kalerkantho


গোয়ালন্দ ঘাট-পার্বতীপুর রেলপথ

সাড়ে ছয় বছরেও চালু করা হয়নি ‘শিলিগুড়ি’

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সাড়ে ছয় বছরেও চালু করা হয়নি ‘শিলিগুড়ি’

গোয়ালন্দ ঘাট-পার্বতীপুর রেলপথের ‘শিলিগুড়ি’ নামের ঐতিহ্যবাহী ট্রেনটি সাড়ে ছয় বছর ধরে বন্ধ হয়ে আছে। ট্রেনটি বন্ধ থাকায় এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা সড়ক পথে পণ্যবাহী ট্রাকে করে বিভিন্ন মাল আনা-নেওয়া করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ রেলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় পণ্যের বাজারমূল্যে তার প্রভাব পড়ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইঞ্জিন ও বগি সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ওই ট্রেনটি চালু করা যাচ্ছে না।

জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে পদ্মাপারের গোয়ালন্দ ঘাট থেকে সরাসরি ভারতের শিলিগুড়ি স্টেশন পর্যন্ত একটি ট্রেন যাতায়াত করত। তখন থেকে ট্রেনটির নাম হয় ‘শিলিগুড়ি’। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ট্রেনটি দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত চলাচল করত। একটি বগি ও তিনটি বিসি (মালবাহী বগি) নিয়ে ওই ট্রেনটি গোয়ালন্দ ঘাট স্টেশন থেকে রাজবাড়ী হয়ে পার্বতীপুর পর্যন্ত দিনে একবার চলাচল করত। তখন ওই ট্রেনে করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সাধারণ ব্যবসায়ীরা কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য অতি সহজে আমদানি-রপ্তানি করতে পারত। কিন্তু পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিন ও বগির সংকট দেখিয়ে ২০১১ সালের ১২ জুলাই থেকে হঠাৎ ট্রেনটি বন্ধ করে দেয়। এর ২১ দিন পর এলাকাবাসীর দাবির মুখে শিলিগুড়ি নামের ওই ট্রেনটি রাজবাড়ী থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত এক দিন পর পর চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী রেলওয়ের (পশ্চিম) রাজশাহী অঞ্চলের তৎকালীন চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আ খ ম সাইফুল ইসলাম ৪৮ নম্বর টাইমটেবিল বইতে শিলিগুড়ি নামের ট্রেনটির সময়সূচিও নির্ধারণ করেন। অথচ ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাড়ে ছয় বছর পার হলেও শিলিগুড়ি ট্রেনটি আর চালু করা হয়নি।

রেলওয়ের রাজবাড়ী স্টেশন মাস্টার মো. কামরুজ্জামান জানান, শিলিগুড়ি ট্রেনটি রাজবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধ থাকা ওই ট্রেনটি আবার চালু করা হলে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি উপকৃত হবে। গোয়ালন্দ বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘সড়ক পথের চেয়ে রেলপথে পণ্য পরিবহন খরচ কম হয়। কিন্তু গোয়ালন্দ ঘাট-পার্বতীপুর রেলপথে শিলিগুড়ি ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার সাধারণ ব্যবসায়ীরা সড়ক পথে পণ্যবাহী ট্রাকে করে মালপত্র আনা-নেওয়া করছে। এতে পরিবহন খরচ রেলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজারে পণ্যের বাজারদর অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’ বৃহত্তর জনস্বার্থে শিলিগুড়ি ট্রেনটি দ্রুত চালু করার জোর দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা শওকত জামিল মহুসী বলেন, ‘ইঞ্জিন ও বগি সংকটের কারণে গোয়ালন্দ ঘাট-পার্বতীপুর রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি ট্রেনটি চালু করা যাচ্ছে না।’



মন্তব্য