kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর

ছড়াচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর। নবপ্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে তাদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৬ বছর আগে কাশিমা গ্রামে গড়ে ওঠে এ জাদুঘর।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নে অবস্থিত এ গ্রাম। জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেছেন এ গ্রামেরই মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস।

ছোটভাকলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন গোলাম মোস্তফা। ২০০১ সালে নিজ বাড়ির পাশে ২ শতাংশ জমির ওপর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। টিনের ছোট্ট জাদুঘরটির ভেতরে চারটি গ্যালারি আছে। এগুলো হলো কাজী হেদায়েত হোসেন গ্যালারি, শহীদ আব্দুল আজিজ খুশি গ্যালারি, শহীদ ফকীর মহিউদ্দিন গ্যালারি ও ভাষাসৈনিক ওয়াজেদ চৌধুরী গ্যালারি। ১৯৭১ সালে রাজবাড়ীর (তৎকালীন গোয়ালন্দ মহকুমা) বিভিন্ন রণাঙ্গনের দুর্লভ আলোকচিত্র, যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, যুদ্ধকালে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের কপি, এলাকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা ও পরিচিতি, যুদ্ধকালীন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন শতাধিক আলোকচিত্র সংরক্ষিত আছে এ জাদুঘরে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি খোলা থাকে। আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসে জাদুঘরটি দেখতে।

জাদুঘরটির উদ্যোক্তা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করে তাদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি পারিবারিকভাবে জাদুঘরটি গড়ে তুলেছি। ’

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুস সামাদ মোল্লা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাদুঘরটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো ছড়াচ্ছে। ’

তবে রাবেয়া ইদ্রিস মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের শেখ বলেন, একসঙ্গে অনেকে জাদুঘরটির ভেতরে যেতে পারে না। পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি সেখানে সংরক্ষিত মুক্তিযুদ্ধের দুর্লভ স্মৃতিচিহ্নগুলোর সুরক্ষায় ভবন নির্মাণ জরুরি।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএন) মো. আবু নাসার উদ্দিন বলেন, ‘জাদুঘরটি আমি পরিদর্শন করেছি। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। জাদুঘরটির আরো উন্নয়ন করার সুযোগ আছে। ’

এ জন্য উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইউএনও জানান।


মন্তব্য