kalerkantho


ময়মনসিংহের নওমহল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের পুরনো বইয়ের ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পুরনো বইগুলো স্তরে স্তরে সাজানো। শ্রমিকরা সেগুলো বস্তাবন্দি করে ভ্যানে তুলছে। এ দৃশ্য অতি সম্প্রতি ময়মনসিংহের নওমহল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। অভিযোগ উঠেছে গত কয়েক বছর ধরেই শিক্ষা বছর ও বার্ষিক পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেকটা জোর করেই এসব বই সংগ্রহ করা হয়। আর সেসব বই বাজারে বিক্রি করেন বিদ্যালয়েরই প্রধান শিক্ষক।

নওমহল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শহরের নওমহল এলাকায় অবস্থিত। প্রায় এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়ে। খোলামেলা পরিবেশে বিদ্যালয়টির পড়াশোনার মানও ভালো। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। তবে অভিযোগ রয়েছে সুনামের সুযোগ নিয়েই বিদ্যালয়টিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা কারণে টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া অভিভাবকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করারও অভিযোগ আছে প্রধান শিক্ষক ফজলে রাব্বী আল ফারুকের বিরুদ্ধে। তিনি শিক্ষা বছর শেষে শিক্ষার্থীদের পুরনো বই ফেরত দিতে বাধ্য করেন। আর সেই বই প্রধান শিক্ষক নিজেই কেজি দরে বাজারে বিক্রি করেন। এ ছাড়া ব্যাজ, টাই বাবদ ২৫০ টাকা করে নেওয়ারও অভিযোগ আছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সমাপনী পরীক্ষার আগে মডেল টেস্টের নামেও টাকা নিয়ে থাকেন তিনি।

পুরনো বই বিক্রির ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো বই বিক্রি করা হয় না। কিছু বই ছেলেমেয়েরা ফেলে রেখে যায়। আর সেসব বই অন্য শিক্ষার্থীরা নিয়ে যায়।’ ভর্তির সময় টাকা নেওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। তবে ব্যাজ, টাই ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ২৫০ টাকা করে নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। মডেল টেস্টের টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা হয় বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘পুরনো বই ফেরত নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকাও নিতে পারেন না।’

 


মন্তব্য