kalerkantho

জামালপুরের সিংহজানী খাদ্যগুদাম

পদে পদে অনিয়ম

জামালপুর প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জামালপুরের সরকারি সিংহজানী খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহার সুলতানা চলতি মৌসুমে চাল সরবরাহকারী চালকল মালিকদের কাছ থেকে চালের বিল ছাড় করতে বস্তাপ্রতি ২০ টাকা করে উেকাচ নিচ্ছেন। খারাপ চাল সরবরাহের অজুহাতে চালকল মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বস্তা করে চাল উেকাচ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাসহ চালকল মালিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি জামালপুর জেলা শাখার নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবিলম্বে তাঁকে সিংহজানী থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিংহজানী খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহার সুলতানা বিভিন্ন অজুহাতে কর্মস্থলে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। কখনো কখনো এ অনুপস্থিতি টানা তিন-চার দিন হয়ে যায়। আবার যেদিন অফিসে উপস্থিত হন, সেদিন দুই-তিন ঘণ্টা কাজ করেই অগ্নিবীণা ট্রেন ধরার জন্য অফিস থেকে বের হয়ে যান। এদিকে তিনি নিয়মিত অফিসে হাজির না থাকায় খাদ্যগুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালকল মালিক, গুদামের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা ভোগান্তির শিকার হয়। এরই মধ্যে তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর দপ্তর থেকে দুজন কর্মচারী স্বউদ্যোগে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

চালকল মালিকরা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁরা ট্রাকভর্তি চাল গুদামে নিয়ে গেলে জিনাত শামছুন্নাহার সুলতানা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি ট্রাক থেকে পাঁচ থেকে ১০ বস্তা করে চাল নামিয়ে রেখে তা বাদ দিয়ে চালের দাম নিতে বাধ্য করেন। ট্রাক থেকে নামিয়ে রাখা চালের বস্তাগুলো জমিয়ে তিনি বাইরে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নেন। চালকল মালিকরা তাঁর কথা না শুনলে চাল খালাস না করে গুদামের ভেতরে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি আউলাদ হোসেন খসরু বলেন, ‘সিংহজানী খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে জেলার চালকল মালিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’

জানতে চাইলে সিংহজানী খাদ্যগুদামের সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা জিনাত শামছুন্নাহার সুলতানা বলেন, ‘সরকারি নিয়ম-নীতি মেনে ন্যায্যমূল্যে চাল ক্রয় করায় অন্যায়ভাবে চালকল মালিকরা আমার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’


মন্তব্য