাঁর লোকনৃত্য প্রশংসা কুড়িয়েছে, অন্যদের বাংলা ভাষায় কথা বলা অনুশীলন করিয়েছেন। সুন্দরবন, কক্সবাজারের মতো গর্বগুলোর গল্পও তাদের শুনিয়ে বাংলাদেশের মুখ আরো উজ্জ্বল করেছেন তিনি। লেখাপড়ার অবসরে অভিনেত্রী তাহমিনা অথৈয়ের স্বপ্ন—অভিনয়ের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে কাজ করবেন।



মন্তব্য