kalerkantho


মাদারীপুর শহর

প্রবেশমুখের সড়ক যেন ডাস্টবিন

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্রবেশমুখের সড়ক যেন ডাস্টবিন

মাদারীপুর শহরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় তা স্তূপ করা হচ্ছে শহরের প্রবেশপথে। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাদারীপুর শহর ও পৌরসভা এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান (ডাম্পিং পয়েন্ট) নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ এই ময়লা-আবর্জনা ফেলছে শহরের প্রবেশপথে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার সামান্য দূরে মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের খাগদি এলাকায়। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পথচারীসহ এ সড়ক দিয়ে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের (পৌর এলাকা) বিভিন্ন সড়কে ও বাড়ির পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ড্রাম, ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন ও স্থায়ী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা আছে। প্রতিদিন এসব স্থান থেকে গৃহস্থালির উচ্ছিষ্ট (ময়লা-আবর্জনা) ও বর্জ্য ট্রাক, পিকআপ ভ্যান ও ভ্যানগাড়িতে করে রাতে ও খুব ভোরে মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের খাগদির মাদারীপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিসসংলগ্ন এলাকায় ফেলা হয়। এতে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পথচারী ও সড়কে চলাচলরত গাড়ির যাত্রীরা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। নাকে রুমাল চেপেও ওই পথে যেতে দেখা দেখা গেছে পথচারীদের।

মাদারীপুর পৌরসভার এক ভ্যানগাড়ির চালক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য তাঁদের নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। তাই গাড়িতে ময়লা ভরে খাগদিতে সড়কের পাশে ফেলতে হচ্ছে। এটি সহজ ও দ্রুত করা যায়।

মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়কের পাশে মাদারীপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে অনেক মানুষ আসে প্রতিদিন। কিন্তু এর কাছেই শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সমস্যা হয় প্রশিক্ষণার্থীদের। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা হলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। ফারজানা ইমু, মিলন মুন্সি, আফজাল হোসেনসহ প্রশিক্ষণ নিতে আসা একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, যুব উন্নয়নে আসা-যাওয়ার পথে ওই ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে তাঁদের সমস্যা হয়। ক্লাসে থাকা অবস্থায়ও অনেক সময় বাতাসে এই গন্ধে তাঁদের বমি এসে যায়। এই ময়লা দূরে কোথাও ফেলতে পৌর মেয়রের কাছে দাবি জানান তাঁরা।

মাদারীপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, পৌরসভার এই ময়লাগুলো শহর থেকে দূরে কোনো গর্তে ফেলা উচিত।

উন্নয়ন সংস্থা দেশগ্রামের পরিচালক এ বি এম বজলুর রহমান মন্টু খান বলেন, শহরের প্রবেশমুখেই এই ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জেলায় কোনো অতিথি এলে তাঁরা বিরূপ মন্তব্য করেন। অনেকেই ভাবেন, শহরটাই বুঝি ময়লা-আবর্জনায় ভরা। তাই এই ময়লা সড়কের পাশে না ফেলে দূরে কোথাও ফেলা উচিত।

তানমিরা জেবু, সাংবাদিক ফারজানা মুন্নি, শিক্ষক নুরজাহান বেগম, কামরুল হাসানসহ একাধিক পৌরবাসী বলেন, এ এলাকায় যাঁরা ময়লা ফেলার সমাধান দেবেন, তাঁরা তো ভিআইপি। তাঁরা নিজের বা অফিসের গাড়িতে করে জানালার কাচ উঠিয়ে চলাফেলা করেন। তাই তাঁদের নাকে গন্ধ লাগে না। তাঁরা সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝেন না। তাই দীর্ঘদিনেও এর সমাধান হয়নি। তবে শহরবাসী চায় সমস্যার দ্রুত সমাধান।

মাদারীপুরের পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলা শহরবাসী ও পথচারীদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশের ভারভাম্য নষ্ট হচ্ছে। তাই পৌর কর্তৃপক্ষকে বড় গর্ত করে ময়লা ফেলে তা মাটি চাপা দিয়ে রাখতে হবে।

মাদারীপুর পৌরসভার মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ বলেন, ‘পৌর এলাকার ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য অনেক দিন ধরে সরকারিভাবে জায়গা চাওয়া হচ্ছে। সেটির ব্যবস্থা না হওয়ায় কোনো উপায় না পেয়ে ময়লাগুলো ওই স্থানে (খাগদি) ফেলা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।’



মন্তব্য