kalerkantho


রাজবাড়ী

আদালতের নিষেধ ভেঙে মার্কেট

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আদালতের নিষেধ ভেঙে মার্কেট

রাজবাড়ীর আহ্লাদীপুরে দখল করা হয়েছে ৭০ লাখ টাকার জমি। সেখানে রাতের আঁধারে উঠছে মার্কেট। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ী সদর উপজেলার আহ্লাদীপুরে সম্প্রতি রাতের আঁধারে ছয় কক্ষের একটি মার্কেট তৈরি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ওই স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে জনৈক আব্দুস সামাদ সেখের কাছ থেকে ৭১৪ নম্বর দাগের ৩৮ শতাংশ জমি কেনেন ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের সেকেনদার আলী মিয়া। পরে সেকেনদারের ছোট ভাই সেলিম মিয়ার নামে ১৯ শতাংশ জমি ভুলক্রমে রেকর্ড হয়। এ নিয়ে সেকেনদার রেকর্ড সংশোধনের জন্য ২০০৮ সালে রাজবাড়ীর আদালতে একটি স্বত্ব মামলা করেন। এরপর ঘটে বিপত্তি। সেলিম গোপনে জমি নিমতলা গ্রামের মৃত শাহাজান গাজীর ছেলে ট্রাকচালক আব্দুল লতিফ গাজীর কাছে বেচেন।

সেকেনদারের ছেলে সাফি মিয়া সুজা জানান, কিছু অংশে পাকা মার্কেট নির্মাণ করেছেন। অন্য অংশ পড়েছিল। গত ১৩ ডিসেম্বর হঠাৎ করে একদল লোক মাটি ফেলার পাশাপাশি ইটের গাঁথুনি দেয়। টিন দিয়ে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। তারা আব্দুল লতিফ গাজীসহ পাঁচজনকে চিহ্নিত করে রাজবাড়ী আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন। এর ভিত্তিতে আদালত খানখানাপুর পুলিশ ফাঁড়িকে ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেন। খানখানাপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নুরুজ্জামান গত ১৪ ডিসেম্বর গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার পাশাপাশি আদেশ বাস্তবায়ন করেন। দখলদার লতিফ পরে রাতের আঁধারে ঘরের বাকি নির্মাণকাজ শেষ করেন।

তিনি বলেন, ‘দখল করা জমির বাজার দাম ৭০ লাখ টাকা। সেই জমির দখল কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নবনির্মিত মার্কেটের একপাশে লতিফ সুপার মার্কেট এবং অন্যপাশে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।’

দখলদার আব্দুল লতিফ গাজী জানান, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যের কথিত আত্মীয় গৌরীপুর গ্রামের (মৃত আব্দুর রহমান তালুকদারের ছেলে) রাজীব তালুকদার। তিনি রাজীবের সহায়তায় গত ১৩ ডিসেম্বর রাতে একসঙ্গে ৩০ শ্রমিককে নিযুক্ত করে মার্কেটটি তৈরি করেন। এটি তৈরির পর পর রাজীব ও তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে এক হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নগদ টাকায় জমি কিনেছি। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলায় হেরে গেলে জমি ছেড়ে দেব।’ রাজীব তালুকদারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ‘পরে কথা বলব’ জানিয়ে সংযোগ কেটে দেন।

খানখানাপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নুরুজ্জামান জানান, ১৪৪ ধারা জারির পরদিন তিনি পাঁচ দিনের ছুটিতে যান। ফলে এর পরও নির্মাণকাজ হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না।

 



মন্তব্য